নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ: প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটুক

নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ: প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটুক

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১২:৫০

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। নতুন সরকারের কাছে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকারের সামনে যত চ্যালেঞ্জ তা নিয়ে সাদিত কবির’র বিশ্লেষণ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পঞ্চমবার শপথ নিলেন শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করেছেন। তার মন্ত্রিপরিষদে ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা- ৬ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে শেখ হাসিনা ও তার নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শপথ গ্রহণের পর শেখ হাসিনা শপথ ও গোপনীয়তার শপথে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানান। এরপর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় এবার শেখ হাসিনার সঙ্গী হচ্ছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর শেখ হাসিনা তার নতুন সরকার সাজিয়েছেন ১৪ জন নতুন মুখ নিয়ে। বঙ্গভবনের আলো-ঝলমলে দরবার হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ, সংসদ সদস্যগণ, রাজনৈতিক নেতাগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের সদস্যগণ, সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির পত্নী ড. রেবেকা সুলতানা, প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে ২২২টি আসনে জয়লাভ করে। জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক দল-ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একটি করে আসন পেয়েছে। নির্বাচনে একটি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি।

পরিকল্পনার বাস্তবায়ন,সরকারের চ্যালেঞ্জ: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। এর ফলে টানা চতুর্থবার সরকার হঠন করেছে দলটি। ইতোমধ্যেই সংসদ সদস্যগণ শপথ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণও। এখন নতুন সরকারের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ ও জনগণের চাওয়া কিংবা প্রত্যাশা কি তা থাকছে আলোচনায়। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নিজেদের সামনের দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। সরকার গঠনের পর তা বাস্তবায়ন করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলছেন বিশ্লেষকগণ। আওয়ামী লীগ তাদের পরিকল্পনায় দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মতো ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ইশতেহারে স্লোগান- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে দেশ পরিচালনায় যে সফলতা পেয়েছেন এরই আেেলাকে ২০২৪ সাল থেকে স্মার্ট সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। সরকার গঠনের পর জনসাধারনের প্রত্যাশা ও আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে- দ্রব্যমূল্য জনসাধারনের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা, কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা, লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা, ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িকতা এবং সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধ করা, সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষা ও চর্চার প্রসার ঘটানো। এছাড়াও রয়েছে বিভক্ত কূটনীতিকে মর্যাদার সঙ্গে সম্মানসূচক অবস্থানে নিয়ে আসা। দেশের রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তা নিরসনে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা।

ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনের প্রত্যাশা: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রযুক্তি সক্ষমতা একান্ত প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছিলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলার অঙ্গিকার করেছে আওয়ামী লীগ। সেই পথেই কাজ করার প্রত্যাশা থাকবে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার ‘স্মার্ট নাগরিক’, ‘স্মার্ট সরকার’, ‘স্মার্ট অর্থনীতি’ ও ‘স্মার্ট সমাজ’-এই চারটি স্তম্ভের সমন্বয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

টেকসই গণতন্ত্র ও কার্যকর সংসদ ব্যবস্থা জরুরি: গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কার্যকর সংসদই পারে কেবল জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে। আর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন এবারের সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ টেকসই গণতন্ত্র ও কার্যকর সংসদ ব্যবস্থা ধরে রাখা। মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা সুদৃঢ় করা। নাগরিককেন্দ্রিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, জ্ঞানভিত্তিক, কল্যাণমুখী, সমন্বিত দক্ষ স্মার্ট প্রশাসন গড়ার মাধ্যমে জনগণকে উন্নত ও মানসম্মত সেবা প্রদান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা। বিশ্লেষকগণ বলছেন, লক্ষ্য একটাই, এগিয়ে যেতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াটা জরুরি। আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা এবং সুবিচার নিশ্চিত করাও আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ছিলো। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকুক: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্নীতির মূলোৎপাটনে মনোযোগী আওয়ামী লীগ সরকার। তাদের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছেও একই প্রত্যাশা থাকবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকগণ। শিক্ষার্থীদের মাঝে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার জন্য পাঠ্যক্রমে দুর্নীতির কুফল ও দুর্নীতি রোধে করণীয় বিষয়ে অধ্যায় সংযোজন করা হবে বলে জানিয়েছেন। এবারও সেই পথে একই নীতি অনুসরণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেণকগণ বলছেন, সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারির পরও দেশে দুর্নীতির পাঠ চুকায় নি। নতুন সরকারকে এক্ষেত্রে আরও কঠোর হতে হবে, কে কোন দলের সেই দিকে লক্ষ্য না রেখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

বৈশি^ক কূটনীতি, চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। সবসময় এই নীতিকে ধারণ করে আওয়ামী লীগ। সরকার গঠনের পরও তাদের সফল পররাষ্ট্রনীতির কল্যাণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক শক্তিশালী ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। এবারের সরকারের কাছেও প্রত্যাশা থাকবে বিদেশিদের সঙ্গে মর্যার্দাপূর্ণ সম্পর্ক বহাল রাখা। বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করা। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোর দেয়া। এছাড়াও বৈরিতাগুলোকে পাশে রেখে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দেয়া। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ছিলো নির্বাচিত হলে সকল দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা চলমান থাকবে। আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ, ট্রানজিট, জ্বালানি অংশীদারত্ব এবং ন্যায়সঙ্গত পানিবণ্টনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার বিভিন্ন নীতি নিয়ে যে প্রশ্নের জš§ হয়েছে সেগুলো আলোচনার মধ্য দিয়ে দু’দেশের পারস্পারিক সম্পর্ক উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া।

কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার ও দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হোক: নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও তরুণদের বেকারত্ব দূর করা বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, তরুণদের বেকারত্ব দূর করা আমাদের দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর ২০ লাখ তরুণকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ৫ বছরে এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা খুব জরুরি বলে আমি মনে করি। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে বলা হয়, কর্মক্ষম, যোগ্য তরুণ ও যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসার করা হবে। জেলা ও উপজেলায় ৩১ লাখ যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সহায়তা প্রদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ২০৩০ সাল নাগাদ অতিরিক্ত ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেকার যুবকদের সর্বশেষ হার ১০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। নিরক্ষর ও স্বল্পশিক্ষিত তরুণ ও যুবসমাজের জন্য যথোপযুক্ত কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়ে ইশতেহারে বলা হয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আত্মকর্মসংস্থানে উদ্যোগীদের সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা এবং ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হবে। ইশতেহারে আরও জানানো হয়, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ যুবকদের অনুপাত আগামী ৫ বছরে ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হবে। আগামী ৫ বছরে ২ লাখ যুবকদের মধ্যে ৭৫০ কোটি টাকা যুব ঋণ বিতরণ করা এবং ২ লাখ ৫০ হাজার যুবককে আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া নারীর শ্রমে অংশগ্রহণের বাধা দূর করা এবং নারীশ্রমিক সংগঠন সুসংহত করা হবে। ইশতেহারের এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করাই হবে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলছেন বিশ্লেষকগণ।

রাজনীতিতে অস্থিরতা নিরসন হোক: নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা এখনও বহাল রয়েছে। দেশের মানুষও দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই সময় নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসন। সেক্ষেত্রে আলোচনা-সংলাপ হতে পারে সহজ সমাধান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে নেয়া নতুন সরকারের জন্য দৃষ্টান্তমূলক অর্জন হবে বলে মনে করছেন তারা।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পরীক্ষা: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিজ্ঞানে সমৃদ্ধ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাও নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে শিক্ষানীতির লক্ষ্য অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করা নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা। ইশতেহার আলোকে শিক্ষার উন্নয়ন ও বিকাশ হলে সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য নিরসনে গতিবেগ সঞ্চারিত হয়। এই বিশ্বাস থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়াবে এবং তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করবে এটাই প্রত্যাশা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারী শিক্ষকের অনুপাত ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা, দরিদ্র ও দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর সন্তানদের উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ আরও প্রসারিত করা জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদগণ। এদিকে, রূপকল্প-২০২১ এর ধারাবাহিকতায় রূপকল্প-২০৪১ এর কর্মসূচিতে মৌলিক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবা উন্নত ও সম্প্রসারিত করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ অব্যাহত রাখা তাদের অঙ্গিকার। এরই ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে একটি ইউনিক হেলথ আইডি প্রদান এবং হাসপাতালে অটোমেশন ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে স্বাস্থ্যখাতের জন বড় অর্জন।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও ভাবতে হবে: জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা, দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা এবং পানিসম্পদ রক্ষায় যে সকল নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য উৎপাদনশীল/সামাজিক বনায়ন ২০ শতাংশে উন্নীত; বড় নগরে বায়ুর মান উন্নয়ন; শিল্পবর্জ্য শূন্য নির্গমন/নিক্ষেপণ প্রবর্ধন; আইনসংগতভাবে বিভিন্ন নগরে জলাভূমি সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা; সমুদ্র উপকূলে ৫০০ মিটার বিস্তৃত স্থায়ী সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য বড় অর্জন।

‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা চ্যালেঞ্জিং ক্রমান্বয়ে উন্নত হবে’: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা চ্যালেঞ্জিং কিন্তু এটি ক্রমান্বয়ে উন্নত হবে। আমি ডেমোক্রেসিকে পারফেক্ট ভাবি না। পৃথিবীর কোথাও সুশাসনও পারফেক্ট না। যারা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলে দাবি করে তাদেরও সুশাসনে ঘাটতি আছে। তাদের গণতন্ত্রেও ঘাটতি আছে। বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, তরুণদের বেকারত্ব দূর করা আমাদের দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর ২০ লাখ তরুণকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ৫ বছরে এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা খুব জরুরি বলে আমি মনে করি।

‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব’: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিমøলে নানা চ্যালেঞ্জ চলছে। সমস্ত চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে দেশকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা অতিতেও সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। সেই প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে দেশে একটি সুন্দর সফল ও জনগণের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামনের চ্যালেঞ্জগুলো আমরা মোকাবিলা করে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব।তিনি বলেন, আমরা জানি আন্তর্জাতিক পরিমøলে নানা চ্যালেঞ্জ চলছে। সমস্ত চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে দেশকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।

ইউডি/সুপ্ত/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading