মনোমালিন্য যেন সম্পর্ক বিচ্ছেদের কারণ না হয়!

মনোমালিন্য যেন সম্পর্ক বিচ্ছেদের কারণ না হয়!

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০২৩ । আপডেট ২২:০০

‘ভালো না লাগলে চলে যাও! এত কিছু বুঝাতে পারবো না! যা ইচ্ছা ভাবো! আমার ইচ্ছা আমি করবো!’-কি কথাগুলো খুব পরিচিত লাগছে? প্রিয়জনের সঙ্গে মনোমালিন্য বা কথা কাটাকাটির সময় এই কথাগুলো আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি। শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, মনোমালিন্য বা কথা কাটাকাটি হতে পারে ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধবী এমন কি অফিসে কলিগদের সঙ্গেও। একটু পর পরিস্থিতি শান্ত হলে মনে হয়, ‘এই যাহ্! কী বলে ফেললাম, এখন কী হবে!’ বার বার সরি বলার পর বিপরীত মানুষটা সবকিছু স্বাভাবিক আছে বললেও কিছু কথা হয়তো তার মনে গেঁথে যেতে পারে সারা জীবনের জন্য। বার বার বোঝানোর চেষ্টা করলেও সেই সম্পর্ক আর আগের মতো সুন্দর করে তোলা যায় না।

ছোটখাটো এমন ব্যাপারগুলো অনেক সময় জমে জমে খুব বড় সমস্যার সৃষ্টি করে আর রূপ নেয় ছাড়াছাড়ি বা বিচ্ছেদের মতো অবস্থার! তাই সমস্যা যতই জটিল হোক খেয়াল রাখতে হবে, মনোমালিন্য বা কথা কাটাকাটি যেন না হয় আপনার সম্পর্ক বিচ্ছেদের কারণ! কিন্তু কীভাবে? আজকে জেনে নিবো এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে। মনোমালিন্য বা কথা কাটাকাটি থেকে কীভাবে দূরে থাকবেন?

‘আমিই ঠিক’ এমন ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে: মনোমালিন্য বা কথা কাটাকাটির সময় আমরা অপরপক্ষের কোনো কথাই শুনতে বা বুঝতে চাই না। দুই পক্ষের মধ্যেই যদি এমন ভাবনা থাকে ‘আমিই ঠিক’ তাহলে কথায় কথায় শুধু কথা কাটাকাটি ও ঝগড়াঝাঁটি বাড়বে। এমন সময় আপনি ঠিক হলেও অপরপক্ষের সাথে যুক্তি খন্ডনে না যেয়ে তাকে ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত সময় দিন। অপরপক্ষও কোন কারণে কথাটি বলছে তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তার কথা আপনি বোঝার চেষ্টা করছেন এমন পরিবেশ তৈরি করুন। এরপর ধীরে ধীরে আপনার জায়গাটাও তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন। তবে এক্ষেত্রে ‘তোমাকেই বুঝতেই হবে, আমি অনেক ধৈর্য ধরে আছি’ এমন মনমানসিকতা রাখা যাবে না।

দুর্বলতা নিয়ে কটূক্তি করা যাবে না: আমরা কেউই পারফেক্ট নই। জীবনে চলার পথে কমবেশি আমরা সবাই ভালো খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েছি। মনোমালিন্য বা কথা কাটাকাটির কারণে সুন্দর সম্পর্ক মুহূর্তেই ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু খুব কম মানুষই হাজার সমস্যার মধ্যেও সম্পর্ক সুন্দর রাখতে পারে। দুইজন মানুষের সম্পর্কের গভীরতার উপর নির্ভর করে একজন অপরজনকে অনেক কিছুই শেয়ার করতে পারে। যা হয়তো স্বাভাবিকভাবে যে কাউকে শেয়ার করা যায় না। আমাদের জীবনের অতীত বা নেতিবাচক পারিপার্শ্বিক অবস্থা দিয়ে আমাদের বর্তমান বিচার করা যায় না। তাই খুব খারাপ সময়েও শুধুমাত্র তর্কে জিততে হবে এমন ভেবে কেউ কারো দুর্বলতা নিয়ে কটূক্তি করা যাবে না। এতে ওই নির্দিষ্ট সময়ে হয়তো তর্কে জেতা যায়, কিন্তু সম্পর্কটা আর আগের মতো সুন্দর নাও থাকতে পারে।

কথায় কথায় ছেড়ে যাওয়ার ভয় দেখানো যাবে না: খুব ছোটখাটো ঝগড়ার সময় অথবা শুধুমাত্র তর্কে জিতে যাওয়ার জন্য আমরা অনেকেই ছেড়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে আনন্দ পাই! অপরপক্ষের মানুষটা চুপ করে সহ্য করে যাওয়ায় আপনি হয়তো ভাবছেন তর্কে জিতে গেলেন এবারও! কিন্তু আপনি যে কাজটি করলেন সেটি সবচেয়ে বড় ভুল এবং এক অর্থে বোকামি! এভাবে একে অপরের প্রতি এক ধরণের দূরত্ব সৃষ্টি হয়! সম্পর্কে যখন একজন আরেকজন কে পেয়ে বসে আর ভাবে, ‘ও তো থাকবেই, ও তো করবেই’ – তখনই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত এক্সপেক্টেশনের কারণে সম্পর্ক সুন্দর থেকে অসুন্দরের দিকে চলে যায়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক থেকে মন উঠে যেতে থাকে।

দুইজন একই সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করা যাবে না: ধরুন আপনার কাজের প্রচন্ড প্রেশার! এর মাঝেই আপনার কোনো সিনিয়র আপনাকে একটা কাজ দিয়ে গেলো। প্রতিটা কাজই আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বুঝেই উঠতে পারছেন না কোনটা রেখে কোনটা করবেন। এর মাঝে সিনিয়র আবার এসে খুব রাগ নিয়ে আপনাকে কাজটা এখনই করে দিতে বললো! আপনিও নিতে না পেরে চেঁচামেচি শুরু করলেন। সিনিয়র আরও জোড়ে জোড়ে রাগ করে কথা বলা শুরু করলো! এতে কী হবে শেষ পর্যন্ত একবার ভেবে দেখুন তো? কলিগদের মধ্যে সম্পর্কে নেগেটিভিটি আর কলহ বেড়ে যাবে। কাজ করার পরিবেশ থাকবে না। মানসিক অশান্তি বেড়ে যাবে।

লজিক্যাল কথাগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বুঝিয়ে বলুন: যখন আমরা রাগ করে থাকি তখন স্বাভাবিকভাবেই চাই আরেকজন আমার জায়গাটা বুঝবে। ধরুন, আপনি আমার উপর কিছু নিয়ে খুব রাগ করে আছেন। আপনার জায়গাটা আমি শুনতে বা বুঝতেই চাচ্ছি না। কিন্তু চাচ্ছি আপনি আমার কথা শুনবেনই। এক পর্যায়ে আমি আপনাকে লজিক দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি।

ঝগড়াকালীন চিন্তার বাইরে যেয়ে লং টার্ম চিন্তা করতে হবে: ঝগড়াকালীন সময়ে কমবেশি আমরা সবাই যে ভুলটি করি তা হলো, ভবিষ্যতের কথা একেবারেই চিন্তা করি না! ঝগড়াঝাঁটি বা মনোমালিন্য কিন্তু সবচেয়ে বেশি আমাদের কাছের মানুষদের সাথেই হয়। বাবা-মার সাথে ঝগড়া করে একটু পর তা ঠিকও হয়ে যায়। একইভাবে ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী বা অফিসে কারো সাথে ঝগড়াঝাঁটি হলেও দিনশেষে আমাদের কিন্তু এই মানুষগুলোকে নিয়েই থাকতে হয়।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading