এক-এগারোর পরে কারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, ‘সবাই জানে’: মির্জা ফখরুল
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৬:৪৫
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এক-এগারোর পর কারা কারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল এটা সবাই জানে।’
বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থাসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে যাত্রাবাড়ীতে পদযাত্রা শুরুর আগে তিনি এ কথা বলেন।
রোববার রাজশাহীর জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এক-এগারোতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরে কারা কারা পালিয়েছিল দেশ ছেড়ে এটা সবাই জানে। কিন্তু পালায়নি একজন, তিনি হলেন— বেগম খালেদা জিয়া। তিনি পরিষ্কার করে বলেছিলেন, বিদেশে আমার কোনো জায়গা নেই। এই দেশ আমার, এই মাটি আমার। আমার জন্ম এখানে, মরলেও আমি এখানে মরবো।’
ফখরুল বলেন, ‘আমাদের এই পদযাত্রা গণতন্ত্রের জয়যাত্রা। আমাদের এই পদযাত্রা, সভ্যতার জয়যাত্রা। আমাদের এই পদযাত্রা, মানুষের অধিকার আদায় করার জয়যাত্রা।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন প্রমোদ গুনছে। তাদের পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে গেছে। তারা প্রতিদিন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আজকে চালের দাম কত হয়েছে, জনগণের সামনে দাঁড়ায় কোন কথা বলে! ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে বলেছিল না? এখন কত খাচ্ছেন আপনারা? ডালের দাম, লবণের দাম, আটার দাম কত, ভাই? বহু গুণ বেড়ে গেছে।’
‘পুরান ঢাকায় গ্যাস নাই। শুধু পুরান ঢাকায় না, গোটা বাংলাদেশেই এখন গ্যাস নাই। ওরা গ্যাসও খেয়ে ফেলেছে। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। প্রত্যেকটি দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। জনগণের পকেট থেকে সেই টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। আর সেই টাকা তারা লুট করে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে’, বলেন ফখরুল।
আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে; আপনারা ১৪-১৫ বছর ধরে এই দেশের মানুষের ওপর যে অত্যাচার করেছেন, এই অত্যাচারে এই দেশের মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আপনারা কোনো রাস্তা খুঁজে পাবেন না।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্মলেন্দু গুণের একটি কবিতার আছে, সেটা বলতে চাই—কোন দিকে পালাবে তুমি। কোনো দিকে পালানোর পথ নাই, উত্তরে…পবর্তমালা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। কোন দিকে পালাবে তুমি। তাই বলছি, এখনো সময় আছে। আমাদের যে ১০ দফা দাবি মানে মানে মেনে নিয়ে পদত্যাগ করুন। সংসদ বাতিল করুন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান আবার চালু করে নতুন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে একটি নির্বাচন দিন, যে নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করতে পারবে, ভোট দিতে পারবে।’
ইউডি/এ

