পাকিস্তানে সরকারি বেতন-ভাতা পরিশোধ বন্ধের খবর গুজব
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:৪৫
‘পাকিস্তানে সরকারি বেতন-ভাতা পরিশোধ বন্ধ রাখতে রাজস্ব মহাপরিচালকের (এজিপিআর) দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।’ গত শুক্রবার দেশটির গণমাধ্যম দ্য নিউজের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়।
এতে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিল পরিশোধ বন্ধ রাখতে বলেছে পাক অর্থ ও রাজস্ব মন্ত্রণালয়। ওই দিন রাতে সরকারি কয়েকটি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।’
দ্য নিউজের বরাত দিয়ে এ নিয়ে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করে জিও টিভি ও দ্য ডন। এতে বলা হয়, পাকিস্তানের অর্থনীতি সংকটে পড়েছে। ফলে ব্যয় সম্পর্কিত অর্থছাড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের কাছে জানতে চান দ্য নিউজের রিপোর্টার। তবে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। পরে অর্থমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
এতে সাড়া দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রসঙ্গে আমার জানা নেই। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জানাবো আমি।’ এরপর শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ফলে অগত্যা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে দ্য নিউজ। এতে উল্লেখ করা হয়, তাদের সূত্র হিসেবে কাজ করেন কিছু ব্যক্তি। বকেয়া বিল নিতে এজিপিআর দপ্তরে যান তারা। সেখানে তাদের বলা হয়, সরকারি বেতনসহ সবধরনের বিল পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
তবে হঠাৎ কেন সরবারি বেতন-ভাতা বন্ধ করা হলো? সেই জবাব পায়নি দ্য নিউজ। কিন্তু কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইতোমধ্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাত সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী মাসের বেতন ও অবসর ভাতা দেয়া হয়েছে।
তবে ইন্ডিয়ান বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, দ্য নিউজ প্রতিবেদন প্রকাশের পরই প্রতিবাদ করেছে অর্থ বিভাগ। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা দাবি করেছে, সরকারি বেতন-ভাতা পরিশোধ বন্ধ রাখা হয়েছে- এমন প্রতিবেদন ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় এই ধরনের কোনো নির্দেশনা দেয়নি।
এতে বলা হয়, বেতন, পেনশন পরিশোধ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সময়মতোই তা দেয়া হবে। অন্যান্য অর্থ নির্ধারিত সময় অনুসারে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অ্যাকাউন্টেট জেনারেল পাকিস্তান রেভিনিউস (এজিপিআর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই ঘটনায় বিরক্ত হয়ে অর্থমন্ত্রী দার বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করতে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।
জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত হওয়ার আগে অনুগ্রহ করে এই খবর বিশ্বাস করবেন না। আপনারা এখনই এ থেকে থেকে বিরত থাকুন।
ইউডি/এ

