পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে সংকট আরও জটিল হচ্ছে

পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে সংকট আরও জটিল হচ্ছে

শফিকুল ইসলাম : রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৪:২০

রহস্যে ঘেরা পাকিস্তান। খোলসের ভেতরে সামরিকতন্ত্র আর বাইরে গণতন্ত্র। নানা নাটকীয়তার মধ্যদিয়ে বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ফল ঘোষণা শেষ হলো রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি)। অর্থাৎ চারদিন লাগলো ফলাফল ঘোষণা করতে। এটা কেবল পাকিস্তানেই সম্ভব। বিশে^র অন্য কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করতে এতো সময় লাগেনি। ভবিষ্যতে লাগবে- এমনটাও ভাবা যায় না।

যা-হোক অবশেষে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন একটি বাদে সব আসনে ফলাফল ঘোষণা করতে পেরেছে- এটাও ভালো দিক। কিন্তু এই ফলাফলও সংকট কাটাতে পারেনি।

কেননা, এই নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সরকার গঠন এখনো অনিশ্চিত। যদিও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ’র (পিটিআই) সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন ১০১ জন।

এরপরই পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) ৭৫ আসনে; পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪; মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) ১৭ আসনে জয়ী হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দল পেয়েছে ১৭টি আসন। ফলে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় যেতে পারে পিটিআই বা পিএমএল-এন।

কারণটা সরকার গঠন করতে লাগবে ১৩৪টি আসন। এক্ষেত্রে পিটিআই যদি পিপিপি’র সঙ্গে জোট করে; তাহলে আসন হয় ১৫৫টি (১০১+৫৪)। এটা সরকার গঠন করার জন্য যথেষ্ট। আবার পিএমএল-এ যদি পিপিপি’র সঙ্গে জোট করে তাহলে আসন হয় ১২৯টি (৭৫+৫৪)। এটা সরকার গঠন করার জন্য যথেষ্ট না।

ফলে আরও অন্য দলের সমর্থন লাগবে। এছাড়া পিটিআই যদি এমকিউএম এবং অন্য দলগুলোর সমর্থন নিতে পারে; তাহলে তারা সরকার গঠন করতে পারবে। অপরদিকে পিপিরি সঙ্গে এমকিউএম এবং অন্য দল জোট করলেও সরকার গঠন করা যাবে না। সব মিলিয়ে তাদের আসন হবে ৮৮টি।

এ কারণে পাকিস্তানের রাজনীতিতে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান হলো রাজনীতিতে সমঝোতা করা। পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরীফ এরই মধ্যে পিপিপি নেতা বিলাওয়াল ভুট্টোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তারা সরকার গঠন করতে একমত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে নওয়াজের দল।

জোটে যেতে রাজি হলেও বেঁকে বসেছেন বিলাওয়াল ভুট্টো। তার দলের পক্ষে দাবি করা হয়েছে নওয়াজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী হলে তারা জোট করবেন না। কিন্তু নওয়াজের পক্ষে রয়েছে সেনাবাহিনী। এই বাহিনীর প্রধান আসিফ মুনীর পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। যেভাবেই হোক- নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে চায় এই বাহিনী।

আর নওয়াজ প্রধানমন্ত্রী হবেন না- এমনটা তার দলও চায় না। সুতরাং পিপিপি’র সঙ্গে পিএমএল-এন’র জোট গঠন করা অনিশ্চিত। আবার আসা যাক পিটিআই’র সঙ্গে পিপিপি’র জোট প্রসঙ্গে।

পিটিআই’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গওহর খান বলেছেন, তারা এককভাবে ক্ষমতায় যাবেন। তার দল দাবি করেছে যে তাদের সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্ররা ১৭০ আসনে জয়ী হয়েছেন। যদিও এ কথার কোনো ভিত্তি নেই।

পিটিআই’র গওহর খান; আসাদ কাইসার ও আমী মুহাম্মাদ খানসহ শীর্ষ নেতারা জোট গঠন সম্পর্কিত বৈঠক করবেন বলে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছে। কিন্তু তারা কার সাথে জোট গঠন করবেন, তা স্পষ্ট নয়। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনে মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পিএমএল-এন ও পিপিপির সঙ্গে কোনো প্রকার জোটের আলোচনা হচ্ছে না বলে জিও টিভিকে বলেছেন পিটিআই চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা ঠিক করবেন ইমরান খান। সুতরাং বিষয়টি খুবই জটিল ও রহস্যে ঘেরা। সহজে জট খুলবে বলে মনে হয় না।

আবার ইমরান খানের দল সরকার গঠন করুক- সেটো সেনাবাহিনী চাইবে বলে মনে হয় না। কয়েক মাস আগে এই সেনাবাহিনীর কারণেই ইমরান খান ইমপিচমেন্টের মুখে পড়ে পদত্যাগ করেন।

তিনি জনসভায় তার পদত্যাগের জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেন। তর্কের খাতিরে যদি ধরেই নিই- সেনাবাহিনীর প্রবল চাপ উপেক্ষা করেই ইমরান খানের দল অন্যদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করলো; কিন্তু কতদিন সেই সরকার টিকবে- এই প্রশ্নও সামনে চলে আসছে।

লেখক: শিক্ষক ও সাংবাদিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading