চা বাগানে মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না শিশুরা

চা বাগানে মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না শিশুরা

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৭:০০

মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি চা বাগানে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। এসব চা বাগানে মালিক পক্ষ পরিচালিত নামেমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয় বলতে মাটির দেয়ালে ছোট একটি টিনের ঘর। এসব বিদ্যালয়ে পড়াশোনার তেমন সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ নেই। নানা প্রতিকূলতায় পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠার আগেই অনেক দরিদ্র শিশুর পড়াশোনা থেমে যায়।

জানা গেছে, চা বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে কিছু বই প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বিদ্যালয়গুলো আর কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায় না। যুগ যুগ ধরে চা শ্রমিকদের শিশুরা এভাবেই সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা পাচ্ছে। চা বাগানের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না।

একজন চা শ্রমিকের মতো শিক্ষকরাও দৈনিক হাজিরার টাকা পেয়ে থাকেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দৈনিক হাজিরা ১৭০ টাকা। সঙ্গে সপ্তাহে সাড়ে তিন কেজি চাল বা আটা। এই স্বল্প বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় শিক্ষকদের। ফলে বিদ্যালয়ে পাঠদানে মনোযোগ দিতে পারেন না তারা।

চা শ্রমিকরা জানান, অনেক বছর ধরেই চা বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করার দাবি জানিয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সরকার এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণ না করায় যুগ যুগ ধরে চা শ্রমিকের সন্তানরা শিক্ষায় পিছিয়ে আছে।

সুরমা চা বাগানের শ্রমিক বিষু গোয়ালা বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েরা অনেক সুবিধা ও সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করে। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ পরিচালিত বিদ্যালয়ে শিশুরা ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারে না। এ কারণে বাগানের বাসিন্দা অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যেতে চায় না।

সুরমা চা বাগানের ১০ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শুভা কৈরি বলেন, সুরমা ১০ নম্বর ডিভিশনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যয়ভার চা বাগান কর্তৃপক্ষ বহন করে আসছে। এখানে মূলত বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের শিশুরা পড়াশোনা করে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। একজন শিক্ষক শ্রমিকের হারে দৈনিক ১৭০ টাকা হাজিরা পেয়ে থাকেন।

এত স্বল্প বেতনে শিক্ষকতা করে পরিবার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। একই বাগানের মাহঝিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকুমার পানতাতী জানান, অনেকবার দাবি করা হলেও সরকার বাগানের বিদ্যালয়গুলো সরকারীকরণ করেনি। এতে চা বাগানের শিশুরা প্রকৃত প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের সাধন সাঁওতাল জানান, সরকার বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম বা বাগানে বিদ্যালয় স্থাপন করলেও বৈকণ্ঠপুর চা বাগানে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেনি। এ কারণে ওই বাগানের শ্রমিকদের শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক জহরলাল ভুমিজ জানান, এখানে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অনেক শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় না। এতে অনেক শিশু নিরক্ষর থেকে যাচ্ছে।

মাধবপুর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম জানান, সরকার নতুন করে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করছে না। তবে কোনো চা বাগান বা গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে নতুন করে বিদ্যালয় করা হবে। হবিগঞ্জ জেলায় ৯টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে সুরমা চা বাগানে একটি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading