বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গ-সতর্ক বাংলাদেশ: অ্যাডিনো ভাইরাস
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১১ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১০:৫০
মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপের রেশ এখনও বিশ্বজুড়ে বইছে। এর মধ্যেই প্রতিবেশি রাষ্ট্র ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গে শ্বাসকষ্ট এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে অ্যাডিনোভাইরাস, আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু। প্রায় মাসব্যাপী এর সংক্রমণে সেখানে ১১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অ্যাডিনোভাইরাস আতঙ্ক ও সতর্কতা নিয়ে বিনয় দাস’র প্রতিবেদন
কলকাতায় রোগী সামলাতে হিমশিম-বাড়ছে মৃতের সংখ্যা
করোনাভাইরাসের পর এবার ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গে আরেক আতঙ্কের নাম অ্যাডিনোভাইরাস। ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে এ ভাইরাসের সংক্রমণ। এ ভাইরাসে শিশুমৃত্যুর ঘটনা যেন থামছেই না। কলকাতা শহর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে বেড়ে চলেছে অ্যাডিনোভাইরাস ও নিউমোনিয়ার দাপট। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এ ধরনের অসুখে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যটিতে গত দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে অন্তত ১১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত সব কর্মীর ছুটি বাতিল করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তর। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। সব ক্লিনিক ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।কোনো হাসপাতালে যেন অক্সিজেনের অভাব না থাকে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ আগেই দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সরকারের পক্ষ থেকে ১০ দফার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে। শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ক্লিনিকগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যেসব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শিশু বিভাগ রয়েছে, সেখানে আলাদাভাবে আউটডোর খোলা রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে-আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিক্যাবল ডিজিস কন্ট্রোল (সিডিসি) প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা সতর্ক আছি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশে ভাইরাসটি এলে তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে বলে জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।তিনি আরও বলেন, আইইডিসিআরসহ বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি মনে করে কোনো ভাইরাস নিয়ে সতর্কবার্তা আছে, তাহলে তারা সেটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানায়। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিবেশী দেশে কোনো রোগের সংক্রমণ দেখা দিলে স্বাস্থ্য বিভাগ সে বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখে। সেখান থেকে রোগটি বাংলাদেশে আসার আশঙ্কা থাকলে সাবধানতা অবলম্বন করে। ভাইরাস বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলাম বলেন, যাদের মধ্যে উপসর্গ আছে, তারা অ্যাডিনোভাইরাসে আক্রান্ত কি না, সেটা জানা জরুরি। কলকাতায় সংক্রমণ বাড়ায় বাংলাদেশও আছে ঝুঁকিতে।
আমেরিকার গবেষণা-অ্যাডিনো গুরুতর রূপ ধারণ করতে পারে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানায়, সম্ভবত অ্যাডিনোভাইরাসের সঙ্গে হেপাটাইটিসের সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। হেপাটাইটিস হলো যকৃতের প্রদাহ, যা সাধারণত ভাইরাসের কারণে হয়। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণ হালকা থেকে গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। অবশ্য গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঘটনা তুলনামূলক কম। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে এবং শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা বা হৃদরোগ থাকলে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির কিছু সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে সাধারণ সর্দি বা ফ্লুর মতো উপসর্গ। এ ছাড়া জ্বর, গলাব্যথা, তীব্র ব্রঙ্কাইটিস (শ্বাসনালিতে প্রদাহ), নিউমোনিয়া, কনজেক্টিভাইটিস এবং তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস পাকস্থলী বা অন্ত্রের প্রদাহ যা ডায়রিয়া, বমি, বমি বমি ভাব এবং পেটে ব্যথা সৃষ্টি করে। এ রোগের কোনো অনুমোদিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাও নেই। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে এর উপসর্গ হালকা। বিশ্রাম ও ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ ব্যথার ওষুধ বা জ্বর কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ২০১৮ সালে আমেরিকায় ৯ শিশুসহ ওই বছর বিশ্বব্যাপী ১৬৯ শিশু অ্যাডিনোভাইরাসে আক্রান্ত হয়। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১৭ শিশুর যকৃৎ প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হয়েছিল।
ইউডি/এজেএস

