বিরূপ আবহাওয়া সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনের আশা গবেষকদের
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৯:৫০
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অত্যাধুনিক গ্রিনহাউস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্পের আওতায় ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই গ্রিনহাউস নির্মাণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট গবেষকদের আশা এই গ্রিনহাউসে বিরূপ আবহাওয়া সহিষ্ণু বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হবে। বাকৃবির অ্যাগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের সদ্য সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এ বি এম আরিফ হাসান খান রবিনের নেতৃত্বে অত্যাধুনিক গ্রিনহাউস তৈরি করা হয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য প্রাকৃতিক বিরূপ প্রভাব সহিষ্ণু ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবন করা।
গত বছরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবনে গবেষণা কাজ শুরু করেছেন।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যতগুলো লাভজনক, সময় উপযোগী ও কৃষি উপযোগী প্রজেক্ট আছে এসবের মধ্যে গ্রিনহাউস বা পলি হাউস বা পলি টানেল প্রযুক্তিগুলো সারা বিশ্বেই বেশ জনপ্রিয়।
এটি হচ্ছে মূলত একটি ঘর যেখানে প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদান যেমন তাপ, তাপমাত্রা, আলোর দৈর্ঘ্য, পানি, লবণাক্ততা, আর্দ্রতা ইত্যাদির মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রেখে বিভিন্ন ফসলের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করা হয়। যার ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন অব্যাহত রাখা যায়।
গবেষণার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত বাকৃবির গ্রিনহাউসে রয়েছে আটটি সাধারণ চেম্বার, একটি কোল্ড চেম্বার ও একটি হিট চেম্বার।
গবেষণার জন্যে সব চেম্বারে রোপণ করা প্রতিটি চারার পানির পরিমাণ, বিভিন্ন সারের পরিমাণ, পানি ও সার প্রয়োগের সঠিক সময় একটি কেন্দ্রীয় প্রোগ্রামিং রুমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কাজটি করা হয় তুরস্ক থেকে নিয়ে আসা সেন্সর নির্ভর এনআরআই ক্রপ টেকনোলজি মেশিনের দ্বারা।
প্রতিটি চারার জন্য যেহেতু পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ সমান নয় তাই সেন্সর নির্ভর এনআরআই ক্রপ টেকনোলজি মেশিনের মাধ্যমে প্রতিটি চারার জন্য পরিমিত পরিমাণ পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা হয়।
এ ছাড়া মেশিনের মাধ্যমে বাহ্যিকভাবে, রোপণ করা চারায় পতিত আলো, আলোক তরঙ্গের দৈর্ঘ্য, তাপমাত্রা, চারার পানি সহিষ্ণুতা, লবণাক্ততা ইত্যাদি পরিবর্তন করে সৃষ্ট পরিবেশ সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের গবেষণা করা হচ্ছে।
স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ কাজ করছেন জলবায়ু সহিষ্ণু ভুট্টার জাত উদ্ভাবন নিয়ে। তিনি দুটি আলাদা চেম্বারে ভুট্টার একই জাত নিয়ে গবেষণা করছেন।
একটি চেম্বারে স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং অন্য একটিতে অতিরিক্ত তাপমাত্রা দিয়েছেন। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রার জন্য ভুট্টা গাছের ভেতরে কী কী পরিবর্তন আসে এবং এই পরিবর্তন কীভাবে প্রশমিত করা যায় তা নিয়েই তিনি কাজ করছেন।
গবেষণাটি সফল হলে যেসব অঞ্চলে অতিরিক্ত তাপমাত্রা সেসব অঞ্চলেও তাপমাত্রা সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার জাত চাষ করা যাবে।
বাংলাদেশে বোরো মৌসুমে জলাবদ্ধ পদ্ধতিতে ধান চাষে উৎপাদন ভালো হয়। কিন্তু এই পদ্ধতির চাষে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে এটি বেশি পরিমাণে মিথেন গ্যাস নিঃসরণ করে যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক।
স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার কাজ করছেন জলাবদ্ধ পদ্ধতিতে চাষকৃত ধান গাছের ফলন ঠিক রেখে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ কম করে এমন ধানের জাত উদ্ভাবন নিয়ে।
গবেষক রবিন জানান, আমরা একটি অত্যাধুনিক গ্রিনহাউস প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। এটির মাধ্যমে উচ্চতর গবেষণার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।
এই গ্রিনহাউসে টমেটো, ভুট্টা, ধানসহ বিভিন্ন ফসলের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, অতিরিক্ত পানি সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করার জন্যে গবেষণা চলমান রয়েছে। গবেষণা মাধ্যমে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরা জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন করতে পারবে বলে আমি আশা করছি।
ফলে দেশের খাদ্যঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এই গ্রিনহাউসের মধ্যে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন ফসল ও শাকসবজি উৎপাদন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এতে করে কীটনাশকমুক্ত বিশুদ্ধ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইডিডি/এআর

