২০২৩ সালে দিনে গড়ে ৭৭টি অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি প্রায় ৮০০ কোটি টাকা
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৬:০০
২০২৩ সালে সারা দেশে ২৭ হাজার ৬২৪টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গড়ে দিনে ৭৭টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এসব আগুনের মধ্যে সর্বোচ্চ বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে, এরপরই বিড়ি সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা, চুলা ও গ্যাসের লাইন থেকে আগুনের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এক বছরে অগ্নিকাণ্ডে সারা দেশে ২৮১ জন আহত ও ১০২ জন নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে আগুনের ঘটনায় ৭৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার ১৪ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। রবিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মিডিয়া সেল কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম।
তালহা বিন জসিম জানান, ২০২৩ সালে সারা দেশে ফায়ার সার্ভিস আগুন নির্বাপণের মাধ্যমে ১ হাজার ৮০৮ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ৩২৯ টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে সারা দেশে ২৮১ জন আহত ও ১০২ জন নিহত হন। এদিকে আগুন নেভানোর সময় ৪৮ জন বিভাগীয় কর্মী আহত এবং অগ্নিনির্বাপণে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন কর্মী নিহত হন।
কারণভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৭ হাজার ৬২৪টি আগুনের মধ্যে বৈদ্যুতিক গোলযোগে ৯ হাজার ৮১৩টি (৩৫.৫২%), বিড়ি সিগারেট জ্বলন্ত টুকরা থেকে ৪ হাজার ৯০৬টি (১৭.৭৬%), চুলা থেকে ৪ হাজার ১১৭টি (১৫.১১%), ছোটদের আগুন নিয়ে খেলার কারণে ৯২৩টি (৩.৩৪%), গ্যাসের লাইন লিকেজ থেকে ৭৭০টি (২.৭৯%), গ্যাস সিলিন্ডার ও বয়লার বিস্ফোরণ থেকে ১২৫টি (০.৪৫%) এবং বাজি পোড়ানো থেকে ৮৭টি আগুনের ঘটনা ঘটে।
সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাসাবাড়ি-আবাসিক ভবনে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। সারা দেশে বাসা বাড়িতে মোট ৬ হাজার ৯৫৬টি আগুন লাগে, যা মোট আগুনের ২৫.১৮ শতাংশ। এছাড়া গোয়ালঘর ও খড়ের গাঁদায় ৪ হাজার ২৭৭টি, রান্না ঘরে ২ হাজার ৯৩৮টি, দোকানে ১ হাজার ৮২১টি, হাট বাজারে ১ হাজার ২৬৪টি, শপিং মলে ৭৫৯টি, পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৪০৩টি, হাসপাতাল/ক্লিনিক/ফার্মেসিতে ২৪৮টি, হোটেলে ২৪৬টি, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ২৩২টি, বস্তিতে ১৯৯টি, বহুতল ভবনে ১৪৭টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৪০টি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৯৬টি এবং পাট গুদাম-পাটকলে ৯৪টি আগুনের ঘটনা ঘটে।
ইউডি/এজেএস

