মারিয়া বাকালোভা, ‘অ্যা বিউটি উইথ ব্রেইন’

মারিয়া বাকালোভা, ‘অ্যা বিউটি উইথ ব্রেইন’

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:৩০

ইউরোপের সিনেমা যারা এক-আধটু খোঁজ রাখেন তাদের জন্য মারিয়া বাকালোভা পরিচিত মুখ। জন্ম ১৯৯৬ সালের ৬ জুন। বয়স যখন মাত্র ছয়, তখন থেকেই যেন প্রস্তুতি শুরু। অনুশীলন শুরু করেন গান ও বাঁশি বাজানোর। কিছু দিন পর ভর্তি হয়ে যান অভিনয়ের ক্লাসে। মঞ্চ, গান গাওয়া, বাঁশি বাজানো—সবই করে গেছেন। আর পড়াশোনা তো ছিলই।

এক সাক্ষাৎকারে এই তারকা বলেছিলেন, ‘আমি ছিলাম সুপার ডিসিপ্লিন্ড ছাত্রী। প্রচুর বই পড়তাম।’

শুধু পড়াই নয়, যেন একেবারে বই গিলতেন তিনি। ঔপন্যাসিক দস্তয়েভস্কির প্রতি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন তিনি। সাহিত্যের প্রতি তুমুলভাবে ঝুঁকে যান। বিশেষ করে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, হোর্হে লুইস বোর্হেস এবং মিখাইল বুলগাকভে বুঁদ হয়ে যান তিনি।

তবে অভিনয়? না, সেটা তো ছাড়েননি, আরও পোক্ত হয়ে আসন গেঁড়েছেন তাতে। তবে ততদিন শুধুই শিখে গেছেন। ‘দ্য হান্ট’ ছবি দেখার পর প্রথমবারের মতো পর্দায় হাজির হওয়ার তাগিদ অনুভব করেন।

চলচ্চিত্রকার ভিনটারাবার্গের এ চলচ্চিত্রটি বুলগেরিয়ায় ভীষণ প্রভাবও ফেলে। সে সময়ই বাকালোভা চলচ্চিত্রের জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। যুক্ত হন বুলগেরিয়ান নির্মাতা ক্রিস্টিনা গ্রোজেভা ও পেটার ভালচানভের টিমে।

২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য ফাদার ছবির জন্য প্রথমবারের মতো অডিশনের ডাক পান বাকালোভা। ফ্ল্যাশব্যাকে তরুণ বয়সের একটি চরিত্রের জন্য ডাক পান। প্রথম ছবিটিই আন্তর্জাতিকভাবে বেশ সমাদৃত হয়। পুরস্কার পায় ক্রিস্টাল গ্লোবসহ বেশ কয়েকটি পদক।

শুধু তার সিনেমার আগ্রহের কারণে বুলগেরিয়া ছেড়ে ডেনমার্কে পাড়ি জমান। এর আগে বাবা-মাকে রাজিও করান তাদের সঙ্গে যেতে। কারণ কিছুদিন পরই ছিল তার গ্র্যাজুয়েশন পরীক্ষা।

যান বিখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জেনট্রোপার হেডকোয়ার্টারে। খ্যাতনামা ডেনিস পরিচালক ভন ট্রিয়ারকে জানান, তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সেটা পিয়নের পোস্ট হলেও। শুধুই তা-ই নয়, পরিচালককে চমকে দিয়ে বলেন, সে ডেনিস ভাষা শিখে ফেলতেও রাজি। এখন শুধু তার ‘হ্যাঁ’ বলাটা বাকি।

বুলগেরিয়ার সিনে ইন্ডাস্ট্রি বেশ সমৃদ্ধ হলেও সেটা আন্তর্জাতিক মহলে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। ১৯১৫ সালে থেকে সেখানে সিনেমা নির্মাণ হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তা কমে যায়।

বেশ কিছু পরিচালক আন্তর্জাতিক মহলে সুনাম কামিয়েছেন। পেয়েছেন দু-একবার অস্কার মনোনয়নও। তবে সেটা যে মারিয়ের জন্য বিশেষ কিছু নয়, সেটা হয়তো তিনি মনে করেন। এ কারণে শুধু ডেনমার্ক নয়, সিনেমার জন্য পাড়ি দেন লস অ্যাঞ্জেলেসেও। সেটা ২০১৯ সালেই।

এরপর অভিনয় করেন ‘লাস্ট কল’ (২০২০), ‘উইমেন ডু ক্রাই’ (২০২১), ‘দ্য বাবল’ (২০২২), ‘বডিস বডিস বডিস’র (২০২২) মতো চলচ্চিত্রে। তবে তার সাফল্যের চূড়ান্ত রূপ আসে ‘বোরাত সাবসিকুয়েন্ট মুভি ফিল্ম’র (২০২০) জন্য। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আস্থার নাম হয়ে উঠেছেন এই বুলগেরিয়ান।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading