চবিতে আরও ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

চবিতে আরও ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ২০:০০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ৬ সদস্যদের একটি কমিটিও গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার ওই বিভাগের একাডেমিক কমিটির ৩৯০তম সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিভাগের সভাপতি।

এর আগে বুধবার ওই বিভাগের এক ছাত্রী একই বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপাচার্যের নিকট ধর্ষণচেষ্টার লিখিত অভিযোগ দেন। পরে গত বৃহস্পতিবার ছাত্রীরা আরও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগের সভাপতির নিকট যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন।

বৃহস্পতিবার বিভাগের সভাপতিকে দেওয়া এক অভিযোগ পত্রে এক ছাত্রী উল্লেখ করেন, মাস্টার্সের লিখিত পরীক্ষার সময় অসদুপায় অবলম্বন করার কারণে একজন স্যার কর্তৃক আমাকে বরখাস্ত করা হয়। উক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক পরীক্ষা কমিটির সভাপতি আমাকে তার রুমে একা ডেকে পাঠান।

তার রুমে প্রবেশের পর স্যার রুমে বসার নির্দেশ দেন এবং আমি চেয়ারে বসার পর হঠাৎ করে পেছন দিকে স্যার আমার কাছে চলে আসেন এবং আমি ওনার নিশ্বাসের শব্দ শুনে চমকে উঠি।

আমি চেয়ার থেকে ভয়ে উঠে চিৎকার করে কান্নাকাটি করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি রুমের দরজা লক করা।

তারপর তিনি আমাকে অনুরোধ করেন এভাবে কান্নাকাটিরত অবস্থায় বাইরে না যেতে। তারপর তিনি আমাকে কিছুক্ষণ বসিয়ে রাখেন কান্না থামানোর জন্য। পরে আমি কোনোভাবে স্বাভাবিক হয়ে রুম থেকে বের হই। এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষককে ফোন করলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একই বিভাগের ১ম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত সব বর্ষের শিক্ষার্থীদের পক্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরে বিভাগের আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, রাতে মোবাইলে কল করে বিরক্ত করা, ফেসবুকের পোস্টে বাজে কমেন্ট করা এবং বিভাগে কাউকে একা পেলে অশালীন কথাবার্তা বলা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আজকের পত্রিকাকে বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার ছেলে মেয়ের মতোই। অনেক সময় ফেসবুকে ফান করে কমেন্ট করেছি।

হয়ত কমেন্ট তাদের মনপুত হয়নি। এই ছাড়া অন্য কিছু নয়। বিভাগের সভাপতি বলেন, তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে আমরা ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছি। আমরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

এই বিষয়ের যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি।

এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত একটি বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন ওই বিভাগের এক ছাত্রী।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি যৌন নিপীড়ন সেলে পাঠানো হয়।

ইডিডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading