রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র বেচে আমেরিকার পোয়াবারো

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র বেচে আমেরিকার পোয়াবারো

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৩:১৫

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পেরলেও এর কোনো সমাধান কিংবা শান্তি চুক্তিতে পোঁছতে পারে নি কোনো দেশ। কিন্তু এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমেরিকা নিজেদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলছে। সম্প্রতি এক জরিপে উঠে এসেছে গত তিন দশকে ইউরোপে সামরকি ব্যয় বেড়েছে সর্বো””। আর ইউক্রেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অস্ত্র বিক্রি করে আমেরিকার যেন পোয়াবারো। এ নিয়ে মিলন গাজী’র প্রদিবেদন

অস্ত্র বাণিজ্যে আমেরিকার ‘পৌষ মাস’: ইউক্রেনকে যত বেশি সম্ভব অস্ত্র সরবরাহ করতে আমেরিকা প্রথম থেকেই ইউরোপকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ জিইয়ে রাখতে পারলে আমেরিকার নানা দিক থেকে লাভ। এর ফলে আমেরিকা আগের চেয়ে আরও বেশি অস্ত্র বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে এবং ইউরোপ আর্থ-সামরিক দিক থেকে আরও বেশি আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। গত এক বছরে আমেরিকায় অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে প্রতিরোধ যুদ্ধে ব্যবহƒত অস্ত্রেরই চাহিদা বেড়েছে বেশি। এরমধ্যে অন্যতম হাইমার্স রকেট সিস্টেম, সাজোয়া যান এবং ট্যাংক। ইতিমধ্যেই বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে মার্কিন রকেট সিস্টেম হাইমার্স। আমেরিকার অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ৫ হাজার ১শ কোটি ডলারের বেশি। তবে, সমরাস্ত্র বাজারের তুরুপের তাস মনে করা হচ্ছে যুদ্ধবিমানকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইউক্রেনের সফরের পর অনেকটাই স্পষ্ট যে খুব শিগগিরই এফ-১৬ এর মতো অত্যাধুনিক ফাইটার জেট পাবে কিয়েভ। ফলে বাড়বে যুদ্ধবিমান বিক্রির হারও। ইউরোপের সামরিক ব্যয় বাড়ার ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের মার্কিন এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান ক্রয়ের প্রবণতা অনেকাংশে দায়ী। যে জার্মানি অতীতে মার্কিন অস্ত্র কেনার বিরুদ্ধে ছিল, এখন সেই জার্মানিও আমেরিকার নানা ধরণের অস্ত্র কিনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। জার্মানি এখন আমেরিকার কাছ থেকে বেশ কয়েকটি এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে যে পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি হয়েছিল, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেই তুলনায় শতকরা পাঁচ ভাগ অস্ত্র কম বিক্রি হয়েছে। কিন্তু সারা বিশ্বের চিত্র যা-ই হোক, ইউরোপের দেশগুলো কিন্তু এমন সংকটের সময়ও অস্ত্র আমদানি বাড়িয়েছে। ফলে আমেরিকার রপ্তানি এ অঞ্চলে বেড়েছে ৪৭ ভাগ, ন্যাটোর বেড়েছে আরো বেশি ৬৫ ভাগ। আগের মতো এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাঁচ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, চীন এবং জার্মানি। গত চার বছরে সার্বিকভাবে ১৪ শতাংশ রপ্তানি বাড়িয়ে সবচেয়ে উপরের জায়গাটি আরো পাকা করেছে আমেরিকা। তবে এ সময়ে ফ্রান্সের রপ্তানি বৃদ্ধির মাত্রা সত্যিই বিস্ময়কর। গত চার বছরে তাদের অস্ত্ররপ্তানি বেড়েছে শতকরা ৪৪ ভাগ । অন্যদিকে চীনের অস্ত্ররপ্তানি শতকরা ২৩ ভাগ কমেছে। জার্মানিরও রপ্তানি এ সময় কমেছে। সিপ্রির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের চার বছরের তুলনায় জার্মানির রপ্তানি শতকরা ৩৫ ভাগ কমেছে।

মার্কিন অর্থনীতি দশকের পর দশক চাঙ্গা রাখার নেপথ্যে: সামরিক সংঘাত অস্ত্র উৎপাদনের অর্থনীতি সচল রাখে। অস্ত্র বিক্রির অর্থ আমেরিকার অর্থনীতিকে দশকের পর দশক ধরে চাঙ্গা করে আসছে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে টানা দুই বছর বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যায় মার্কিন অর্থনীতি। মহামারীর সময় বেকার হয় লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক। কঠোর লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের কোথাও যুদ্ধ লাগলে তা যে আমেরিকাকে তার অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তা বলাই বাহুল্য। ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দায়িত্ব সারেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এমনকি রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিলেও বাইডেন তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। আমেরিকা চায় তার অস্ত্র প্রস্তুতকারক কোম্পানি ও ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলো ইউক্রেনে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখুক। ইউএস ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার মার্কিন অর্থনীতি লাভবান হচ্ছে। কেননা ডলার কিনতে বিশ্বের সকল দেশকে এখন অধিক অর্থ গুনতে হচ্ছে। বিশ্ববাণিজ্যের কারেন্সি শুধু ডলার বিক্রিতের তাদের মুনাফা কত সেটেই হিসেবে করুণ। অস্ত্র-ব্যবসার গত নভেম্বরের মধ্যেই কারবারিদের পকেট প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার চলে গেছে। জানুয়ারিতে আমেরিকার শিকাগো-ভিত্তিক ইন দিজ টাইমস ম্যাগাজিন জানাচ্ছে, ভার্জিনিয়ার সামরিক কোম্পানি, রেথিয়নের সিইও, গ্রেগ হেস এবং ওয়াশিংটনের নিকটবর্তী মেরিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কোম্পানি, লকহিড মার্টিনের প্রধান, জিম টেকলেট তাঁদের অংশীদারদের সুখবর দিয়ে জানাচ্ছেন যে, গত এক বছরে ইউক্রেন-রুশ বিরোধে তাঁরা বিপুল পরিমাণে মুনাফা করেছে।

তিন দশকের মধ্যে ইউরোপের সামরিক ব্যয় সর্বোচ্চ: ইউরোপে সামরিক ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বলা হচ্ছে, গত তিন দশকের মধ্যে গত ২০২২ সালে সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয় হয়েছে ইউরোপে। ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ। এক বছরে সামরিক খাতে ইউক্রেনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে যা মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’র এক তৃতীয়াংশ। এছাড়া, ইউক্রেনকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। অন্যদিকে, রাশিয়ার সামরিক ব্যয়ও ৯.২ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধরত দুই দেশ ইউক্রেন ও রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বৃদ্ধিকে বাদ দিলেও দেখা যায়, ইউরোপের অন্য দেশগুলোও সামরিক খাতে খরচ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়েছে। গত বছর ইউরোপীয় দেশগুলো সামরিক খাতে বিনিয়োগ করেছে ৪৮০ বিলিয়ন ডলার। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষক ড. নান তিয়ান বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলো সামরিক ব্যয় নজিরবিহীন ভাবে বাড়িয়েছে। ইউরোপের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানিও নিজের সামরিক শক্তি বাড়াতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।

রাশিয়া হামলা শুরু করার আগ পর্যন্ত মূলত দেশে তৈরি অস্ত্রের ওপরই নির্ভরশীল ছিল ইউক্রেন। দেশীয় অস্ত্র ছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন আমলের কিছু পুরোনো অস্ত্রও ছিল তাদের। তবে যুদ্ধ শুরুর পর বাধ্য হয়েই অস্ত্র সংগ্রহে তৎপর হতে হয় ইউক্রেনকে। তাই ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানি করা দেশের তালিকায় তারা এখন ১৪ নম্বরে।ইউক্রেন অবশ্য নতুন এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র পায়নি। অন্য দেশের অব্যবহƒত অস্ত্রশস্ত্রই সাহায্য হিসেবে পেয়েছে তারা। এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে বহুবার আধুনিক যুদ্ধবিমান চেয়েও পাননি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। অথচ ইউক্রেন যুদ্ধ চলার সময় যুদ্ধ বিমানসহ অনেক অত্যাধুনিক অস্ত্র কিনেছে কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার এবং জাপান। সব অস্ত্রই আমেরিকার কাছ থেকে কিনেছে তারা!

সমরাস্ত্র শিল্পকে নাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ইন্ডিয়া বিশ্বের বৃহত্তম সমরাস্ত্র আমদানিকারক, তাদের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী রাশিয়া। ফলে ইন্ডিয়ার প্রতিরক্ষা খাতে মস্কোর রয়েছে বিশাল ভূমিকা। কিন্তু, ইউক্রেনে রাশিয়া সামরিকভাবে প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছে। এই বাস্তবতায়, স্থানীয়ভাবে বিকল্প অস্ত্র উৎপাদনের উদ্যোগে আরো জোর দিচ্ছে দিল্লি। একইসঙ্গে, অস্ত্র আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ক্রয়ে ব্যয় বেড়েছে। ফলে দেশটির সমরাস্ত্র উৎপাদকরা রাষ্ট্রের অব্যাহত চাহিদার ওপর নির্ভর করতে পারছে। কিন্তু, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব কার্যাদেশ পূরণ করতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। একইসঙ্গে, রুশ সামরিক বাহিনীর জন্য তাদের পণ্য সরবরাহ বাড়ায়, রয়েছে বিশ্ববাজারে অংশীদারত্ব হারানোর ঝুঁকিতে। রাশিয়ান সমরাস্ত্রের একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার ছিল পূর্ব ইউরোপ। কিন্তু, সোভিয়েত যুগের অবসানের সাথে সাথেই পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো ধীরে ধীরে তাদের সমরাস্ত্র ভাøারকে ন্যাটো জোট নির্ধারিত মানসঙ্গত করার উদ্যোগ নেয়। ফলে তারা পশ্চিমা অস্ত্র ক্রয়ের মাধ্যমে রাশিয়ান অস্ত্রগুলোকে সার্ভিস থেকে প্রত্যাহার করতে শুরু করে। অস্ত্র ও সরঞ্জামের এই ক্ষতিপূরণে যখন ব্যস্ত মস্কো, ঠিক তখনই ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাড়ে। বিভিন্ন মিত্র দেশের কাছে মার্কিন অস্ত্র রপ্তানির এই ঘটনা রাশিয়া ও চীনের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়েছে। অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের টালামাটাল অবস্থার সুযোগ নিতে চাইছে।

কর্মী সংকটে হিমশিম খাচ্ছে অস্ত্র নির্মাতারা: ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর বেড়েছে অস্ত্রের চাহিদা। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় পশ্চিমা সরকারগুলো প্রতিরক্ষায় ব্যয় বাড়ানোর ফলে আমেরিকা ও ইউরোপের অস্ত্র নির্মার্তা কোম্পানিগুলো রেকর্ড সংখ্যক অর্ডার পাচ্ছিলো। ইউক্রেন যুদ্ধ সেই চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও দেশটির মিত্ররা ইউক্রেনে যে অস্ত্র পাঠিয়েছে সেগুলোর ঘাটতি পূরণে নতুন অস্ত্র কিনছে। এখন অস্ত্র নির্মাতা ও প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো পড়েছে নতুন জটিলতায়। অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে কয়েক হাজার দক্ষ কর্মী প্রয়োজন তাদের। কিন্তু কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ দিতে পারছে না। ফরাসি অস্ত্র নির্মাতা থ্যালেস-এর প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিস কেইন গত মাসে বিনিয়োগকারীদের একটি বৈঠকে বলেছিলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর মধ্যে অবশ্যই কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি রয়েছে। তিনি বলেছেন, এই বছর কোম্পানিটির ১২ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রম বাজারে কিছু উত্তেজনা বিরাজ করছে। এগুলো মোকাবিলার জন্য থ্যালেস তার বিদেশি প্রকৌশল কেন্দ্রগুলোর আরও বিকাশের পাশাপাশি অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করেছে। গত বছর মেধাবী ও দক্ষ কর্মী সংগ্রহে নিজস্ব কর্মসূচির সম্প্রসারণ করেছে।


প্রতিরক্ষা শিল্পের বিস্তৃত সাপ্লাই চেইনে যে সংকট বিরাজ করছে সেটির অংশ কর্মী ঘাটতি। অস্ত্র নির্মাতারা চিপস এবং রকেট মোটরের মতো মূল উপাদানের ঘাটতির পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গেও লড়াই করছে। এর ফলে অনেক কোম্পানি অর্ডার অনুসারে অস্ত্র সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। গত বছর থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো শ্রমের ঘাটতি মোকাবিলা করছে। ওই সময় মহামারির কারণে চাকরি ছেড়ে যাওয়া অনেকেই কাজে ফিরেনি। তারপর থেকে বেশিরভাগ কোম্পানি তাদের নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। শ্রম ঘাটতি অনেক। কিন্তু তারা বলছে, গত কয়েক মাসে নিয়োগের ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপে কর্মী নিয়োগের চাপ আরও তীব্র হতে পারে। ইউরোপীয় সরকারগুলো রাশিয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে মার্কিন ছায়ায় থাকা অস্ত্র নির্মার্তাদের উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করেছে। এতে করে খাতটিতে বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কামানেল গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো। ব্রিটেনভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এডিএস গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যামি স্টোন বলেছেন, অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিগুলো কর্মী নিয়োগ নিয়ে চিন্তিত। প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিভাধার কর্মী নিয়ে কাড়াকাড়ি বাড়ছে। সর্বশেষ নিয়োগের আগে থেকেই শূন্যপদ পূরণে হিমশিম খাচ্ছিলো অস্ত্র কোম্পানিগুলো। গত বছরের শেষ দিকে এডিএসের কাছে ১০ হাজারটি শূন্যপদ ছিল। রিক্রুটার কাইরান স্লটার বলেন, অস্ত্র নির্মাতাদের জন্য কর্মী নিয়োগ সবসময় কঠিন ছিল। এখন উড়োজাহাজ ও গাড়ি নির্মাতারা দক্ষ কর্মীদের অনেক বেশি বেতন দিচ্ছে। এই দুই খাতে নিরাপত্তা যাচাইয়েরও প্রয়োজন হয় না।

ইউডি/সুপ্ত/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading