আগুনে পুড়ল ময়নাদের কপাল

আগুনে পুড়ল ময়নাদের কপাল

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১২:৪৫

‘আমরা ঈদ উপলক্ষে ২০ লাখ টাকা লোন করছি। এ লোন করে নতুন মাল তৈরি করছি। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার বাড়ির দলিল ব্যাংকের ভিতর। আগুনে মাল পুড়লো না তো, পুড়লো আমার জীবন।’ মাথায় হাত দিয়ে এভাবে আর্তনাদ করছে রাব্বি বস্ত্র বিতানের মালিক কাজল আক্তার ময়না।

কাজল আক্তার ময়না কামরাঙ্গিচরের বাসিন্দা। কামরাঙ্গিচরের রাব্বি বস্ত্র বিতানে তিনি নারীদের ওয়ানপিস তৈরি করেন। তারপর সেই পণ্য বঙ্গবাজার, ইসলামিয়া, আদর্শ ও এনেক্সোর বিভিন্ন দোকানে সাপ্লাই করে থাকেন।

প্রতি ঈদের মতো এবারও বাড়ির দলিল দিয়ে ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা লোন করেন। সে লোন থেকে নতুন পণ্য তৈরি করে গুলিস্তানের এ বাজারগুলোতে সাপ্লাই করে থাকেন। ১৫ রোজা পর্যন্ত এ বাজারের দোকান মালিকরা বাকিতে মাল নিয়ে আসে। ১৫ রোজার পর বাকি পরিশোধ করেন।

ময়না বলেন, ‘বঙ্গমার্কেটেই রয়েছে এক কোটি টাকার মাল। ১৫ রোজা থেকে এ টাকা আসার কথা। গতকালকেও ছয় লাখ টাকার মাল বাকিতে দিয়েছি। পরশুদিন চার লাখ টাকার মাল বাকিতে দিয়েছি। আমি ২৫টি দোকানে মাল দিয়ে থাকি। আমরা ৬টা বাজে শুনে দৌড়ে চলে এসেছি। এসে দেখি মার্কেটের কোনো কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। সব ছাই হয়ে গেছে। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’

শুধু ময়না নন। তার মতো একই অবস্থা মার্কেটটির হাজারো ব্যবসায়ীর। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানো পণ্য তুলেছিলেন। আশা ছিল, ঈদের ব্যবসা দিয়ে ভালো অংকের লাভ তুলতে পারবেন। কিন্তু আগুন তাদের সব শেষ করে দিয়েছে। ঈদের ব্যবসা তো পরের কথা, এই ক্ষতি সারা জীবনে পাষাতে পারবেন কি না সেই শঙ্কা এখন তাদের তাড়া করছে। অনেকে কোটিপতি থেকে হয়েছেন পথের ভিখারি।

ঘটনাস্থল থেকে স্ত্রীকে ফোনে কাপড়ের ব্যবসায়ী মো. রমজান বলছিলেন, ‘আর ফোন দিয়ে কী করবা, কেন ফোন দিচ্ছ, আমাদের সব শেষ।’ এই কথা বলে হাউমাউ করে কান্না করছেন আর আরেক ব্যবসায়ীকে জড়িয়ে ধরছেন।

বঙ্গবাজারে লাগা আগুনে মো. রমজানের দোকান পুড়েছে। রমজানের দাবি তার দোকানে ১৫ লাখ টাকার ওপরে মালামাল ছিল, সঙ্গে ছিল নগদ টাকাও।

তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষ্যে ২-৩ দিন আগেও মালামাল তুলেছিলাম দোকানে। একটি কাপড়ও দোকান থেকে বের করে নিয়ে আসতে পারিনি। এই ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবো। ভাবছিলাম রোজার ঈদের বেচাকেনার পর কিছুটা দাঁড়াতে পারবো। কিন্তু এখন তো সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম।’

মোহাম্মদ সাইমন নামে আরেক ব্যবসায়ী দোকানে ১৪ লাখ টাকার মালামাল ছিল বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘ভাই আমাদের মার্কেটে সবসময় প্রচুর মালামাল থাকে। সকাল ছয়টার পরে শুনতে পেরেছি মার্কেটে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে দ্রুত দৌড়ে আসি ঘটনাস্থলে। কিন্তু ভাই আগুনের তাপের কারণে ভেতরে যেতে পারি নাই।

‘আমার দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঈদের ব্যবসা যেমন শেষ হইছে আর তেমনি সারা জীবনের জন্য এই ক্ষতিপুষিয়ে ওঠা আমার মতো মানুষের পক্ষে কঠিন’, বলেন মোহাম্মদ সাইমন।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading