হুথিদের ওপর আমেরিকা-ব্রিটেনের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে কি যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে?

হুথিদের ওপর আমেরিকা-ব্রিটেনের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে কি যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে?

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৪:৪০

ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ব্রিটেন যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত করতে উসকানি দিতে পারে বলছেন বিশ্লেষকগণ। ইসরায়েল-হামাস সংঘাত নাটকীয়ভাবে আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে আশিকুর রহমান’র প্রতিবেদন

ওপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান উত্তেজনা: ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক স্থাপনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ব্রিটেন। ১৬টি স্থানের ৬০টির বেশি লক্ষ্যে হামলা চালানো হয়েছে। এতে করে ইরানের সহায়তাপুষ্ট গোষ্ঠীটির রাডার ও অস্ত্রাগার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে হুতিরা। হুতি হামলা মোকাবিলায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ১০টি দেশ নিয়ে লোহিত সাগরে একটি সামরিক জোট করে আমেরিকা। ‘ওপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’ নামের জোটটি গঠনের পরই হামলা অব্যাহত রেখেছে হুতিরা। অন্যদিকে ইসরায়েল হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটিও সবদিকে নজর রাখছে। হামলায় অংশ না নিলেও সম্মতি জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা এবং নেদারল্যান্ড। হুতিদের দাবি, গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। গোষ্ঠীটির আরও দাবি, তারা সব বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে নয়, শুধু ইসরায়েলি মালিকানাধীন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আরও হামলা হবে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকও হামলার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেছেন। তবে, এই হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। ক্ষোভ ঝেড়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল হামাস যুদ্ধ নতুন দিকে মোড় নেয়ার শঙ্কা জাগছে। যুদ্ধ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেণকগণ।

যুদ্ধে নতুন মোড়ের ঘোষণা দিল হুথি: প্যালেস্টাইনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার যুদ্ধে নতুন মোড় নিয়েছে উল্লেখ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জানিয়েছে, এই সংঘাত এখন ‘গণহত্যায় সমর্থনকারী ও বিরোধিতাকারীদের’ সংঘাতে রূপ নিল। ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ব্রিটেন গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাপক হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করল হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। শীর্ষ হুথি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইয়েমেনে হামলার মধ্য দিয়ে মার্কিন আমেরিকা ও ব্রিটেন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বোকামি করেছে। এজন্য তাদেরকে অনুশোচনায় ভুগতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে আল-বুখাইতি বলেন, লন্ডন এবং ওয়াশিংটন ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে বড় ভুল করল। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন একটি ‘অনন্য যুদ্ধ’ প্রত্যক্ষ করছে, যেখানে কারা ‘সঠিক এবং কারা ভুল’ কে সমর্থন করছে তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়। আল-বুখাইতি বলেন, এই যুদ্ধে একটি পক্ষের লক্ষ্য হল- গাজায় গণহত্যার মতো অপরাধ বন্ধ করা। আর অন্য পক্ষের লক্ষ্য- অপরাধীদের সমর্থন করা এবং রক্ষা করা। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি ব্যক্তি এখন দুটি বিকল্পের মুখোমুখি। হয় গণহত্যার শিকারদের পাশে দাঁড়াবে নয়তো অপরাধীদের পক্ষ নেবে। এখানে তৃতীয় কোনও বিকল্প নেই।উল্লেখ্য, গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিতে লোহিত সাগরে ইসরায়েল অভিমুখী ও ইসরায়েলি মালিকানাধীন জাহাজে গত দুই মাস ধরে হামলা চালিয়ে আসছিল হুথিরা। এর জবাবে এই পদক্ষেপ নিল দুই পশ্চিমা পরাশক্তি।

বিমান হামলায় হত ৫, আহত ৬: ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ব্রিটেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশ দুটি ইয়েমেনে লজিস্টিক্যাল হাব, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অস্ত্র ভাøারের অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি বলেছেন,
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এপি সাংবাদিকরা। তবে যুদ্ধবিমানের কোনও চিহ্নও দেখতে পাননি তারা। ইয়েমেনের উপকূলীয় শহর হোদেইদাহের দুই বাসিন্দা পাঁচটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। হোদেইদাহ লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত এবং হুথিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বৃহত্তম বন্দর শহর। গত ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্যালেস্টাইনিদের সমর্থনে লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দেয় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। গত দুইমাস ধরে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে আসছে তারা।এদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে ইয়েমেনের কয়েকটি শহরে হামলা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন হুতি কর্মকর্তা আবদুল কাদের আল-মোরতাদা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুতি কর্মকর্তা আবদুল কাদের আল-মোরতাদা বলেন, ইয়েমেনজুড়ে হামলা চালানো হয়েছে। রাজধানী সানা, হুদায়দাহ গভর্নরেট, সাদা ও ধামারে বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে। তাছাড়া হুতিদের লোহিত সাগর বন্দরের শক্ত ঘাঁটি হুদায়দাতেও হামলা করা হয়েছে। প্যালেস্টাইনিদের পক্ষে সমর্থন জানাতেই সেখানে হামলা শুরুর ঘোষণা দেয় হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, গাজায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দিতে হবে। ইসরায়েলগামী যেকোনো জাহাজে হামলার ঘোষণা দিয়েছে তারা। গত ১৯ নভেম্বর ইসরায়েলের মালিকানাধীন একটি জাহাজে হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। এরপর ১২ ডিসেম্বর ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকা থেকে একটি নরওয়েজিয়ান ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়। যদিও এর মালিকরা জানিয়েছেন, জাহাজটি ইসরায়েলগামী ছিল না। লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করা হয়েছে ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজকেও। এরপর একে একে বেশ কিছু জাহাজে হামলা চালানো হয়। এতে লোহিত সাগর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। লোহিত সাগর অঞ্চলে বড় আকারের সামরিক হামলা ইয়েমেনে শান্তি স্থাপনের ইতিবাচক পদক্ষেপকে ব্যাহত করতে পারে। এছাড়া পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত করতে উসকানি দিতে পারে। এর ফলে গাজায় ইসরায়েল-হামাস সংঘাত নাটকীয়ভাবে আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানপন্থি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইয়েমেনের বেশিরভাগ ভূখন্ড।

বাইডেনের হুঁশিয়ারি,আরও হামলা হবে: ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে হুথিদের বাইডেন সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে তাদের ওপর আরও হামলা চালানো হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই খবর জানিয়েছে। বাইডেন বলেছেন, হামলাগুলো ইয়েমেনের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে করা হয়েছে। সেসব এলাকাগুলো হুথি বিদ্রোহীরা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে ব্যবহার করেছিল। আমেরিকা ‘ব্রিটেনের সঙ্গে এবং অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা এবং নেদারল্যান্ডের সহায়তায়’ এই হামলা পরিচালনা করেছে বলেও জানান তিনি। ওই বিবৃতিতে বাইডেন আরও বলেছেন, হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে করা এই হামলাগুলো একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, আমেরিকা এবং আমাদের অংশীদাররা আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ সহ্য করবে না বা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে চলাচলের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে শত্রুদের অনুমতি দেবে না। এসময় হুথিদের বাইডেন সতর্ক করে বলেন, আমাদের জনগণকে এবং প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহকে রক্ষা করতে আমি আরও ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করব না।

ব্রিটেনের অংশ নেয়ার কারন জানালেন সুনাক: হামলার বিষয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির রয়্যাল এয়ার ফোর্স ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ব্যবহƒত স্থাপনায় চালানো হামলায় অংশ নিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটেন সব সময় চলাচলে স্বাধীনতা এবং বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহের পক্ষে অবস্থান নেবে। তিনি আরও বলেন, এ কারণে আমরা আমেরিকার সাথে মিলে সীমিত, প্রয়োজনীয় এবং আত্মরক্ষায় যথাযথ মাত্রার পদক্ষেপ নিয়েছি। এই অভিযানে অংশ না নিলেও এ হামলা সংশ্লিষ্ট টার্গেটগুলোর বিষয়ে সহায়তা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস, কানাডা এবং বাহরাইন। হুথিদের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত করতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

উদ্বেগ জানিয়ে যা বলল সৌদি: হুথি ইস্যুতে আমেরিকা ও ব্রিটেনের সংঘাত এড়িয়ে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্যবস্তুতে বৃহস্পতিবার দেশ দুটির সম্মিলিত বিমান হামলার পর এ আহ্বান জানানো হয়। শুক্রবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় নিযুক্ত রয়েছে সৌদি আরব। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘গভীর উদ্বেগের সঙ্গে’ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তারা। মন্ত্রণালয়টি আরও জানিয়েছে, লোহিত সাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব। কেননা, এই সমুদ্রপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা একটি আন্তর্জাতিক দাবি। পশ্চিমা-সমর্থিত এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে প্রায় এক দশকের যুদ্ধের পর ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন হুথিদের হাতে। এই প্রতিরোধ গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে আক্রমণ করছে। তাদের দাবি, এসব জাহাজ ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বা ইসরায়েলের বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
হুথিদের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ আবদুলসালাম বৃহস্পতিবার বলেছেন, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে গোষ্ঠীটির হামলা সৌদি আরবের সঙ্গে শান্তি আলোচনাকে হুমকির মুখে ফেলবে না।

ক্ষোভ ঝাড়লেন এরদোয়ান: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ব্রিটেন লোহিত সাগরকে ‘রক্তের সাগরে’ পরিণত করার চেষ্টা করছে। শুক্রবার এরদোয়ান বলেন, ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ হামলা আনুপাতিক ছিল না। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইয়েমেনে হুতিরা ‘আমেরিকার বিরুদ্ধে সফল প্রতিরক্ষা, জবাব’ দিচ্ছে। এরদোয়ান আরও বলেন, তুরস্ক বিশ্ব আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার শুনানির জন্য নথি সরবরাহ করছে এবং তা অব্যাহত রাখবে।

তীব্র নিন্দা রাশিয়ার,বলছে হুমকিস্বরূপ: ইয়েমেনে সামরিক হামলার জন্য আমেরিকা ও ব্রিটেনের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারী মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই নিন্দা জানান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, আমেরিকা ও দেশটির মিত্রদের দায়িত্বজ্ঞানহীন এমন কর্মকাøের দৃঢ় নিন্দা জানাই আমরা। তিনি আরও বলেছেন, লোহিত সাগর অঞ্চলে বড় আকারের সামরিক হামলা ইয়েমেনে শান্তি স্থাপনের ইতিবাচক পদক্ষেপকে ব্যাহত করতে পারে। এছাড়া পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত করতে উসকানি দিতে পারে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে লিখেছেন, ওয়াশিংটন এবং লন্ডন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে দেখিয়েছে নিজেদের স্বার্থে কতটুকু ধ্বংসাত্মক কাজ করতে পারে। জাখারোভা আরও লিখেছেন, ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনের অবজ্ঞার আরেকটি উদাহরণ। শুক্রবার সকালে একটি টেলিভিশন ব্রিফিংয়ের সময় জাখারোভা বলেন, ইয়েমেনে হামলা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য প্রত্যক্ষ হুমকিস্বরূপ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের নিন্দা করার আহ্বান জানান। রাশিয়া ইয়েমেনে মার্কিন-ব্রিটিশ হামলার বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। দেশটি আশা করছে শিগগিরই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এই হামলার নেপথ্যে কী: অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, কোরিয়া, আমেরিকা ও ব্রিটেনের সরকার একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এই বিবৃতিতে হুথিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের “বড় ধরণের ঐক্যমত্য” রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একই সাথে লোহিত সাগরে তাদের হামলা বন্ধ করতে বিদ্রোহীদের প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের আহ্বানের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বহুপাক্ষিক এই হামলা ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক আত্মরক্ষার স্বভাবগত অধিকারের আওতায়ই চালানো হয়েছে। এই নির্ভুল হামলাগুলো হুথিদের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত এবং কমানোর উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে যা তারা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নাবিকদের জীবনের প্রতি হুমকি হিসেবে ব্যবহার করতো। জোটভুক্ত দেশগুলো বলে, আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং লোহিত সাগরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

‘মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা বিপজ্জনক পর্যায়ে’: ইয়েমেনে হামলা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকাকে ‘খুবই বিপজ্জনক দিকে’ঠেলে দিল বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি পরামর্শদাতা গালফ স্টেট অ্যানালিটিকসের সিইও জর্জিও ক্যাফিয়েরো। তিনি বলেছেন, ইয়েমেনের হুথিদের ওপর সামরিক হামলা ছাড়াও আমেরিকার কাছে অন্য বিকল্প ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে ওয়াশিংটনের যেসব সুযোগ রয়েছে তা ব্যবহার করা। তিনি আরও বলেন, বাইডেন প্রশাসন রাজনৈতিক কারণে এটি না করে সামরিক হামলাকে বেছে নিয়েছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকাকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে টেনে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জর্জিও ক্যাফিয়েরো, এটি এমন কিছু নয় যা বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিক চায়। বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন- তারা এমন পরিণতি চান না। সুতরাং আমি মনে করি বাইডেন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

চাপে পড়তে পারে ব্রিটেনের অর্থনীতি: লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানপন্থি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় চাপে পড়তে পারে ব্রিটেনের অর্থনীতি। শুক্রবার চলমান আক্রমণে উদ্বেগ প্রকাশ করে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। লোহিত সাগরে হুথিদের ক্রমাগত আক্রমণে সংশয় প্রকাশ করে ব্রিটেনের সরকার জানিয়েছে, কার্গো চলাচলের ব্যাঘাতে যদি ট্যাঙ্কার চলাচলে সমস্যা হয় তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি জ্বালানি সংকট আসতে পারে। ব্রিটেনের অর্থ মন্ত্রণালয় অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০ ডলার এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে তেলের মূল্য তালিকা অনুসারে শুক্রবার দেখা গেছে, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি দুই শতাংশ বেড়ে প্রায় ৮৯ ডলার হয়েছে। ওদিকে আমেরিকার পশ্চিম টেক্সাসে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই দশমিক এক শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭৪ ডলার হয়েছে৷ লোহিত সাগরে হামলার কারণে ইউরোপীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানায় টেসলার উৎপাদন বন্ধ স্থগিত রয়েছে। কারখানাটি বলেছে, ঠিকমতো জ্বালানি সরবরাহ না হওয়ায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। শিপিং জায়ান্ট মারস্কের প্রধান নির্বাহী ভিনসেন্ট ক্লার্ক বলেন, লোহিত সাগরের সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে ভোক্তা পর্যন্ত গড়িয়েছে।

ইউডি/আশিক/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading