ইউরোপীয় ইউনিয়নে বেড়েছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ২২:০০
তৈরি পোশাক আমদানিতে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে ইউরোপ। বিশ্বে মোট পোশাক আমদানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ করে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো। এই বাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে চীন; এরপরেই রয়েছে বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৩.৭৩ বিলিয়ন আমেরিকান ডলারের। এ সময়ে ইউতে রপ্তানি বেড়েছে ১৫.০৪ শতাংশ।
অন্যদিকে ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ইইউর বাইরের দেশগুলো থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ৯ হাজার ৫১৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশ। তার মধ্যে দুই হাজার ৭৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে চীন।
দেশটির এই রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.২৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে একই সময়ে অর্থাৎ ২০২২ সালের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে দুই হাজার ১১৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি চীনের চেয়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ বেড়েছে ৩৮ শতাংশ।
ইউরোপের বৃহত্তম বাজার জার্মানিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পোশাক রপ্তানি বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ০.৮৩ শতাংশ; স্পেন ও ফ্রান্সে বেড়েছে যথাক্রমে ১৮.১৮ শতাংশ এবং ১৮.৭৪ শতাংশ। অন্যান্য প্রধান ইইউ দেশ ইতালি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনে রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ৫৭.৫০ শতাংশ, ৩২.৯৩ শতাংশ, ৩২.৪১ শতাংশ এবং ২৩.২৮ শতাংশ।
উল্লেখিত সময়ের মধ্যে আমেরিকায় পোশাক রপ্তানি ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১.৯৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘২০২২-২৩ সালের জুলাই-জানুয়ারিতে আমেরিকায় বাংলাদেশের রপ্তানি ৪.৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেন এবং কানাডায় দেশের রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ১৪.৪৭ শতাংশ এবং ১৯.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উল্লেখিত সময়ের মধ্যে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি ৩.৬৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪.৮৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।’
মহিউদ্দিন রুবেল জানান, প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপানে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারিতে দেশের রপ্তানি ৯২০.২৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫.৯২ শতাংশ।
উচ্চ প্রবৃদ্ধিসহ অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারগুলো হলো মালয়েশিয়া (৯২.৭৭ শতাংশ), মেক্সিকো (৪২.৭০ শতাংশ), ইন্ডিয়া (৫৮ শতাংশ), ব্রাজিল (৬৪.১৪ শতাংশ) এবং দক্ষিণ কোরিয়া (৩৭.৩৯ শতাংশ)।
ইউডি/এ

