আসছে বাজেট: সামনে যত চ্যালেঞ্জ
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২২ মে ২০২৩ । আপডেট ১৪:৩০
আগামী ৩১ মে জাতীয় সংসদে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর একদিন পরই (পহেলা জুন) বাজেট উপস্থাপন করা হতে পারে। সবমিলিয়ে এ বছর সাড়ে সাত লাখ কোটির বেশি টাকার বাজেট হতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত, মূল্যস্ফীতিসহ বিবিধ কারণে এ বছরের বাজেটের সামনে বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ নিয়ে সাদিত কবির’র প্রতিবেদন
২০২৩-২০২৪ অর্থবছর: আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে ১২ শতাংশ: বাংলাদেশের ৫২তম এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৪তম বাজেট পেশ হতে যাচ্ছে আগামী ১ জুন। সবকিছু ঠিক থাকলে ১ জুন জাতীয় সংসদে সরকারের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৯১ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে বাজেটের এই আকার পরিবর্তনও হতে পারে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার বাড়তে পারে ১২ শতাংশ বেশি। অর্থমন্ত্রী সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ জুন ২০২৩ সালের ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন।
জানা গেছে, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীদের দেওয়া বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন ও উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবারের বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে। এগুলো মোকাবিলা ও সমন্বয় করে নির্বাচনের বছরে কীভাবে ব্যয় সমন্বয় করা যাবে, তা নিয়ে বাজেটের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, অন্যসব বছরের তুলনায় এ বছরের বাজেট কিছুটা চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠবে। সরকারকে একদিকে জাতীয় নির্বাচনের কথা বিবেচনায় রেখে জনগনের সুবিধার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তগুলো বাস্তবায়নেরও চাপ থাকবে। ফলে এর সাথে ভারসাম্য রেখে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় আর প্রবৃদ্ধির ওপর সরকার কতটা গুরুত্ব দিতে পারবে, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এ বছরের বাজেটে আইএমএফের শর্তগুলো অনেকটা ‘ছায়া’ আকারে থাকবে। আইএমএফের ঋণ অব্যাহত রাখতে যতটা সম্ভব তাদের শর্তগুলোও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা থাকবে। সেখানে কী সমন্বয় আনা হবে, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সচেতন সরকার: পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার একটি স্থায়ী সমস্যা আমাদের রয়েছে। এটির উন্নতি হচ্ছে, তবে এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা যেতে পারিনি, অনেক গ্যাপ আছে। দ্বিতীয়ত মূল্যস্ফীতি, এই দুটিই মূল চ্যালেঞ্জ। এগুলো আরও কিছুদিন থাকবে। তবে এগুলো অবশ্যই আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। সরকার এ বিষয়ে খুব সচেতন। সম্প্রতি বাজেট নিয়ে প্রত্যাশা শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া বিদ্যুৎঘাটতির প্রেক্ষিতে সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে সরকারের যাওয়া উচিত। বিজিএমইএর সভাপতি বললেন, গার্মেন্ট খাতে অর্ডার কমছে। গত কয়েকবছরের মধ্যে এই কথাটি প্রথম শুনলাম। কেন অর্ডার কমছে, কীভাবে বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এ বিষয়টি গুরত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কারণ আমাদের বৈদেশি মূদ্রা আয়ের এটিই সবচেয়ে বড় খাত। এ ছাড়া রিসাইকেলিংয়ের যে বিষয়টি উঠে এসেছে, এ ধরনের কাজে অবশ্যই উৎসাহ দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। অগ্রিম কর এবং অগ্রিম ভ্যাট নিয়ে অনেক সমস্যা আছে, এগুলো সমাধান করা খুবই দরকার। পাশাপাশি এসএমই খাতের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাতে নারীরা সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমাদের এই খাতের উদ্যেক্তাদের আরও উৎসাহ দিতে হবে। বাজেটে ভর্তুকির বিষয়ে এমএ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা বলেছেন। তিনি চাচ্ছেন, ভর্তুকি আখেরে ভালো নয়। তবে দুই ধরনের ভর্তুকি আছে, ভালো ভর্তুকি এবং খারাপ ভর্তুকি। যেমন কৃষি খাতে ভর্তুকি দেওয়া ভালো। সারা পৃথিবীর দুয়ার যদি বন্ধ হয়ে যায় অন্তত ঘরে যদি চাল থাকে খেয়ে-পরে বাঁচতে পারবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে যা বলছেন অর্থনীতিবিদগণ: দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এ বছরের বাজেটে কী ধরনের প্রস্তাবনা করা হয়, সেটির দিকে অর্থনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষ- সবাই তাকিয়ে রয়েছেন। সেটা রক্ষা করাই এই বাজেটের জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে বলে মনে করেন অর্থনীতি বিশ্লেষকেরা। মহামারির কারণে ২০২০ এবং ২০২১ সালে পরপর দুই বছর অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছিল, সেটা ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেটে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বের অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়েছে, বাংলাদেশের মতো অনেক দেশে ডলার সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ বছরেও সে অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। এজন্য দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও কৌশলগত ত্রুটিকেও দায়ী করেনঅর্থনীতিবিদেরা। বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার ছিল নয় দশমিক ৩৩ শতাংশ। সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক রায়হান বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কী করা হচ্ছে, বাজেটে সেটার পরিষ্কার ধারণা তৈরি করতে হবে। বিশ্বের বাজারে অনেক কিছুর দাম কমে আসলেও তার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে দেখা যাচ্ছে না। এসব সংকট কীভাবে সামলানো হবে, তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাজেটে থাকা দরকার। না হলে বড় সংখ্যক একটা জনগোষ্ঠী মূল্যস্ফীতির চাপে বড় ধরনের বিপদে পড়ে যাবে।

জনমুখী বাজেট: বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সুযোগ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির যে অস্থিতিশীলতা রয়েছে, তা সমাধানে মূল্যস্ফীতি, বিনিময় মূল্যের অস্থিরতা, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ঘাটতি কমিয়ে আনা আর রিজার্ভ কমে যাওয়া- এসবের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বাজেটে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। এসব কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া, শ্রম বাজারে সংকট তৈরি হওয়া, এবং সামাজিক সহায়তা কর্মসূচী সীমিত হয়ে পড়া- এগুলোর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কেবল জনতুষ্টিমূলক বাজেট দেয়ার সুযোগ খুব সীমিত বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে আগে সব সরকারই জনতুষ্টিমূলক বাজেট দিতে চায়। কিন্তু আর্থিক অবস্থা, রাজস্ব ঘাটতি, বৈদেশিক ঘাটতির কারণে সরকারের সামনে সে জন্য সুযোগ খুব সীমিত। সেরকম বড় কোন চেষ্টা করতে গেলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরে। তিনি আরও বলেন, মনে রাখা দরকার, এই বাজেট কিন্তু দুটি সরকার বাস্তবায়ন করবে। এই বাজেটে সে নমনীয়তাও রক্ষা করতে হবে। কারণ সরকার যদি বড় কোন প্রতিশ্রুতিও দেয়, সেটা কতটা কার্যকর করতে পারবে, সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, প্রবৃদ্ধির যে ধারা ছিল, সেই ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যত্যয় এসেছে। এটা আরও কমে যাচ্ছে, কারণ টাকাও নেই, ডলারও নেই। দুইটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি একসাথে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তাই সরকারকে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে, নিজের বিনিয়োগ কর্মসূচী সীমিত রাখতে হচ্ছে। ফলে আগামী বছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও সংযতভাবে দিতে হবে। আর্থিক কাঠামোটা আসলে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আশঙ্কা করছেন, বৈশ্বিক মন্দা অবস্থার কথা বিবেচনা রেখে, উন্নত দেশগুলোয় পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক বিনিয়োগে। এ সবগুলো খাতই কিছুটা সংকটের মধ্যে রয়েছে। তার প্রভাব পড়তে পারে রাজস্ব আদায়ে। বাজেটে এসব বিষয় ঠিকমতো বিবেচনায় রাখা না হলে পরবর্তীতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান গণমাধ্যমকে বলেছেন, আগের নির্বাচনী বছরগুলোকে যদি দেখেন, সেই সময় অর্থনীতি তেমন একটা সংকটের মধ্যে ছিল না। ফলে সে সময় জনতুষ্টির বাজেট করেও অর্থনীতির ক্ষেত্রে নতুন বড় ধরনের কোন চাপ তৈরি হয়নি। কিন্তু এবার যদি নির্বাচনকে সামনে রেখে শুধু জনতুষ্টির কথা বিবেচনা করেই বাজেট করা হয়, সেটা অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে। তিনি মনে করেন বাজেটে এই ক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য রাখতে হবে। সেজন্য অতিরিক্ত খরচ এড়িয়ে চলা, এখনি প্রয়োজন হবে না এমন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ না করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

রাজস্ব আদায় ইস্যুতে আইএমএফ’র পরামর্শ কি?
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশে বরাবরই বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, কখনোই সেটা পুরোপুরি সফল করা যায় না। এ জন্য দেশের রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থাপনাকে যেমন দায়ী করা হচ্ছে, তেমনি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নানারকম ছাড় দেয়াকেও দায়ী করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফও রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাপনা সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে। প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে, নতুন করদাতাদের শনাক্ত করে কর আদায়, মূল্য সংযোজন কর আদায়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। এই অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হলেও সেখানে এখনো ৩০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এ বছর আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে কর্মকর্তাদের বক্তব্যে। আইএমএফের শর্তে জিডিপির অতিরিক্ত দশমিক পাঁচ শতাংশ রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগামী অর্থ বছরের বাজেটে বেশ কিছু শুল্ক-কর ছাড় সুবিধা বাতিল, কর অবকাশ সুবিধা কমানোর প্রস্তাবনা আসতে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু খাতের ওপর থেকে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা তুলে দেয়া হতে পারে। গত বছরের এই সময়ে যেখানে দেশে রিজার্ভ ছিল সাড়ে চার হাজার কোটি ডলারের বেশি, এই বছরে সেটি তিন হাজার ১০০ ডলারে এসে ঠেকেছে।ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। রিজার্ভ কমে যাওয়া ঠেকাতে কোন পদক্ষেপ চলতি বাজেটে এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে না। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে নজর দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। আইএমএফ কিছু সংস্কারের কথা বললেও তার কিছু বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, কিছু এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে ব্যাংকিং এবং আর্থিক খাত খেলাপি ঋণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আইমএফের শর্তের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা এবং আর্থিক খাতের সংস্কারকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
ইউডি/কেএস

