হাথুরু’র প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট: হোঁচট খেলো বাংলাদেশ
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ০৪ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১২:৩০
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ঘরের মাঠে টাইগাররা এক কথায় অপ্রতিরোধ্য। ২০১৬ সালের পর থেকে ৭টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে স্বাগতিকদের হারাতে পারেনি কোনো দল। সবশেষ সিরিজে শক্তিশালী ইন্ডিয়াও টাইগারদের কাছে সিরিজ হারে। দ্বিতীয় মেয়াদে টাইগারদের কোচ হয়ে আসা চান্ডিকা হাথুরুসিংহের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে সেই ধারাবাহিকতা আর রইলো না, হোঁচট খেলো বাংলাদেশ। মিরপুরে টানা দুই ম্যাচে হেরে ইংলিশ পরীক্ষায় ব্যর্থ তামিম ইকবালের দল। হাথুরু’র চ্যালেঞ্জ ও টাইগারদের পারফরম্যান্স নিয়ে আসাদুজ্জামান সুপ্ত’র প্রতিবেদন
‘ইংলিশ’ পরীক্ষায় আবারও ফেল টাইগারদের: ২০১৬ সালের পর আবারও ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ হার। এছাড়া প্রায় সাড়ে ৬ বছর পর দেশের মাটিতে সিরিজ হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচ দিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে যেন অসহায় আত্মসমর্পণ করলো টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটে জয়ের পর শুক্রবার (০৩ মার্চ) ১৩২ রানের বিশাল জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। এদিন ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সব বিভাগেই হতাশ করেছে তামিম ইকবালের দল। মিরপুরে টস জিতে প্রথমে বোলিং নিলেও বোলাররা হতাশ করেছে টাইগার কাপ্তান তামিমকে। ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়ের ঝোড়ো শতক (১৩২) ও অধিনায়ক জস বাটলার (৭৬) এর অর্ধ শতকে বড় রানের ভীত পায় সফরকারীরা। আর শেষ দিকে মঈন আলি (৪২) ও স্যাম কারান (৩৩) তাণ্ডবে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩২৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ইংলিশরা। আর মিরপুরের এমন উইকেটে যে রান তারা করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। দলীয় ৯ রানেই সাজঘরে ফেরেন লিটন, শান্ত ও মুশফিক। ৪র্থ উইকেটে সাকিব-তামিম মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও মঈন আলী ৭৯ রানের জুটি ভাঙ্গেন। পরবর্তীতে বড় জুটি না হওয়ার খেসারতে ১৯৪ রানেই থামে টাইগারদের ইনিংস। দলীয় সর্বোচ্চ রান আসে সাকিবের ব্যাট থেকে (৫৮)।

‘মানসিকতা’ মন্ত্র শুধুই প্র্যাকটিসে সীমাবদ্ধ!: অনেক আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের হেড কোচ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পান চান্ডিকা হাথুরুসিংহে। তার ফিরে আসা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রীড়াবিশ্লেষক ও ম্যানেজমেন্টের সদস্যগণ। ইন্ডিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন বিশ্বকাপ ঘিরে হাথুরু টাইগারদের নিয়ে নয়া পরিকল্পনা সাজাবেন। এরই অংশ হিসেবে তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই সিরিজ। আর তাতেই ফেল করলেন আলোচনার জন্ম দেয়া হাথুরু। এর আগে, দেশের মাটিতে ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। সেবারও টাইগারদের কোচ ছিলেন চান্ডিকা হাথুরুসিংহে। চলতি মেয়াদে টাইগারদের কোচ হওয়ার পর লঙ্কান এই কোচ বারবার বলেছিলেন, লিটন-শান্তদের মাঝে আক্রমণাত্মক মানসিকতা তৈরি করতে চান তিনি, এ নিয়ে কাজও করছেন। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং এই তিন বিভাগে চলতি সিরিজের প্রথম দু’ম্যাচে সেই মানসিকতার কতটুকু প্রকাশ্যে এসেছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। প্রথম ম্যাচে বোলারদের পারফরম্যান্স বাদ দিলে টাইগারদের মাঠের খেলায় তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। দু’ম্যাচেই হতাশ করেছেন ব্যাটসম্যানরা, কেউই ইনিংস বড় করতে পারেন নি। অথচ একই পিচে ইংলিশদের দু’টি শতকের ইনিংস দেখেছে মিরপুর। তাতে এটা স্পষ্ট যে, এখানে মানসিকতার বড় অভাব।

শেষটা ভালো করতে চান তামিম: ম্যাচ হারের জন্য দ্রুত উইকেট হারানোকে দায়ী করছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, আপনি যখন প্রথম ২-৩ ওভারে তিনটি উইকেট হারান, তখন এটি খুব কঠিন হয়ে যায়। আমি এবং সাকিব নিজেদেরকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সাকিব যে অভিপ্রায় দেখিয়েছিল তা ভাল ছিল, কিন্তু দুঃখের বিষয় সেটি স্থায়ী হয়নি। তবে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে জেতার লক্ষ্যের কথা বলেছেন তামিম, টাইগার কাপ্তান বলেন, আমরা সিরিজটা ভালোভাবে শেষ করতে চেষ্টা করব। নিজেদের বোলিং ইউনিট নিয়েও হতাশা ঝরেছে তামিমের কণ্ঠে, তিনি বলেন, আমি মনে করি আমরা যেভাবে বোলিং শুরু করেছি তা হতাশাজনক ছিল। প্রথম ৪-৫ ওভারে কিছুটা সুইং ছিল এবং আমরা রানআউটের কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। আপনি যখন এই ধরনের ম্যাচে হারেন, অনেকের দিকেই আঙুল তুলতে পারেন। কিন্তু আমি মনে করি আমরা একটি দল হিসেবে ভালো করতে পারিনি। আগামী ৬ মার্চ চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। তবে ম্যাচটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছু নয়। তবুও হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারলে সেটি হবে টাইগারদের জন্য কিছুটা স্বস্তির।
ইউডি/এজেএস

