মধ্যরাতে আদালত ছাড়লেন ইমরান: পাকিস্তানের রাজনীতি এখন উত্তপ্ত
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৩ মে ২০২৩ । আপডেট ১৪:১০
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর চেয়ারম্যান ইমরান খানকে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। তবে দেশটির সরকার আদালতের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইমরান খানকে আবারও গ্রেপ্তার করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন সাময়িকভাবে ইমরান খানের বিজয় হলেও থাকছে দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ। এ নিয়ে সাদিত কবির’র প্রতিবেদন
ইমরানের জামিন, গ্রেপ্তারে ১৫ মে পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছিলো সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে তাকে ইসলামাবাদ হাইকোর্টেও হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলো দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১২ মে) ইসলামাবাদ হাই কোর্ট ইমরান খানকে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন দিয়েছেন। হাইকোর্টের (আইএইচসি) একটি ডিভিশন বেঞ্চ ইমরানের জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছে ডন অনলাইন। শুধু তাই নয় ইমরান খানকে গ্রেপ্তারে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতে হাজির হওয়ার ১১ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পুলিশের পাহারায় ইসলামাবাদ হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ ছাড়েন ইমরান। জামিন পেলেও ইমরান খান আদালতে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জামিনের লিখিত নির্দেশ দাবি করেন। তিনি আশঙ্কা করছিলেন হাইকোর্ট থেকে বের হলে আবার তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হতে বাধা দিলে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ইমরান বলেছিলেন, ১৫ মিনিটের মধ্যে রাস্তার উন্মুক্ত করুন অথবা আমি পরবর্তী করণীয় ঘোষণা করব।
রাজধানী ইসলামাবাদের বাইরে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ইমরানের বিরুদ্ধে যেসব মামলা করা হয়েছে, সেসবের ওপর এই ৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে; আর ইসলামাবাদের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন ও আদালতে যেসব মামলায় ইমরানকে আসামি করা হয়েছে সেসবের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ হবে ১৭ মে পর্যন্ত। বিচারক মিয়ানগুল হাসান আওরঙ্গজেব ও বিচারক সামান রাফাত ইমতিয়াজের ডিভিশন বেঞ্চ আদালতের ২ নম্বর কক্ষে ইমরানের জামিনের আবেদনের শুনানি করেন।
এ সময় ইমরানের আইনজীবীরা অতিরিক্ত আরও চারটি আবেদন দাখিল করেন। এসব আবেদনে ইমরানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা একত্রিত করার এবং সেসব মামলার বিস্তারিত জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে নিদের্শনা দিতে আইএইচসির কাছে আর্জি জানানো হয়। ইমরানের জামিনে তার দলের নেতাকর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও শাহবাজ শরিফ সরকার এই আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাই কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে আল কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরানকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করেছিল পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো-এনএবি। এই গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ইমরান খান আদালতের ভেতরে থাকা অবস্থায় বাইরে কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ডন। ৩০ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত তিনটি গুলিবর্ষণ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এতে কেউ হতাহত হয়নি।
ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে এটি দ্বিমুখী নীতি, বললেন শাহবাজ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট যা করছে, তা রীতিমতো দ্বিমুখী আচরণ। এ ধরনের আচরণের কারণে আমাদের বিচার বিভাগের মৃত্যু হয়েছে। ইমরান খান ইস্যুতে আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার (১২ মে) তিনি এ মন্তব্য করেছেন। শাহবাজ শরীফ বলেন, পাকিস্তান মুসলিম লীগের (এন) প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তখন তো সুপ্রিম কোর্ট এ রকম হস্তক্ষেপ করেননি। তাইলে এখন করছেন কেন?

শাহবাজ শরীফ
দেশের অন্যান্য রাজনীতিবিদদের প্রতি বিচার বিভাগের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শাহবাজ। বলেছেন, মিথ্যা অনেক মামলায় রাজনীতিবিদদেরকে জেলে পাঠানো হয়েছে। কোনও আদালত কি কখনও সেগুলো আদৌ লক্ষ্য করেছে?ন্যাশনাল একাউন্টেবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) মামলার ইতিহাস সম্পর্কে মন্তব্য করে শাহবাজ বলেন, দুর্নীতি বিরোধী এই প্রতিষ্ঠান কাউকেই ছাড় দেয়নি। শিল্প, শিক্ষা থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান- গোটা দেশকেই তারা বিষিয়ে তুলেছে। দেশের অন্যান্য রাজনীতিবিদরা বিচারের মুখোমুখি হয়েছে এবং তাদের ক্ষেত্রে কঠোর আচরণ করা হয়েছে, যেখানে ইমরান খানের জন্য সুবিধাজনক ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে এটিই দ্বিমুখী নীতি।
তিনি আরও বলেন, আপনারা (আদালত) যদি এই লাডলাকে (আদরের দুলাল) সুবিধা দিয়ে যান, তাহলে আপনাদের কারাগারে থাকা সব ডাকাতকেও মুক্তি দিতে হবে।
ইমরান খানের সরকার উৎখাতে আমেরিকার ষড়যন্ত্রের অভিযোগের প্রতি ইঙ্গিত করে শাহবাজ শরিফ বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে এসব অভিযোগ মিথ্যা। পিটিআই নেতৃত্ব পাকিস্তানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের মুদ্রার মূল্যমান খারাপ সময় পার করছে। পরিস্থিতি আরও কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। আগের সরকার আইএমএফের সঙ্গেকার চুক্তি ভঙ্গ করেছিল। আমরা সেগুলো ঠিকঠাক করার চেষ্টা করছি।
আবারও গ্রেপ্তার হবেন ইমরান, পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আবারও গ্রেপ্তার করা হবে। পাকিস্তানের দুনিয়া টিভিকে এ কথা বলেন রানা সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা তাকে (ইমরান) আবার গ্রেপ্তার করব। তিনি যদি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান, তাহলে আমরা তা বাতিলের জন্য অপেক্ষা করব।
এদিকে, দেশটির তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেছেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ইমরান খানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে তার দেশে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা নেই। তার দাবি, সব কাজকর্ম স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলবে। ডন নিউজের ‘লাইভ উইথ আদিল শাহজেব’ অনুষ্ঠানে দেওয়া মরিয়ম এসব কথা বলেছেন। মরিয়ম বলেন, পিটিআই নেতা ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় যে কয়েকটি বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ।

রানা সানাউল্লাহ
মরিয়ম আরও বলেন, সরকারের ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার ইচ্ছা নেই। জোট সরকারের বৈধ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করতে চায় না। পিটিআইকে নিজেদের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলকে কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে যে তারা রাজনৈতিক দল।
ইমারনের অভিযোগের তীর সেনাপ্রধানের দিকে
পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান আসিফ মুনিরের সঙ্গে কার্যত আদায়-কাচকলায় সম্পর্ক ইমরানের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। শুক্রবার জামিন পাওয়ার পরে ফের সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি। ইমরান বলেন, দেশকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছেন সেনাপ্রধান। দেশের যে ক্ষতি তিনি করেছেন, সেই ক্ষতি আমাদের দেশের শত্রুরা করেনি। তিনি আরও বলেন, গত মঙ্গলবার আমার ওপরে যে হামলা হয়েছে, তা সাধারণ নিরাপত্তা রক্ষীরা করেননি। একজনের নির্দেশে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আর কেউ নন। আমাদের সেনা প্রধান। তার একটাই ভয়, যদি আমি আবার ক্ষমতায় ফিরে আসি, তাহলে তাকে সেনা প্রধানের পদ খোয়াতে হবে।

আসিফ মুনির
গত বছরের এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান আগাম নির্বাচনের দাবি তুলে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। তিনি সরকার এবং পাকিস্তানের খুবই ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা অব্যাহত রাখেন এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করেন। গত বছরের নভেম্বরে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নেয়ার সময় ইমরান খানের প্রাণনাশের চেষ্টার সময় তার পায়ে গুলি লাগে, সেই ঘটনার জন্যও তিনি উচ্চপদস্থ সরকারি এবং সেনা কর্মকর্তাদের দায়ী করেন। আবার পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর জন্যও আদালতের এই রায় এক ধাক্কা।
পাকিস্তানের সরকার সাধারণত প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সমর্থন খোঁজে। সেনাবাহিনী ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটি শাসন করেছে। দেশটিতে তিনবার রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা থেকে সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইমরানের অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এক বিরল বিবৃতি ইস্যু করার পরই ইমরান খান গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এখন তিনি ছাড়া পাওয়ায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতই আরও বাড়ার পট প্রস্তত হল।
ইমরান খান যখন ২০১৮ সালে ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসেন তখন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার মধুর সম্পর্ক ছিল। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, সেনাবাহিনী সাহায্য নিয়েই তিনি সেবার বিজয়ী হন। কিন্তু চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে একটা পর্যায়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্কে টানাপোড়ন তৈরি হয়। গত কয়েক মাসের ঘটনায় বোঝা যায়, তাদের সম্পর্ক এখন কতটা বৈরি হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খান হয়ে ওঠেন সেনাবাহিনীর সবচেয়ে কঠোর সমালোচক।পাকিস্তানের অবনতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সংযম প্রদর্শন এবং আইনের শাসন বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, এরকম পরিস্থিতিতে সংযম প্রদর্শন এবং মাথা ঠাণ্ডা রাখা দরকার। পাকিস্তানের যেসব চ্যালেঞ্জ তা মোকাবেলা এবং দেশটি কোন পথে যাবে তা একমাত্র পাকিস্তানের জনগণই নির্ধারণ করতে পারে। সেটা করতে হবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এবং আইনের শাসন বজায় রেখে।
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা গোয়েন্দা সংস্থার
হাইকোর্টে শুনানির আগে ইমরান খান বলেছেন, গ্রেপ্তার করার পর তার সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন তদন্তকারী সংস্থা পাকিস্তানের জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো-ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) সদস্যরা। তবে গ্রেপ্তার করার সময় তার মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের ইমরান আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তিনি বলেন, আমি এনএবি সদস্যদের অনুরোধ করেছিলাম, তারা যেন আমাকে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেন। পরে ল্যান্ডফোনে বুশরার সঙ্গে কথা বলতে দেন তারা। ইমরানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ হয়। এতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইমরান খান বলেন, আমি আগেই আপনাদের বলেছিলাম যে আমাকে গ্রেপ্তার করা হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হবে। তাই যা হয়েছে, সেটা আমি কীভাবে থামাব? শুনানি চলাকালে ইমরান বলেছিলেন, তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হলে দেশজুড়ে অশান্তি দেখা দিতে পারে, তবে তিনি এমনটি চান না। এর আগে তার জন্য পুলিশ লাইন্সে স্থাপিত বিশেষ আদালতে তিনি বলেছিলেন, গ্রেপ্তারের পর তাকে বীষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হতে পারে। ইমরান খানের জামিনে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার রয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা দ্য ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শও দিয়েছে আইবি।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৩ মে ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা
শুক্রবার (১২ মে) ইসলামাবাদ পুলিশের চিফ কমিশনার নূর-উল-আমিন মাঙ্গেল এবং মহাপরিদর্শক ড. আকবর নাসির খানের কাছে একই চিঠির পৃথক দু’টি অনুলিপি পাঠিয়েছে আইবি। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ইমরান খান নিয়াজি বহুদিন ধরে তার উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে পাকিস্তানের সাধারণ জনগণকে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি ক্ষিপ্ত করে তুলছেন এবং তার বিভিন্ন বক্তৃতার জেরে সম্প্রতি রাজধানী ইসলামাবাদসহ দেশজুড়ে একাধিক দাঙ্গা হয়েছে।গত মঙ্গলবার ইসলাবাদ হাইকোর্ট থেকে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে যে ব্যাপক বিক্ষোভ-ভাঙচুর হয়েছেÍ সে সম্পর্কে ইঙ্গিত করে চিঠিতে বলা হয়, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে
পাকিস্তানের সরকারি ও বেসরকারী সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইসলামাবাদ বিমানবন্দগামী সড়ক তারা বন্ধ রেখেছে, খাদ্যপণ্য সরবরাহের গাড়ি রাজধানীতে ঢুকতে বাধা দিয়েছে।এক কথায় বলতে গেলে, জনবিক্ষোভের আবরণে একদল দুষ্কৃতিকারী সেদিন ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে ফেলেছিল। যদি ইমরান খান নিয়াজি জামিন পেয়ে যান, সেক্ষেত্রে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আরও ভয়াবহভাবে ঘটার সম্ভাবনা আছে। তাই রাজধানী পুলিশের প্রতি আইবির পরামর্শ ইসলামাবাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আপনারা সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। সেই সঙ্গে ইমরান খান নিয়াজি বর্তমানে যেখানে রয়েছেন, সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠিন ও নিশ্ছিদ্র করুন।
ইউডি/এজেএস

