‘পাকিস্তানে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ’
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৬ জুন ২০২৩ । আপডেট ১৩:০০
গত বছরের শেষের দিকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক আহমাদ নুরানী পাকিস্তানের এক সাবেক সেনাবাহিনী প্রধানের কর সংক্রান্ত নথি ও সম্পত্তি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই সাংবাদিক জানান, তিনি তার প্রতিবেদনে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ উন্মোচিত করেন।
তিনি ভেবেছিলেন, কর্তৃপক্ষ এই সম্ভাব্য অন্যায়ের তদন্ত করবে। ভয়েস অফ আমেরিকাকে তিনি বলেন, ‘কিন্তু তারা অভিযোগ তদন্তের বদলে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।’ তার প্রতিবেদন প্রকাশের ১ মাস পর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা নুরানীর বিরুদ্ধে তাদের প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) নথিভুক্ত করে। এটা হলো কোনো আইনি অভিযোগ আনার প্রথম ধাপ। তারা জানায়, নুরানী তার প্রতিবেদনে কর সংক্রান্ত যেসব নথি পর্যালোচনা করেছেন, সেগুলো তিনি অবৈধভাবে জোগাড় করেছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ, নুরানীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা দাবিগুলো অস্বীকার করেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সাংবাদিকরা তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতার ঊর্ধ্বে নন।’
নুরানী স্বীকার করেন যে অন্য কারো কর সংক্রান্ত নথি দেখার অধিকার নেই তার। তিনি আরো জানান, কেউ যদি গণমাধ্যমের কাছে এ ধরনের কোনো যাচাইকৃত তথ্য ফাঁস করেন, যা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট, তবে একজন সাংবাদিকের এটি ব্যবহার করার অধিকার রয়েছে। আমেরিকায় অবস্থানরত সাংবাদিক নুরানী আরো বলেন, ‘পাকিস্তানে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সীমাহীন ক্ষমতা উপভোগ করেন। এই পরিস্থিতির কারণে, দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পরিণত হয়েছে।’
নুরানী তার প্রতিবেদনটি ফ্যাক্টফোকাস নামে একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ করেন। আমেরিকা নির্বাসিত থেকে তিনি এক দল সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে এই সংবাদ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। এই ওয়েবসাইটে, পাকিস্তানের দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই মামলায় নুরানীকে ‘ঘোষিত পলাতক অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যার অর্থ, তিনি যদি আত্মসমর্পণ করেন, তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা তার সম্পদ ও সম্পত্তি ক্রোক করার প্রক্রিয়া চালু করতে পারেন।
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক শাহিদ আসলামকেও এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে কর সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করেছেন। আসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আসলাম বলেন, ‘আমি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। আমার মনে সব সময় আশঙ্কা, আমাকে আবারও হয়রানি, ধাওয়া করা ও ভয় দেখানো হতে পারে।’
ইউডি/এ

