কান্নাভেজা চোখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন তামিম
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৬ জুলাই ২০২৩ । আপডেট ১৩:৪০
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন তামিম ইকবাল। চট্টগ্রামের একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘোষণা দেন তামিম। আগের দিন আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনিই। নিজ শহরের মাঠে সেই ম্যাচটিই হয়ে থাকল তার ক্যারিয়ারের শেষ। ৩৪ বছর বয়সী ওপেনার বিদায় বলে দিলেন সিরিজের মাঝপথেই।
বিদায়ের কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে ধরে আসে তার কণ্ঠ। মাথা নিচু করে চোখের পানি মুছতে দেখা যায় তাকে। সিদ্ধান্তটি হুট করে নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতকালকের ম্যাচটিই আমার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। এই মুহূর্ত থেকে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছি।এটার পেছনে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটা নিয়ে ভাবছিলাম আমি… এটার ভিন্ন ভিন্ন কারণ আছে, যেটা আমার মনে হয় না এখানে বলার দরকার আছে। এটা না যে হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বেশ কিছু দিন ধরেই কথা বলছিলাম, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলছিলাম। আমার মনে হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময় এটিই।
সাম্প্রতিক সময়টাতে চোট নিয়ে বেশ ভুগছিলেন তামিম। চোটের কারণে গত ডিসেম্বরে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে খেলতে পারেনি তিনি। পিঠের নিচের অংশের পুরনো ব্যথা মাথাচাড়া দেওয়ায় কিছুদিন আগে খেলতে পারেননি আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে। চলতি ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগের দিনও তিনি জানান যে, শতভাগ ফিট নন। প্রথম ম্যাচ খেলার পর অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন। শেষ পর্যন্ত তার সেই সিদ্ধান্ত চোট-টোটের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেল ক্যারিয়ারের শেষ বিন্দুতে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে যায় ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। স্রেফ চার ওয়ানডের অভিজ্ঞতায় খেলতে যান বিশ্বকাপে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে স্মরণীয় এক জয়ে দাপুটে ফিফটি করে নজর কাড়েন ক্রিকেট বিশ্বের। এরপর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ক্রমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন দেশের সফলতম ব্যাটসম্যান হিসেবে। বাংলাদেশের ব্যাটিং রেকর্ডের অনেকগুলোই নিজের করে নেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক ‘প্রথম’ কিছুর জন্ম হয় তার হাত ধরে।
বিদায় বেলায় তার নামের পাশে ৭০ টেস্টে ৩৮.৮৯ গড়ে রান ৫ হাজার ১৩৪। সেঞ্চুরি ১০টি, ফিফটি ৩১টি। টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরি তার। ওয়ানডে ২৪১টি খেলে ৩৬.৬২ গড়ে রান ৮ হাজার ৩১৩। ১৪ সেঞ্চুরির পাশে এখানে ফিফটি ৫৬টি। এই সংস্করণে দেশের হয়ে রান, সেঞ্চুরি, ফিফটি, সবকিছুতেই তিনি সবার ওপরে। ৭৪ ম্যাচে ১ হাজার ৭০১ রান নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছেন গত জুলাইয়েই। এই সংস্করণে দেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান তিনি।
তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১৫ হাজার রান করা দেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরি ২৫টি। বাংলাদেশের হয়ে ২০ সেঞ্চুরিও নেই আর কারও।
ইউডি/এজেএস

