হঠাৎ একের পর এক ‘দুর্ঘটনা’: জনমনে প্রশ্ন, আতঙ্ক
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১১:২০
বার বার বিস্ফোরণ, রক্তক্ষরণ আর অগণিত মানুষের মৃত্যু। এভাবেই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে গত ৪ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পর ৫ মার্চ রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বিস্ফোণের ঘটনা ঘটে। সেই রেশ না কাটতেই রাজধানীর গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণ। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন ভয়াবহ বিস্ফোরণে জনমনে নানা প্রশ্ন এবং আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিস্তারিত সাদিত কবির’র প্রতিবেদন
বিস্ফোরণের ঘটনা প্রকৃত দুর্ঘটনা নাকি অন্তর্ঘাতমূলক কিছু: চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থেকে রাজধানীর গুলিস্তানের পাশে সিদ্দিকবাজার। মাঝে নিউমার্কেট এলাকার সায়েন্সল্যাব। ব্যবধান মাত্র চার দিনের। ভয়াবহ বিস্ফোরণে সব মিলিয়ে এই তিন ঘটনায় প্রাণ গেল ২৯ জনের। আহত-দগ্ধ হলেন কয়েকশ মানুষ।ঢাকার দুই ঘটনার কারণ সম্পর্কে সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো বলছে, ভবনে জমে থাকা গ্যাসের চাপে ঘটেছে এমন ভয়বাহ বিস্ফোরণ। আর সীতাকুণ্ডের বিস্ফোরিত হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার। তবে ধারাবাহিক এই বিস্ফোরণের ভয়াবহতা দেখে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেকের সন্দেহ, এসব বিস্ফোরণের নেপথ্যে অন্য কিছু নেই তো? গুলিস্তানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদও এই বিস্ফোরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, বিস্ফোরণের ঘটনা প্রকৃত দুর্ঘটনা নাকি অন্তর্ঘাতমূলক কিছু, তার সঠিক তদন্ত প্রয়োজন।কয়েক বছর আগেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে। তাই সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে উল্লেখ করে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, কী কারণে এমন ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। এ ঘটনাগুলো কোনো কিছুর ইঙ্গিত কি না, সেটাও গোয়েন্দাদের দেখতে হবে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করতে হবে। কোনো বিস্ফোরক নাকি রাসায়নিক থেকে এ ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
রাজনৈতিক বক্তব্য ও স্বজনহারাদের কান্না-উত্তর মিলবে কোথায়: হঠাৎ করেই চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকায় তিনটি পৃথক স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সাধারণ মানুষ আচমকা একের পর এক দুর্ঘটনা দেখে আতঙ্কিত হচ্ছেন। যেভাবে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে তাতে সাধারণ মানুষ নিজেদের কোথাও নিরাপদ মনে করছেন না। গুলিস্তানের সিদ্দিক বাজার, সায়েন্স ল্যাব এলাকা ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ের বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে ২৯ জন। পরিবারের সদস্য হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্বজনরা। অনেকেই হারিয়েছেন তাদের আয়ের প্রধান মাধ্যমকে। তাতে তাদের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এদিকে, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য জনমনে প্রশ্নের উন্মেষ ঘটাচ্ছে। সরকারদলীয় নেতারা বলছেন, টানা বিস্ফোরণের ঘটনা ‘রহস্যজনক’। এর পেছনে বিএনপি-জামায়াতের কোনো সংস্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকার তাদের আন্দোলনের মোড় ঘোরাতে জনদৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক এই দোলাচলে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক আরও বাড়ছে, সেই সঙ্গে দেখা দিচ্ছে হাজারো প্রশ্ন। এ ধরণের দুর্ঘটনা বারবার কেনো ঘটছে তা তদন্ত করে বের করার তাগিদ দিচ্ছেন তারা। যেনো আর কাউকে স্বজন হারা হতে না হয়।

পুনরাবৃত্তি স্বত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বারবার: রাজধানীর নিমতলী থেকে সর্বশেষ সিদ্দিকবাজার- এক যুগে এ ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের বড় ঘটনা ঘটেছে ১২টি। বারবার ঘটছে, তবু মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলোর কারণ বের করে প্রতিকারের ব্যবস্থা দৃশ্যমান হচ্ছে না।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার পর প্রশাসনিক তদন্ত হয়। কিন্তু কারিগরি অনুসন্ধান করা হয় না। ফলে কোনো ঘটনারই প্রকৃত কারণ জানা যায় না। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদেরও সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায় না। এ কারণে ভবিষ্যতে এসব দুর্ঘটনা এড়াতে কী ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা নির্ধারণ করা হয় না। ফলে বারবার একই ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে নিরীহ মানুষ। প্রকৃতপক্ষে ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলো প্রতি মুহূর্তেই বড় বিস্ফোরণ কিংবা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ অন্য কোনোভাবে সম্ভব নয়। খনিজ এবং বায়োগ্যাস যাতে বের হয়ে যেতে পারে এর জন্য ঘরের জানালা খুলে রাখতে হবে। বেজমেন্টে হলেও সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। গ্যাসের সিলিন্ডার এবং চুলা এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে কোনো কারণে লিকেজ হলেও গ্যাস বের হয়ে যেতে পারে।
ইউডি/আতা/এজেএস

