যশোর রোডের গাছ বাঁচাতে কলকাতায় মানববন্ধন
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৬ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১১:৩০
ইন্ডিয়ার যশোর রোড সম্প্রসারণের জন্য শতাব্দী প্রাচীন শত শত গাছ কাটার প্রতিবাদে করে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন হয়েছে কলকাতায়। শনিবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কলকাতার ধর্মতলায় লেলিন মূর্তির পাদদেশে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে শামিল হয় ‘যশোর রোড গাছ বাঁচাও কমিটি’ ও মানবাধিকার সংগঠন এপিডিয়ারের কয়েকশো সদস্য। এর আগে এদিন দুপুরে কলকাতা প্রেস ক্লাবে এই বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন গাছ বাঁচাও কমিটির নেতৃত্বরা।
চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি যশোর রোডের সম্প্রসারণের জন্য রাস্তাটির ইন্ডিয়া অংশের রাস্তার দুই ধারে তাঁবুর মতো বিছিয়ে থাকা শতাব্দী প্রাচীন গাছ কাটার উপর স্থগিতাদেশ তুলে নেয় ইন্ডিয়ার সুপ্রিম কোর্ট। বহাল রাখে ৩৬৫টি গাছ কাটার বিষয় কলকাতা হাইকোর্টের রায়। আর এতেই অশনি সংকেত দেখছেন যশোর রোড গাছ বাঁচাও কমিটির সদস্যরা।
কমিটির সদস্য বর্ণব বলেন,‘সুপ্রিম কোর্টের ৩৬৫টি গাছ কাটার অনুমতিকে ঢাল বানিয়ে সম্পূর্ণ যশোরের সম্প্রসারণের জন্য প্রায় চার হাজার কয়েক শতাব্দী প্রাচীন গাছ কেটে ফেলা হতে পারে। তার দাবি বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ছাড়াও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে এই গাছগুলির। গাছগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং শরণার্থীদের বহু ইতিহাস।’
যশোর রোড গাছ বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সৌভিক মুখার্জী বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমাদের দাবি ওই গাছগুলিকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হোক। গাছ কেটে নয় ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি করে যশোর রোডের যানজট সমস্যার সমাধান করা হোক। তাছাড়া গাছের কারণে সুপ্রিম কোর্টে ৬০০টি মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা মনে করছি এই তথ্য সঠিক নয়, তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই রায় পুনঃ বিবেচনার আর্জি জানাচ্ছি আমরা। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করছি গাছ কাটার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার জন্য।
মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত সূর বলেন, ‘যশোর রোডের এই গাছগুলি ইতিহাস বিজড়িত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ইন্ডিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের সাক্ষী। প্রশাসন চেষ্টা করছে গাছগুলি কেটে সেখানে যশোর রোড সম্প্রসারণ ও পাঁচটি রেলওয়ে ওভারব্রিজ নির্মাণের। এজন্য তারা চার হাজার গাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে। আমরা মানবাধিকার সংগঠন, প্রকৃতিপ্রেমী সংগঠন এবং অধিকার রক্ষার সংগঠন হিসেবে মনে করি ইন্ডিয়ার সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্ত সর্বনাশা সিদ্ধান্ত। আমরা মামলা করে বিষয়টি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হলো না সুপ্রিম কোর্টের গ্রিন বেঞ্চ ৩৬৫টি গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু আমরা এর পরিণতি জানি আগামী দিনে সবকটি গাছই কেটে ফেলা হবে।
তার অভিযোগ রেলের থেকে ট্রাকের মাধ্যমে কন্টেইনার সার্ভিস চালু হয়েছে। ইন্ডিয়ার থেকে বাংলাদেশ হয়ে কন্টেইনারে এশিয়ার বহু দেশে পণ্য পৌঁছানোর কাজ করবে। এতে বৃহৎ পুঁজিপতিদের স্বার্থ আছে তাদের ইন্ধন দিচ্ছে এডিবি।
২০১৭ সালে বারাসত থেকে পেট্রাপোল সীমান্ত পর্যন্ত যশোর রোড বা ইন্ডিয়ার ১১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ৪০৩৬টি গাছ কাটার পরিকল্পনা করেছিল রাজ্য পূর্ত দফতর। যশোর রোডের গাছ কাটার কথা ঘোষণা হওয়ার পর, প্রথম আদালতে মামলা করে এপিডিআর বারাসাত শাখা। পরে গাছ কাটার বিষয়ে শোরগোল শুরু হলে ছাত্রছাত্রীরাও পৃথকভাবে আদালতে একটি মামলা করে। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই ২০১৮ সালের ৫ মে কলকাতা হাইকোর্টে যশোর রোড গাছ বাচাও কমিটি ও এপিডিআরের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে যশোর রোডের গাছ কাটার উপর স্থগিতাদেশ জারি করে তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিশিথা মাত্রে ও তপব্রতো চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ ।
ইউডি/এ

