‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা’কে হাতিয়ার বানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ০৪ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১২:৩০
ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, ইরান ‘দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে।
ইরানের মানবাধিকার সংস্থা আবদুর রহমান বোরোমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুই মাসে ইরান সরকার মোট ৯৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। যার মধ্যে ১৪ জন কুর্দি, ১৩ জন বেলুচ ও একজন আহওয়াজি আরব। জনসংখ্যার অনুপাতে মোট মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যায় কুর্দি ও বেলুচের মতো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা অনেক বেশি।
প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা করা হয়েছে এবং অনেককেই অন্যায্য বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আবদুর রহমান বোরোমান্ড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রোয়া বোরোমান্ড বলেন, ‘ইরানি কর্তৃপক্ষ ভয়ংকর মাত্রায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে। শাসকগোষ্ঠীর ক্রিয়াকলাপ জীবনের অধিকারের ওপর আক্রমণ এবং এটি শুধু জাতিগত সংখ্যালঘুদের আরও নিপীড়নের জন্য নির্লজ্জ প্রচেষ্টাই নয় বরং ভয় ছড়িয়ে দেওয়া যে ভিন্নমতকে নৃশংসভাবে দেখা হবে, রাস্তায় অথবা ফাঁসির মঞ্চে।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এ মৃত্যুদণ্ডের অনেকটিই গোপনে দেওয়া হয়, যা স্পষ্টত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। সাম্প্রতিক মৃত্যুদণ্ডগুলো গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর দেশটির নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনার পরে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সঠিক নিয়মে হিজাব না পরায় মাহসা আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
অ্যামনেস্টি বলছে, আহওয়াজি আরব ব্যক্তি হাসান আবয়াতকে ২০ ফেব্রুয়ারি খুজেস্তাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল এবং এর ঠিক দুই দিন পরই কেরমানশাহতে আরশ আহমাদি নামে আরও একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এর আগে দুই ব্যক্তিকেই অপরাধ স্বীকার করতে নির্যাতন করে কর্তৃপক্ষ; যা পরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কোনো ব্যক্তিকেই তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
অ্যামনেস্টি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব সংখ্যালঘুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এফসাদ-ই ফেল আরজ বা পৃথিবীতে অনিয়ম ছড়ানো অথবা মোহারেবেহ বা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা—মূলত দুই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইউডি/এ

