সামনে এশিয়া কাপ-বিশ্বকাপের হাতছানি: হাথুরুসিংহের হাতে কেমন হবে টাইগারদের অভিযান
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:১৫
অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে আবারও টাইগার ডেরায় চান্ডিকা হাথুরুসিংহে। চলতি বছরের অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নয়া পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সাবেক এই হেডকোচকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। যা এবারের বিশ্বকাপে টাইগারদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। তামিম-সাকিব-মুশফিক-রিয়াদকে নিয়ে কেমন হবে টাইগারদের অভিযান? এ নিয়ে আসাদুজ্জামান সুপ্ত’র প্রতিবেদন
হাথুরু’র দ্বিতীয় ইনিংস-প্রত্যাশা অনেক: ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত টাইগার শিবিরে হেড কোচ ছিলেন চান্ডিকা হাথুরুসিংহে। প্রথম দফার হিসেব-নিকেশে কাগজ-কলমে তাকে সফলই বলতে হবে। ২১ টেস্টের মধ্যে জয় ৬টিতে, ৫২ ওয়ানডের মধ্যে জয় ২৫টিতে ও ২৯টি টি-টোয়েন্টি খেলে জয় ছিল ১০টিতে। তার অধীনে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে (২০১৭) খেলা, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে (২০১৫) খেলার সাফল্য পায় টাইগাররা। এছাড়াও হাথুরুর অধীনেই ইন্ডিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়, পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা। এবার তার দ্বিতীয় দফায় স্বপ্নটা আরও উপরে। বিশ্বমঞ্চে টাইগাররা কোনো শিরোপা এখনও কবজা করতে পারে নি। নতুন দায়িত্ব নেয়ার ৮ মাসের মাথায় বিশ্বকাপ আসর। এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ায়। উপমহাদেশ বলে একই কন্ডিশনের হিসেবে এবারের আসরকে টাইগারদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। আর হাথুরুর এই মেয়াদে যা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলছেন তারা। তবে এবার লম্বা পরিকল্পনা নিয়ে আটঘাট বেঁধেই বাংলাদেশে আসছেন হাথুরুসিংহে, সেটা স্পষ্ট। কারণ এরই মধ্যে বিসিবি প্রথমবারের মতো হেড অব প্রোগ্রাম পদে কাউকে নিয়োগ দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড মুর নিয়োগ পেয়েছেন এই পদে, যে পদের কাজ মূলত হাই পারফরম্যান্স ও বাংলাদেশ টাইগার্স, এই দুই দল থেকে যেন জাতীয় দল সরাসরি উপকৃত হতে পারে সেটা দেখভাল করা। ধারণা করা হচ্ছে হাথুরুসিংহের পরামর্শেই বিসিবি নিয়োগ দিয়েছে মুরকে।

দুয়ারে বিশ্বকাপ-পরীক্ষার সুযোগ কম: টাইগার দলের পঞ্চপান্ডবের একজন মাশরাফি বিন মর্তুজা ইতোমধ্যেই অঘোষিত ‘বিদায়’ বলে দিয়েছেন। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লা’র মতো তারকা ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপ বলা যায় নিজেদের ক্যারিয়ারের ‘শেষ’ বিশ্বকাপ। আর শেষটা রাঙ্গাতে মরিয়া থাকবেন তারা এটা বলাই যায়। আর এ জন্যই হাথুরু ফেরায় তারাও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ইন্ডিয়ায় আগামী অক্টোবরে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে আগামী মাসে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। এছাড়াও পাকিস্তানে হতে যাওয়া এশিয়া কাপেও অংশ নেবে তামিম ইকবালরা। আর ওই দুই সিরিজে দল নিয়ে নিজের পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ পাবেন হাথুরু। ক্রিকেট বোদ্ধারাও বিশ্বকাপ ঘিরে টাইগারদের সুযোগকে বড় করে দেখছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ওয়ানডে ফরম্যাটে বেশ দাপটের সঙ্গেই লড়াই করছে তামিম ইকবালের দল। দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের কোচের দায়িত্ব নিয়ে আসা হাথুরুসিংহেও স্বস্তির শ্বাস ফেলতে পারেন এই এক ফরম্যাট নিয়ে। আর বাকি দুটিতে বড় চ্যালেঞ্জ তার সামনে। হাথুরুর জন্য এই অবস্থা থেকে উঠে আসার চ্যালেঞ্জটা নতুন। সিনিয়র কোচ সারোয়ার ইমরান গণমাধ্যমকে বলেন, শুধু সাকিব আছে ও লিটন-মিরাজকে পারফরমার বলা যায়। তাই এই দলটাকে সাফল্যের জন্য তৈরি করা হাথুরুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

অভিজ্ঞদের তাড়না-তরুণদের স্বপ্ন: ২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়া সেমিফাইনালে খেলে। সেখানে ৭-৮ জন ক্রিকেটার ছিল যারা ৮-১০ বছর ক্রিকেট খেলেছে ও পরিচিত মুখ। শ্রীলঙ্কা যখন বিশ্বকাপ জেতে তখনো ওই দলের কিছু ক্রিকেটার একসঙ্গে অনেক বছর খেলেছেন। বাংলাদেশেরও সাকিব-তামিম-মুশফিক-রিয়াদের মিশেলে একই সময় এসেছিল। তাদের সঙ্গে তারুণ্যের মিশেল তথা লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদরা যদি নিজেদের মেলে ধরতে পারেন তবে টাইগারদের জন্যও হতে পারে দুর্দান্ত কিছু। ক্রিকেট বিশ্লেষকগণ মনে করেন, হাতুরুসিংহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সংস্কৃতিটা বোঝেন। ক্রিকেটের সাথে বেশ ভালভাবেই পরিচিত হাথুরু। এমন একজনের কাছ থেকে প্রত্যাশার মাত্রাটা একটু বেশিই থাকে। হাথুরুসিংহে অভিজ্ঞ, উপমহাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে তাঁর ধারণা আছে। বাংলাদেশ সম্পর্কেও পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় এখন নিশ্চয়ই তিনি কোচ হিসেবে আরও পরিণত হবেন। নতুন কিছুই তাঁর কাছ থেকে আশা করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তবে প্রত্যাশাটা অনেক বেশি এখন। সেটির সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেবেন, সেটিই চ্যালেঞ্জ হবে হাথুরুসিংহের জন্য। সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, হাথুরুসিংহে অনেক পরিণত। যদি আমরা ইতিবাচকভাবে নেই, সব কিছু ঠিক থাকে, আমার মনে হয় না যে আমরা খারাপ করব ওর অধীনে। আমাদের ভালো করারই কথা।
ইউডি/এজেএস

