পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা, ৫ পুলিশসহ গুলিবিদ্ধ ৬
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (২২ এপ্রিল) ২০২৬, আপডেট ১৪:৪০
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে টহল দেওয়ার সময় বালু উত্তোলনকারী দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় নৌ পুলিশের পাঁচ সদস্যসহ ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুষ্টিয়ার হরিপুর সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত পুলিশ সদস্য ও নৌকার মাঝি সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল নিয়মিত টহল ডিউটি পালন করছিল। রাত দেড়টার দিকে তারা জানতে পারেন, পদ্মা নদীর কুষ্টিয়া অংশের হরিপুর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে পুলিশের দলটি সেখানে অভিযানে যায় এবং বালু উত্তোলনে বাধা দেয়। এ সময় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির একপর্যায়ে নৌকায় থাকা ৫ পুলিশ সদস্য ও মাঝি গুলিবিদ্ধ হন।
হামলায় আহতরা হলেন- লক্ষীকুণ্ডা নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য ইনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া ও নৌকার মাঝি তুহিন মালিথা।
আহতদের মধ্যে মানিক মিয়ার শরীরে গভীর ক্ষত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লক্ষীকুণ্ডা নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে আমরা অভিযানে গিয়েছিলাম। তাদের কাজ বন্ধ করতে নিষেধ করার সাথে সাথেই তারা আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে আমরা ছয়জন আহত হয়েছি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
ইউডি/রেজা

