জাহাঙ্গীরনগরে পাখি মেলা

জাহাঙ্গীরনগরে পাখি মেলা

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৮:৪০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২২তম পাখি মেলা-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গণে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। মেলা শেষ হয় সাড়ে ১২টায়। মেলার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।

সকাল সাড়ে ৯টায় মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিবছর পাখি মেলায় দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ছুটে আসে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য। এবছর ক্যাম্পাসে পাখি কম এসেছে। কারণ মানুষ জলাশয়ের পাড়ে গিয়ে পাখিদের বিরক্ত করে। পাখিদের দিকে ঢিল ছুড়ে মারে। বহিরাগতরা ঘুরতে এসে পানিতে প্লাস্টিকসহ ময়লা-আবর্জনা ফেলে রেখে যায়। এতে জলাশয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি সমাধানের জন্য।

মেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, গত দু-তিন বছর ক্যম্পাসে পাখি কম আসছে। এর প্রধান কারণ হলো জলাশয়ের পাড়ে জনসমাগম। মানুষের ভিড়ে পাখিরা বিরক্ত হয়। ফলে তারা সেখানে বসতে আগ্রহ দেখায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ বলেন, গত কয়েক বছর আগেও আমরা যে জলাশয়গুলোতে পাখি দেখতাম এখন আর সেখানে পাখি দেখতে পাচ্ছি না। কারণ বহিরাগত দর্শনার্থীরা পাখিদের উত্ত্যক্ত করে ফলে তারা চলে যায়। এখন শুধুমাত্র ক্যাম্পাসের ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের জলাশয়ে পাখি রয়েছে। কারণ সেখানে পাখিদের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। সেখানে আমরা সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রেখেছি। আমরা চেষ্টা ক্যাম্পাসের সবগুলো জলাশয়ে এরকম পাখিদের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। এজন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এ বছর মেলা উপলক্ষে নানান কর্মসূচির আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা।

আন্তবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলারস দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, পাখি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া মেলায় বিগ বার্ড বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড, সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড, কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ও স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। প্রতি ক্যাটাগরিতে একজনকে আ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮৬ সালে প্রথম অতিথি পাখি আসে।
২০০০ সালে প্রথম পাখি মেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব। ২০০৪ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ সরাসরি সম্পৃক্ত হয়। ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলো লিজ দেওয়ার কারণে পাখি না বসায় এবং ২০২১ সালে করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে মেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এ বছর ২২তম পাখি মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

ইডিডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading