গণমাধ্যমকে আমলে না নিতে পরামর্শ দিলেন ড. জাফর ইকবাল

গণমাধ্যমকে আমলে না নিতে পরামর্শ দিলেন ড. জাফর ইকবাল

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ২১:০০

চলতি বছরের কারিকুলাম নিয়ে নানা বির্তকের বিষয়টি সামনে এনে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বলেছেন, ‘কোনও কাজ করলে একমাত্র সাংবাদিকরা বাধা সৃষ্টি করে। তাই গণমাধ্যমে কি লেখা হচ্ছে তা আমলে না নিতে নীতি নির্ধারক, শিক্ষকদের পরামর্শ দেন তিনি।’ পত্রিকা বিক্রি বাড়াতে তারা এসব উল্টাপাল্টা সংবাদ প্রচার করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যে কোনও কাজ করতে গেলে শুরুতে যাদের বাধা আসে তারা হলো সাংবাদিক। ওনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে দেন। আমি এখন পর্যন্ত দেখলাম না কোনও পত্রপত্রিকা নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে সুন্দরভাবে বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ প্রচার করতে।’

বুধবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে নতুন শিক্ষাক্রম-২০২২ বিষয়ে সারা দেশের প্রধান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তার এ বক্তব্যের সময় মঞ্চে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ শিক্ষাবিদ, শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক অধ্যাপক বলেন, ‘আমি সংবাদমাধ্যমের অনেক কিছু জানি। এগুলো বললে তারা পালিয়ে যাবেন। এ জন্য মাঝে মধ্যে চিন্তা করি, যে সমস্ত মিডিয়া এটার পেছনে এতো কঠিনভাবে লেগেছে তাদের সামনা-সামনি বলে একটি-একটি বিষয়ে কথা বলি। দেখি আপনারা কতক্ষণ কথা বলতে পারেন? কাজেই এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা আছেন তারা গণমাধ্যমে যা লেখা হয় তা নিয়ে ভাববেন না।’

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে তাদের মতো বলতে দেন। কারণ তাদের পত্রিকা বিক্রি করতে হয়। কেউ ভালো কথা শুনতে চায় না, গালাগালি দিয়ে কথা বললে তা শুনতে ভালো লাগে। পত্রপত্রিকায় কি বলছে তা নিয়ে আপনারা মাথা ঘামাবেন না। আপনারা নিজেরা সত্যিকারে অর্থে যেটা করার কথা সেটা করছেন কি না? আপনারা আপনাদের হৃদয়ের কাছে আন্তরিক কি না, নিজেদের ছেলে-মেয়েদের দায়িত্ব নিয়েছেন কি না? গালাগালির মূল দায়িত্বটা আমি নিজে নিচ্ছি। আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি, সে কারণে আমি বেশি গালাগালি শুনে সহ্য করে যাচ্ছি।

জাফর ইকবাল আরও বলেন, অনেকে পরিবর্তন পছন্দ করে না, তারা চায় আগের মতো থাকুক। অনেক অভিভাবক বলে আমার সন্তান পাস করে যাক তারপর নতুন পরিবর্তন আসুক। এটা অধিকাংশরাই চায়। আমি অনেক দিন ধরে নতুন কারিকুলামের সঙ্গে জড়িত রয়েছি। সবাই খুব যত্নসহকারে কাজ করছে। শুরুতে ৬০টি স্কুলে প্রথমবার পাইলটিং করা হয়েছে। আমি নিজেও কয়েকটি স্কুলে গিয়েছি। বাচ্চারা এটিকে খুবই পছন্দ করেছে। বাচ্চারা এখান থেকে অবশ্যই শিখেছে।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading