দুর্নীতির অভিশাপ আর কতকাল

দুর্নীতির অভিশাপ আর কতকাল

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:২০

সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতগুলোর বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বে এখন এক বিস্ময়। সরকারের নেয়া নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল হয়েছে গত এক দশকে। কিন্তু দুর্নীতির অভিশাপ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক সূচকে গত এক বছরে বাংলাদেশের অবস্থানের এক ধাপ অবনমন ঘটেছে। তাতে এটা স্পষ্ট হলো যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আছে তা যথাযথভাবে কার্যকর করা হয় না। এ নিয়ে আরেফিন বাঁধনের প্রতিবেদন

একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ: বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের ২০২২ সালের দুর্নীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বার্লিনভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বার্ষিক সূচক প্রকাশ করে। টিআই প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকের (সিপিআই) ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী (ভাল থেকে খারাপ) বাংলাদেশের অবস্থান এবার ১৪৭ নম্বরে। ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী গতবারও এ তালিকায় বাংলাদেশ ১৪৭ নম্বরে ছিল। আবার অধঃক্রম অনুযায়ী (খারাপ থেকে ভালো) বিবেচনা করলে বাংলাদেশ অবস্থান এবার ১২তম, যেখানে গতবছর ছিল ১৩তম অবস্থানে। সূচক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের এবারের স্কোর ২০১৪ ও ২০১৫ সালের অনুরূপ এবং অবস্থান ২০১০ ও ২০২০ সালের অনুরূপ: অর্থাৎ দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। সর্বশেষ এগারো বছরে বাংলাদেশের স্কোর ঘুরেফিরে ২৫ থেকে ২৮ এর মধ্যেই রয়েছে। এই সূচকে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এবারও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে বাজে অবস্থা কেবল আফগানিস্তানের। সূচকে বাংলাদেশের নিম্ন স্কোর ও অবস্থান সার্বিক কোনো অগ্রগতি যেমন নির্দেশ করে না, তেমনি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেও অস্বস্তিকর স্থবিরতার প্রমাণ দেয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল

রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তন দরকার: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি রোধে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন লাগবে। সরকারে থেকে বা সরকারি অবস্থানের বাইরে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারি অবস্থানকে ক্ষমতার লাইসেন্স বা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক, ব্যাংক খাত, অর্থনৈতিক সব খাতসহ আমাদের মৌলিক যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বেড়ে চলেছে। দুর্নীতি কমাতে হলে, বৈশ্বিক সূচকে উন্নতি করতে হলে এসব প্রভাব থেকে বের করতে হবে। একইসঙ্গে তাদের দক্ষতা, উৎকর্ষতা, শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সফল হওয়ার প্রত্যাশা করতে পারি।টিআইবি নির্বাহী বলেন, দুদকের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে আমলাতান্ত্রিকতা থেকে বের হতে হবে। দুর্নীতির রাঘব-বোয়ালদের ধরার মতো বড় কোনো উদাহরণ তৈরি করতে পারেনি দুদকসহ অন্যান্য সংস্থা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উপর ক্রমাগতভাবে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বেড়েছে। ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা

‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের তাগিদ : দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার কথা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। দেশে চলমান যে অবস্থা, তাতে দুর্নীতি আরও ঘনীভ‚ত হয়েছে। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে শুধুই ‘রাজনৈতিক বক্তব্যে’ সীমাবদ্ধ রাখা, রাজনীতি ও ব্যবসায়ীক পরিমণ্ডলে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত সরকারি ও আমলাতান্ত্রিক বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে টিআই’র প্রতিবেদনে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতির তালিকায় উন্নতি করতে হলে আমাদের স্বচ্ছতা, নিশ্চিত করতে হবে, জবাবদিহি বাড়াতে হবে, যারা দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে প্রতিবাদ করে তাদেরকে স্বাধীনতা দিতে হবে। যারা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কিংবা দায়ী তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকগণ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটা দেশ থেকে যে অর্থ পাচার হয় তা মোটেও কাম্য নয়। এটা হয় কারণ ন্যায়বিচার হয় না বা বিচারহীনতার কারণে। এই মেয়াদে মানি লন্ডারিংয়ের দুর্নীতির তথ্য ভয়ংকরভাবে উঠে এসেছে। কিন্তু কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যায় না।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading