আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান: সব আসামি বেকসুর খালাস
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৬:০০
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তিন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব বুধবার (০৫ এপ্রিল) এ রায় ঘোষণা করেন।
খালাস পাওয়া তিন আসামি হলেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারি এলাকার জহুরুল হক ওরফে জসিম (২৯), তার স্ত্রী মোছা. আর্জিনা ওরফে রাজিয়া সুলতানা (২১) এবং মো. হাসান (২৮)।
আসামিরা সবাই রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য হিসেবে দেখিয়ে এ মামলায় তাদের বিচার চলে।
হাইকোর্টে জামিন পেলেন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশিদ
খালাসের রায়ের কারণ ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুমিনুর রহমান টিটু বলেন, ‘দক্ষিণ সুরমায় আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময় এই তিন আসামি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অন্য মামলায় চট্টগ্রামের জেলে ছিলেন। আতিয়া মহলের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে খালাস দেওয়া হয়েছে। ওই তিন আসামির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরেকটি মামলা চলছে বলে জানান পিপি।
২০১৭ সালের ২৪ মার্চ ভোরে আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর চার দিন ওই বাড়ি ঘিরে চলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। ২৮ মার্চ অভিযান শেষে ওই বাড়ির ভেতরে চারজনের লাশ পাওয়া যায়। অভিযান চলাকালে আতিয়া মহল থেকে একটু দূরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের তৎকালীন প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ ও দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট সাতজন নিহত হন।
মিতু হত্যা মামলা : বাবুল আক্তারের জামিন শুনানি ৩ মে
সেসময় র্যাব জানিয়েছিল, প্রচুর বিস্ফোরক থাকায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে র্যাব বেশ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে। তাই একটু সময় বেশি লাগে। পরে তারা পুলিশকে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়। অভিযানে এক নারী ও তিন পুরুষ নিহত হন। ময়নাতদন্ত শেষে চারজনকে সিলেটের হযরত মানিকপীর গোরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
আতিয়া মহলের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এ মামলাটি দায়ের করেন এসআই সুহেল আহমদ। মোগলাবাজার থানার এ মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের আসামি করা হয়।
প্রথম দিকে পুলিশ এ মামলা তদন্ত করলেও পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তভার নেয়।২০১৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেখানে জহুরুল হক, তার স্ত্রী আর্জিনা বেগম ও মো. হাসানকে আসামি করা হয়।
আদালত থেকে জঙ্গি ছিনতাই, মামলার প্রতিবেদন পিছিয়ে ১৫ মে
এর মধ্যে জহুরুল ও তার স্ত্রী আর্জিনাকে ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক জঙ্গিবিরোধী অভিযানে এবং মো. হাসানকে কুমিল্লার চান্দিনায় এক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তাদের আতিয়া মহলের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অভিযোগপত্র জমা পড়ার পর ওই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জন সাক্ষ্য দেন। ১৪ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে। আতিয়া মহলের ঘটনায় বোমা বিস্ফোরণ এবং হত্যার ঘটনায় হওয়া দুটি মামলায় ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই।
ইউডি/এ

