নিট রিজার্ভের সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ

নিট রিজার্ভের সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১০:০০

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অনুমোদন করা ঋণ পেতে বাংলাদেশকে মোটা দাগে পাঁচ ধরনের সংস্কারকাজ করতে হবে। বাংলাদেশকে সব মিলিয়ে আইএমএফ ৪৭০ কোটি ডলারের অর্থ সাহায্য দেবে আগামী ৪২ মাসে।

বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) এই ঋণের প্রথম কিস্তি ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।

যেসব সংস্কারের ব্যাপারে আইএমএফ ও বাংলাদেশ একমত হয়েছে, সেগুলো হলো রাজস্ব সংস্কার, মুদ্রা ও বিনিময় হারের সংস্কার, আর্থিক খাতের সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সংস্কার এবং সামষ্টিক কাঠামো সংস্কার।

আগামী ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসব সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকলেও কিছু কাজ করতে হবে অনেকটা জরুরি ভিত্তিতে, আগামী এক বছরের মধ্যে।

আইএমএফের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আগামী জুনের মধ্যে রিজার্ভের বা বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের প্রকৃত হিসাবায়ন শুরু করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও রিপোর্টিংয়ের মান বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রকৃত (নিট) রিজার্ভ বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

আইএমএফের কাছে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ব্যবহারযোগ্য প্রকৃত (নিট) রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে, যাতে ২০২৬ সালের মধ্যে নিট রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের আমদানি দায় মেটানো যায়।

এ জন্য চাহিদা কমানোর পাশাপাশি মুদ্রার ভাসমান বিনিময় হার চালু করা হবে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আইএমএফ নিট রিজার্ভের সর্বনিম্ন সীমাও বলে দিয়েছে। আগামী মার্চে এটা হবে ২২.৯৪ বিলিয়ন ডলার, জুনে ২৪.৪৬ বিলিয়ন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৫.৩১ বিলিয়ন ডলার এবং ডিসেম্বরে ২৬.৮১ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২.৬৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন বা ৮০০ কোটি ডলার এমন কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আইএমএফ রিজার্ভের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করতে পরামর্শ দিয়েছে। এর ফলে নিট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৪.৬৯ বিলিয়ন ডলারে।

আমদানি দায় মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন প্রতিনিয়ত রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে। গত জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রিজার্ভ থেকে ৯২০ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

দেশের ইতিহাসে পুরো অর্থবছরেও রিজার্ভ থেকে এত পরিমাণ ডলার বিক্রি করা হয়নি। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরের পুরো সময়ে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছিল।

রমজানের আগে পণ্যের বাড়তি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে আমদানি বাড়াতে হবে, এর ফলে আরও বেশি পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এর ফলে নিট রিজার্ভ আরও কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিজার্ভ থেকে সাত বিলিয়ন ডলার দিয়ে গঠন করা হয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফ। এছাড়া রিজার্ভের অর্থে গঠন করা হয়েছে লং টার্ম ফান্ড (এলটিএফ) ও গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ)।

বাংলাদেশ বিমানকে উড়োজাহাজ কিনতে সোনালী ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। আবার পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের খনন কর্মসূচিতেও রিজার্ভ থেকে অর্থ দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে বিভিন্ন তহবিল ও ফান্ডে ব্যবহার করা হয়েছে রিজার্ভের আট বিলিয়ন ডলার।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading