কাঁচা দুধে ছড়াচ্ছে ব্রুসেলোসিস, টেকনাফে ৮ রোগী শনাক্ত
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৫:৪৫
কক্সবাজারের টেকনাফে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত আট রোগী শনাক্ত করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)।
গবেষকেরা বলছেন, গবাদিপশুর কাঁচা দুধ খাওয়ার প্রবণতা থেকে এ রোগ ছড়াচ্ছে। সচেতন না হলে সংক্রামক রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টেকনাফ প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
কোভিড আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন ওই আট জন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গবাদি পশুর ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ ব্রুসেলোসিস। সম্প্রতি নতুন গবেষণায় টেকনাফে রেসপিরেটরি ডিজিজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ব্রুসেলোসিস শনাক্ত করা হয়েছে। ১৫৩ জনের মধ্যে আট জনের ব্রুসেলা ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছে।
আইসিডিডিআরবির রেসপিরেটরি ডিজিজেস হাসপাতালের সিনিয়র প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর ডা. জিয়াউল ইসলাম জানান, প্রায় ছয় মাস গবেষণার পর টেকনাফে আট জনের মধ্যে ব্রুসেলোসিস জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিন বছরের এক শিশুও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ও ক্লিনিক্যাল লিড ডা. তারেক মাহমুদ রাকিব ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুরী।
জিয়াউল ইসলাম জানান, ব্রুসেলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ এটি, যা সাধারণত গৃহপালিত গবাদি পশু যেমন গরু, ছাগল এবং মহিষের দুধে পরজীবী হিসেবে উপস্থিত থাকে।
গরু, ছাগল বা মহিষের দুধ না ফুটিয়ে বা কাঁচা অবস্থায় পান করলে এর জীবাণু মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে। রোগটির প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছ জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা, ক্ষুধাহীনতা ও দুর্বলতা।
তিনি জানান, আইসিডিডিআরবি ও ইউনিসেফের যৌথ ব্যবস্থাপনায় টেকনাফ পৌরসভা এলাকায় ২০২০ সালের আগস্ট থেকে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল।
গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে ১২০ জন রোগী ভর্তি হন হাসপাতালটিতে। প্রথমে কোভিড-১৯ সন্দেহ হলেও তাদের কেউই এ রোগে আক্রান্ত ছিলেন না। পরে অন্যান্য রুটিন পরীক্ষার পাশাপাশি সংক্রমণের কারণ নির্ণয়ে রক্তের ট্রিপল অ্যান্টিজেন্ট পরীক্ষা করা হয়।
এর মধ্যে সাত জনের নমুনায় প্রাথমিকভাবে ব্রুসেলোসিস জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। দুই মাস পরে তাদের আবারও পরীক্ষা করা হলে পাঁচ জনের মধ্যে একজনের দেহে ব্রুসেলার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
আইসিডিডিআরবির ইনফেকসাস ডিজিজস ডিভিশনের সহকারী বিজ্ঞানী ড. আইরিন সুলতানা শান্তার নেতৃত্বে ঢাকা থেকে একটি তদন্তকারী দল টেকনাফে আসে।
অ্যান্টিজেন টেস্টে পজেটিভ পাওয়া সাত জনের মধ্যে পাঁচজনের সাক্ষাৎকার নেন। এই পাঁচজনের সবার কাঁচা গরুর দুধ পানের তথ্য পাওয়া যায়।
এরপর আরও ৩৩ জন নতুন রোগীর রক্তের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হলে সেখান থেকে আরও একজনের দেহে ব্রুসেলার উপস্থিতি দেখা যায়।
আইসিডিডিআরবির সহকারী বিজ্ঞানী আইরিন সুলতানা বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবাই জানিয়েছেন, তারা না ফুটিয়ে কাঁচা দুধ পান করেছেন। এ রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অবশ্যই গবাদিপশুর দুধ ফুটিয়ে পান করতে হবে।
ইউডি/এ

