তৃতীয় বছরে গড়াল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে, এই সংকটের শেষ কোথায়?
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৩:২০
দুই বছরের লড়াইয়ে চূড়ান্ত জয় ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ রাশিয়া এবং ইউক্রেন দু’পক্ষই। সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তবে এর শেষ কোথায়? এ নিয়ে আসাদ এফ রহমান’র প্রতিবেদন
যুদ্ধকালীন সময়ে ব্যাপক বাঁকবদল: ইউক্রেনের মূল ভূখণ্ডে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি)। আভদিভকা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর গত প্রায় নয় মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইউক্রেন জয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছে রাশিয়া। বিপরীতে কিয়েভের মনোবলে ফাটল ধরেছে। কী ঘটবে এখন? দুই বছরের এই লড়াইয়ে চ‚ড়ান্ত জয় ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে রাশিয়া এবং ইউক্রেন দু’পক্ষই। দুই বছর আগে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইতিহাসের বাঁকবদলের একটি অন্যতম মুহূর্ত হিসেবে ধরা হয়। যে পথ ধরে এ মুহূর্তের অবতারণা হয়েছে, তা-ও অনেকটা পরিষ্কার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত আরো দীর্ঘায়িত হলেও সম্মুখযুদ্ধে জয় কেউ কখনই অর্জন করতে পারবে না। চলমান এই যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র কার্যকর কৌশল হচ্ছে কূটনৈতিক উপায়ে শান্তি চুক্তি করা। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর আভদিভকা কিয়েভের হাতছাড়া হয়ে যায়। এতে করে রুশ বাহিনী মানসিকভাগে আরও চাঙা হয়ে উঠে। সেই সঙ্গে তারা তাদের পূর্বমূখী অভিযান আরও দৃঢ় করার পথে এগিয়ে গেছে। এই সংঘাতে রাশিয়া অর্থনৈতিক দিক থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি বিক্রি করে ইতোমধ্যে মস্কো শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে। এমনটি এনডিটিভিতে প্রকাশিত মতামতে জানিয়েছেন এক বিশ্লেষক। অন্যদিকে, ইউক্রেনের জন্যে এই যুদ্ধ একটি নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সশস্ত্র বাহিনীতে জনবল এবং গোলাবারুদের অভাব তীব্র হয়েছে। মিত্র পশ্চিমাদের সাহায্যও ফুরিয়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আরও অস্ত্রের জন্য যে আবেদন করেছিলেন তা পরবর্তীতে বাদ দেন। তিনি বুঝতে পারেন ‘অস্ত্রের কৃত্রিম সংকট’ পক্ষান্তরে রুশ বাহিনীর মনোবলকেই আরও শক্তিশালী করবে। যুদ্ধকালীন এই সময়ে ব্যাপকভাবে বদলে যাচ্ছে রাশিয়ার প্রেক্ষাপট।
যে সকল কারণে বাড়ছে উদ্বেগ: গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর পলিটিক কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা স্ট্যানোভায়া বলেছেন, পশ্চিমের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধের গতিপথ রাশিয়ার পক্ষে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য পুতিন ২০২৪ সালকে ‘বড় সুযোগ’ হিসেবে দেখেছেন। তাতিয়ানা ধারণা করছেন, পুতিন ইউক্রেনে পশ্চিমা সামরিক সহায়তায় সাময়িক ছেদ আশা করছেন। গোলাবারুদ উৎপাদন ২০২৫ সালের প্রথম দিকে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সামনে মার্কিন নির্বাচন। এ অবস্থায় কিয়েভকে সমর্থন করার মতো ভ‚রাজনৈতিক কৌশলের দিকে আমেরিকা কম নজর দিতে পারে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। ফলে কিয়েভের সমর্থনে তাদের ক্ষতি পূরণ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে রাশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। সংঘাতের মধ্যে জনসাধারণের মধ্যে ক্লান্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রাশিয়া বিরাট ক্ষতির মুখে পড়েছে। পশ্চিমারা বলছে, এ পর্যন্ত রাশিয়ার পক্ষে ৩ লাখ ৫০ হাজার সৈন্য হতাহত হয়েছে। সুতরাং রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা পশ্চিমাদের কিছুটা আশান্বিত করতে পারে।

ভলোদিমির জেলেনস্কি
ইউক্রেন হারেনি কিন্তু করছেটা কী: সম্প্রতি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর আভদিভকা রুশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণে নেয়। গত বছরের মে থেকে এ পর্যন্ত এটাই ছিল রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বিজয়। আর এই ক্ষতিকে গোলাবারুদের ঘাটতির সরাসরি পরিণতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। কিয়েভের সাংস্কৃতিক ইতিহাসবিদ নাটালিয়া ক্রাইভদা অবশ্য আভদিভকার পতনের জন্য ইউক্রেনের জাতীয় ঐক্যের অভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের রাষ্ট্রহীন জাতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, তাই তখন মানুষ দায়িত্ব নিয়েছিল। তারা আদেশের অপেক্ষা করেনি। বরং যুদ্ধের প্রথম বছরে শক্তিশালী নতুন ইউক্রেনীয় পরিচয় তৈরি করতে প্রাণপণ লড়াই করেছে। কিন্তু সেই ঐক্যে এখন ফাটল ধরতে শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত দুই বছরে ইউক্রেনীয়রা কতটা অর্জন করেছিল। দুই বছর মানে ৭২৪ দিন। এই সময়ে ইউক্রেন জয় না পেলেও হেরে যায়নি। কিন্তু যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায়, সামরিক সরবরাহ কমে যাওয়ায়, মার্কিন আর্থিক সহায়তা স্থগিত ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগামীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনায় ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সেদেশর মানুষসহ পশ্চিমারা।
ফলে ইউক্রেনে স্পষ্টতই দেখা দিয়েছে বিভাজন। যুদ্ধের এই পর্যায়ে, স্বেচ্ছায় যুদ্ধে যাবে এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। কারণ ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী বিজয়ী হতে পারে এবং দ্রুত সব হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে পারবে বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে না। যুদ্ধের তৃতীয় বছরটি ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে কঠিন হতে পারে। কারণ যুদ্ধের প্রথম বছরে পশ্চিমারা ভাবতে পারেনি যে, ইউক্রেন রাশিয়ার সামনে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু তবুও তারা শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে গেছে। দুই বছর আগে রাশিয়া আক্রমণ চালালে, খুব সামান্যই প্রতিরোধের সম্মুখীন হতো। কিন্তু এখন এটা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য লড়াই করাও দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির কথাও ভাবা হচ্ছে। ফেসেনকো বলেছেন, যদি আমরা পরের বছরটিকে থাকতে পারি, তাহলে সম্ভবত এক ধরনের যুদ্ধবিরতির আলোচনা করতে বাধ্য হবো। কিন্তু এখানেও কিছু কথা রয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের সম্পূর্ণ পরাজয় এখনও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য এক অসম্ভব স্বপ্নই বটে। কারণ এর আগেও রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করেছিল। আর ২০১৪ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে ‘মিনস্ক শান্তিচুক্তি’ করেছিল। মূলত ওই চুক্তির ফলেই ৮ বছরের জন্য যুদ্ধ থেমে ছিল। কিন্তু রাশিয়া সেই চুক্তি ভঙ্গ করে ইউক্রেন আক্রমণ করে। কিন্তু আবারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে, রাশিয়া যে আবারও ইউক্রেন আক্রমণ করবে না, তার কোনও বিশ্বাস নেই। তিতুশকোর মতে, শান্তিপূর্ণ জীবনে ফিরে যাওয়ার পর, আবারও যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে আসা কঠিন। মস্কো তার কথা রাখবে, সেটা এখন আর কোনও ইউক্রেনীয় নাগরিকই বিশ্বাস করে না। তাই এবার আমাদের ভালোর জন্যই তাদের শেষ করতে হবে। যুদ্ধে জিততে হবে।

ভ্লাদিমির পুতিন
পুতিনের আত্মবিশ্বাস বাড়ার নেপথ্যে: ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশী ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরু করে রাশিয়া। সে হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত তৃতীয় বছরে গড়িয়েছে, হতাহত হয়েছেন পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। তারপরও এ যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এ নিয়ে কোনো সমঝোতার আশাও দেখা যাচ্ছে না। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বরাবরই দাবি করে আসছেন আশানুরূপ সাফল্য পায়নি রুশ বাহিনী।
অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই যুদ্ধজয় নিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে এখন বেশি আশাবাদী বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন আশাবাদের পেছনে রণক্ষেত্রে কিয়েভের সীমিত সাফল্য, ইউক্রেনকে ৬০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বিল পাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও স¤প্রতি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর আভদিভকার দখলের মতো বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে যুদ্ধের দুই বছর ধরে পুতিন বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন এবং দেশে ও বিদেশে তার শত্রæদের পরাজিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি আমেরিকা, ন্যাটো এবং ইইউ-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পশ্চিমা এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এটা সত্য, প্রেসিডেন্ট পুতিন এখন এ কারণে আত্মবিশ্বাসী যে তিনি পশ্চিমা বিশ্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন। তাই তাকে ভুল প্রমাণ করার মতো কিছু একটা করে দেখানো আমাদের দায়িত্ব। এদিকে পুতিন ক্রমেই আত্মবিশ্বাসী বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। গত ডিসেম্বরে তিনি বিবৃতিতে বলেছিলেন, ইউক্রেনের ‘ভবিষ্যৎ নেই’। সম্প্রতি বিতর্কিত ডানপন্থি মার্কিন টিভি সাংবাদিক টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় ‘প্রকৃত অর্থে অসম্ভব’। পশ্চিমা নেতারা পুতিনের এই বক্তব্যের জোরালো জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়াকে পরাজিত করাই হচ্ছে তাদের একমাত্র বিকল্প।
কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই লক্ষ্য: ইউক্রেনের ওদেসা বন্দরনগর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করবে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট পুতিনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান ডেপুটি চেয়ারম্যান ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ রুশ গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা কোথায় থামব? আমি জানি না। আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের সবকিছু অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কি কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ নেব? এর উত্তর, হ্যাঁ। এটা সম্ভবত কিয়েভ হতে পারে। এখন না হলেও পরের কোনো এক সময়। এ সংঘাতে কোনো একপর্যায়ে তা হতে পারে। মেদভেদেভ বলেন, ওদেসা ঘরে ফিরছে। আমরা শহরটির ইতিহাস অনুযায়ী একে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার অপেক্ষায় আছি।
ফল ভোগ করবে কয়েক প্রজন্ম: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার ট্যুর্ক বলেছেন, এই যুদ্ধের ফল কয়েক দশক ধরে মানুষ ভোগ করবে। তিনি অবিলম্বে রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। ট্যুর্ক বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পুরোদস্তুর আগ্রাসনের একটা ভয়ঙ্কর মানবিক মূল্য রয়েছে। লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়েছে। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন তদন্ত করার দাবিও তুলেছেন। তিনি বলেছেন, যারা অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ট্যুর্ক বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ তৃতীয় বছরে প্রবেশ করতে চলেছে। এই যুদ্ধ থামার কোনও ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে প্রচুর মানুষ ও পশুর মৃত্যু হয়েছে। ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা চলেছে। ইউক্রেনের লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কয়েকশ হাসপাতাল ও স্কুল ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউক্রেনের মানুষ কয়েক প্রজন্ম ধরে এর ফল ভোগ করবেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার মনিটরিং মিশন জানিয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধের ফলে ১০ হাজার ৫৮২ জনের মারা যাওয়ার বিষয়টি তারা যাচাই করে দেখেছেন। এছাড়াও আরও অনেকে মারা যেতে পারেন। মৃতের সংখ্য়া আরও অনেকটাই বাড়বে। ইউক্রেনের বন্দর ওডেসাতে রাশিয়ার ড্রোন হামলা হয়েছে। এর ফলে পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের সংখ্যা জানা যায়নি।

প্রায় দেড় কোটি ইউক্রেনীয় বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে : ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের দুই বছর পূর্ণ হলো। এই সময়ের মধ্যে ইউক্রেনের ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ নিজের বাড়ি থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্যুর্ক। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইউক্রেনের বাড়ি ছেড়ে পালানো মানুষদের মধ্যে অন্তত ৬৫ লাখ অন্য দেশে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছে। এ ছাড়া অন্তত ৩৭ লাখ মানুষ দেশের ভেতরেই এখন উদ্বাস্তু। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান সতর্ক করেন-যুদ্ধের কোনো শেষ নেই। যুদ্ধ লাখ লাখ বেসামরিক মানুষের জন্য অপরিমেয় দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে প্রজন্মের ধরে অনুভ‚ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইউক্রেনে জাতিসংঘ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলেছে-২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তারা ১০ হাজার ৫৮২ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। আর আহত হিসেবে ১৯ হাজার ৮৭৫ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে ওই প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, তারা ইউক্রেন এবং পূর্ব ইউরোপের ১১টি দেশে অন্তত ৬৫ লাখ শরণার্থীকে সহায়তা করেছে। চলতি বছর প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখ মানুষকে কোনো না কোনোভাবে মানবিক সহায়তা দিতে হবে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিদেশ থেকে যারা আবারও ইউক্রেনে ফিরে গেছেন তারা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তাহীনতা, জীবিকার অভাব, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ঘর এবং পর্যাপ্ত পরিষেবার অভাব।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা
পশ্চিমাদের সমরাস্ত্র কেনকাজে লাগাতে পারছে না ইউক্রেন?: রুশ সেনাদের মোকাবেলায় আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ইউক্রেনকে আধুনিক সমরাস্ত্র সরবরাহ করেছে। তবে সেই অস্ত্রও নাকি ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছে না ইউক্রেন। রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ আনাতোলি মাতভিচুক দাবি করেছেন, পশ্চিমাদের সরবরাহ করা আধুনিক সমরাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারছে না ইউক্রেনীয় বাহিনী। রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর এই সাবেক কর্নেলের মতে, আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের টেকসই পরিকল্পনার অভাবেই ইউক্রেন অস্ত্র হাতে পেয়েও কাজে লাগাতে পারছে না। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম স্পুতনিকের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করেছেন তিনি। আনাতোলির দাবি, আমেরিকা ও তার মিত্ররা কিয়েভকে স্বল্প মেয়াদে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র পাঠায়। তবে তার আগে মোটেও ভাবনাচিন্তা করে না পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেল রবার্ট স্টর্চের তথ্যমতে, গত বছর ইউক্রেনকে ব্র্যাডলি ফাইটিং ভেহিকল, এম-১ আব্রামস ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। তিনি স্বীকার করেছেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়াই ইউক্রেনকে এগুলো সরবরাহ করা হয়। ফলে ইউক্রেন এই সমরাস্ত্র কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করবে, কীভাবে মেরামত করবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পরিকল্পনা নেই। আর সেকারণেই ইউক্রেন এই সমরাস্ত্র জুতসইভাবে ব্যবহার করতে পারছে না।
ইউডি/এজেএস

