মাঠের রাজনীতি থেকে বঙ্গভবনে…

মাঠের রাজনীতি থেকে বঙ্গভবনে…

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৬:০০

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। সবকিছু ঠিক থাকলে সাহাবুদ্দিনই হতে যাচ্ছেন বঙ্গভবনের বাসিন্দা।

জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। ফলে সাবেক ছাত্রনেতা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যে ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন তাতে আর কোনো সন্দেহ থাকছে না।

সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যেই ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন কাউকে শপথ নিতে হবে। আইনে দুই মেয়াদের যে সীমা বেঁধে দেওয়া আছে, সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. আবদুল হামিদের দুই মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৩ এপ্রিল। তাই তিনি আর এই পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।

স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ১৮তম ব্যক্তি দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

পাবনার সন্তান মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। পাবনা শহরের জুবিলি ট্যাঙ্কপাড়ায় (শিবরামপুর) জন্ম ১৯৪৯ সালে। ছাত্রজীবন থেকেই শুরু রাজনীতির পথচলা। পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন।

১৯৭৫ সালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু (ডান থেকে দ্বিতীয়)। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্ররাজনীতি বা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবেই যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী হিসেবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ছিলেন পাবনায় অন্যতম।

মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ নাসিমের সহচর হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হন। পরে যুবলীগ, বাকশালে যোগ দেন চুপ্পু।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হলে তার প্রতিবাদ জানান। সে সময় গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কয়েক বছর জেল খাটেন সাহাবুদ্দিন। করা হয় ব্যাপক নির্যাতন।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রাজনীতিতে কিছুটা স্থিমিত হয়ে পড়েন সাহাবুদ্দিন। সে সময় তিনি ছিলেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।

১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। জেলা জজ হিসেবে চাকরি শুরু করে বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২৫ বছর পর ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে প্রধান করে ওই ঘটনার তদন্তে কমিশন গঠন করা হয়। সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের মৃত্যুতে খালি থাকা প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান পদে তাকে মনোনীত করা হয়।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বাবা শরফুদ্দিন আনছারী ও মা খায়রুন্নেসা। তিনি পাবনা শহরের পূর্বতন গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর রাধানগর মজুমদার একাডেমিতে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন।

১৯৬৬ সালে এসএসসি পাস করার পর পাবনার এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে এইচএসসি ও ১৯৭১ সালে (অনুষ্ঠিত ১৯৭২ সালে) বিএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং পাবনা শহীদ অ্যাডভোকেট আমিনুদ্দিন আইন কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হলে তিনি পাবনা জেলা কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সামরিক আইন বলে গ্রেপ্তার করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। কারাভোগের পর মুক্ত হলে তিনি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালের ১৬ নভেম্বর পাবনা শহরের দিলালপুর নিবাসী আলী আকতারের জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. রেবেকা সুলতানার সঙ্গে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। রেবেকা সুলতানা বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে যুগ্ম-সচিব হিসেবে ২০০৯ সালে অবসরে যান।

তিনি বর্তমানে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্চ প্রোগ্রাম বিভাগের অধ্যাপক এবং ফ্রেন্ডস ফর চিলড্রেন অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। চুপ্পু-রেবেকা দম্পতির একমাত্র সন্তান মো. আরশাদ আদনান রনি দেশে ও বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে প্রাইম ব্যাংকের উচ্চপদে কর্মরত।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে পরপর দুইবার বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। পেশাগত জীবনে প্রথম দিকে সাংবাদিকতাও করেছেন। তিনি পাবনা প্রেসক্লাব ও অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির আজীবন-সদস্য।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading