অপরিকল্পিত খননে সংকটে ধলাই নদ
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৭:৪০
চর জেগে ওঠায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার খরস্রোতা ধলাই নদ। চার বছর আগের অপরিকল্পিত খনন ও সংস্কারের অভাবে নটি এখন নাব্য হারাতে বসেছে। ফলে পলিমাটি জমে বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে বালুচর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে প্রায় ৬৬.৭৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কমলগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়ন দিয়ে এ উপজেলায় প্রবেশ করেছে ধলাই নদ। সীমান্তের ওপারে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৪০ কিলোমিটার আর বাংলাদেশের ভেতরে মাত্র সাড়ে ৪৮ কিলোমিটার। আঁকাবাঁকা ধলাই উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর, আদমপুর, সদর, কমলগঞ্জ পৌরসভা ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ওপর দিয়ে জেলা সদরের মনু নদে মিলিত হয়েছে।
সম্প্রতি নদের আদমপুর, ইসলামপুর, মাধবপুর, পৌরসভা, রহিমপুর ইউনিয়ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, একসময়ের ধলাই এখন বালুচর ও সরু খাল। সামান্য পানি থাকলেও নাব্য সংকটে থেমে গেছে প্রবাহ। বিশেষ করে ৫৭ কিলোমিটার এলাকায় ২০-২৫ স্থানে চর জেগেছে। ফলে বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। নদের পানি কমে চর জাগায় সেচসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকও।
স্থানীয়রা জানায়, নদে অপরিকল্পিত খননের ফলে ফিবছর পলিমাটি জমে ভরাট হওয়ায় বর্ষায় উপচে বন্যার সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ নদীর ওপর নির্ভর করে কৃষক চাষাবাদ করে। কিন্তু এটি শুষ্ক মৌসুমে মরা খালে পরিণত হয়। আদমপুরের হকতিয়ারখোলা গ্রামের কৃষক সুমন সিংহ, পৌরসভার কৃষক বাবুল আহমেদ, সাজু মিয়া, মাধবপুরের শাওন ও ফজিলত খাঁ বলেন, ‘ধলাই নদের নাব্য কমে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। চারদিকে শুধু বালুচর আর বালুচর। নদীতীরবর্তী হওয়ায় আমাদের কয়েক হাজার একর জমির বোরো আবাদ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সেচ পাম্পগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পানি উত্তোলন না হওয়ায় দিশাহারা আমরা।’
উপজেলার আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘ধলাই নদের ওপর নির্ভর করে আমাদের এলাকার কৃষক দীর্ঘদিন চাষাবাদ করে আসছে। কিন্তু নদ ভরাট হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকায় বোরো চাষাবাদ চরম হুমকির মুখে। তাই জেগে ওঠা চরগুলো দ্রুত খনন করার দাবি জানাচ্ছি।’ কমলগঞ্জ উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে উপজেলা প্রশাসন সমন্বিত কাজ করে যাচ্ছে।’
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘বর্তমানে ধলাইয়ের চর অপসারণের কোনো সুযোগ নেই। তবে চর অপসারণ ও বাঁধ মেরামতের জন্য বড় একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলে কাজ শুরু হবে।’
ইউডি/কেএস

