গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিলো প্রতিদ্বন্দ্বী জোট, চমক দেখাতে পারেন এরদোয়ানও
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০২৩ । আপডেট ১৩:৩০
তুরস্কে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় দলীয় বিরোধী জোটের সমর্থিত প্রার্থী কামাল কিলিকদারোগ্লু ।
তিনি বিবিসিকে বলেন, তরুণরা গণতন্ত্র চায়। তারা চায় না যে, পুলিশ ভোরবেলা তাদের দরজায় আসুক, কারণ তারা টুইট করেছে। তিনি আগামী ১৪ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ইসলামপন্থী নেতা এরদোগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে রয়েছেন।
৭৪ বছর বয়সি প্রধান বিরোধী রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতৃত্ব দানকারী কামাল কিলিকদারোগ্লু আরও বলেন, বর্তমানে তুর্কিদের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করার জন্য জেলে যেতে হয়। আমি তরুণদের বলছি, তারা নির্দ্বিধায় আমার সমালোচনা করতে পারে। আমি নিশ্চিত করব যে, তাদের এই অধিকার আছে, থাকবে।
তিনি বলেন, ‘তুরস্কের রাজনীতিতে থাকা মানে ঝুঁকির জীবন বেছে নেওয়া। এরদোগান এবং তার মিত্ররা যাই করুক না কেন আমি আমার পথেই হাঁটব। তারা আমাকে থামাতে পারবে না। তারা আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। আমি এই জাতির কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। ৬৯ বছর বয়সি প্রেসিডেন্ট এরদোগান অতীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে উপহাস করে বলেছিলেন যে, তিনি একটি ভেড়াও পালতে পারেননি। কিন্তু তাকে এখন বরখাস্ত করা কঠিন।
বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি ইজমিরের বন্দর নগরীর সমাবেশে পৌঁছানোর পর এই বিরোধী প্রার্থীকে পতাকা নেড়ে স্বাগত জানান শত শত সমর্থক। এ সময় সমর্থকরা কিলিকদারোগ্লু জনগণের আশা বলে স্লোগান দেন। সমর্থকদের মধ্যে অনেকেই তরুণ এবং এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন বলে জানা গেছে।
দেশটিতে নতুন ভোটারের সংখ্যা পাঁচ লাখ। সমাবেশে কিলিকদারোগ্লু বলেন, আমরা সভ্য বিশ্বের অংশ হতে চাই। আমরা মুক্ত গণমাধ্যম এবং সম্পূর্ণ বিচারিক স্বাধীনতা চাই। এরদোগান সেভাবে ভাবেন না। তিনি আরও স্বৈরাচারী হতে চান। আমাদের এবং এরদোয়ানের মধ্যে পার্থক্য হল কালো এবং সাদার মধ্যে পার্থক্য।
রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা তাকে অবসর দেব এবং তাকে তার কোণে পাঠিয়ে দেব। তিনি চুপচাপ পিছিয়ে যাবেন। এটা নিয়ে কারো কোনো উদ্বেগ থাকা উচিত নয়। এদিকে, তুর্কি নেতা হেরে গেলে ফলাফল নিয়ে বিতর্ক করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোয়লু সতর্ক করেছেন যে, ওই ভোট হবে পশ্চিমের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা।
কিলিকদারোগ্লু বলেছেন, সম্মিলিত বিরোধী দল সজাগ থাকবে। প্রেসিডেন্ট এবং তার সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিল বা তার বিচারকদের কাউকেই বিশ্বাস করবে না বিরোধী জোট। এরদোগান ক্ষমতায় থাকলে দাম বাড়তে থাকবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তিনি বলেন, এখন এক কেজি পেঁয়াজের দাম ৩০ লিরা। যদি তিনি থাকেন তবে এটি ১০০ লিরা হবে।
মঞ্চে অন্যান্য বিরোধী নেতাদের পাশে কি লিকদারোগ্লু সমর্থকদের জন্য হাত দিয়ে তার ট্রেডমার্ক হার্ট ইমোজি তৈরি করেন। অন্যদিকে জনমত জরিপের একটি নতুন সমীক্ষা বলছে, কিলিকদারোগ্লু প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হবেন, তবে এরদোয়ানের জোট পার্লামেন্টের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে।

চমক দেখাতে পারেন এরদোয়ান
এবারের নির্বাচনে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে এরদোয়ানকে। বিরোধী দলগুলোর জোটের প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও নিজের কৌশল দিয়ে টিকে যেতে পারেন এরদোয়ান।
অসুস্থতার জন্য সাময়িক বিরতির পর নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। প্রচারণা থেকে হঠাৎ সরে যাওয়ায় নানা জল্পনা-কল্পনা দানা বেঁধে উঠেছিল। কিন্তু সম্প্রতি তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে বিরোধীদের অনুকূলে থাকা এলাকায় আয়োজিত জনসভায় অপেক্ষমাণ হাজার হাজার সমর্থকের মধ্যে নায়ক হিসেবেই উপস্থিতির জানান দিলেন তিনি। বন্দর নগরী ইজমিরে এরদোয়ান হাজির হন ফুরফুরে বেশে। তার দেখা পেতে হাজার হাজার মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কড়া রোদ উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের হাতে ছিল তুরস্কের পতাকা। অথচ শহরটি বিরোধীদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
ইজমিরে জনসভায় এরদোয়ান প্রায় ৪০ মিনিট ভাষণ দেন। বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি এরদোয়ান সাফ জানিয়ে দেন, তুরস্কের উন্নতি শুধু তার হাত ধরেই সম্ভব। সেখানে উপস্থিত এরদোয়ানের কয়েকজন সমর্থক সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন।
দুই দশক ধরে তুরস্ক শাসন করছেন এরদোয়ান। সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্ট-শাসিত ব্যবস্থা চালু করেছেন। কড়া হাতে অভ্যুত্থান মোকাবিলা করেছেন। বিশ্ব, বিশেষ করে ইউরোপ যেন তুরস্ককে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয় সেই চেষ্টা করেছেন। এর আগের নির্বাচনগুলোতে কার্যত তেমন কোনো কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েননি তিনি।
ইউডি/এ

