রাজধানীতে শব্দের মাত্রা কোন এলাকায় কেমন?

রাজধানীতে শব্দের মাত্রা কোন এলাকায় কেমন?

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০৪ মার্চ, ২০২৪, আপডেট ১৭:০০

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় দিবাকালীন (সকাল ৬টা থেকে রাত ৯ টা) সবচেয়ে বেশি শব্দ থাকে। এই সময়ে এই এলাকায় শব্দের মাত্রা ১০৩ দশমিক ৮ ডেসিবেল। অন্যদিকে রাত্রিকালীন (রাত ৯টা থেকে সকাল ৬ টা) সময়ে শব্দের মাত্রা সবচেয়ে বেশি লালবাগে, যার মাত্রা ১০১ দশমিক ৫ ডেসিবেল। সোমবার (০৪ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা) আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীতে শব্দদূষণের বর্তমান চিত্র ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান।

তিনি জানান, গত দুই মাসে ঢাকা মহানগরীর ৪৫টি এলাকায় দিবা ও রাত্রিকালীন শব্দের মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে। জরিপকৃত এলাকাগুলোকে নীরব, আবাসিক, মিশ্র ও বাণিজ্যিক এলাকায় ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। জরিপের ফলাফল তুলে ধরে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, নীরব এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা সবচেয়ে বেশি সচিবালয় এলাকায়, যা ১০১ দশমিক ৭ ডেসিবেল এবং রাত্রিকালীন শব্দের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ধানমন্ডি ল্যাবএইড এলাকায়, যা ১০১ দশমিক ৫ ডেসিবেল। মিশ্র এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বাংলামোটর যা ১০৩ দশমিক ৮ ডেসিবেল এবং রাত্রিকালীন শব্দের মাত্রা সবচেয়ে বেশি লালবাগ সেকশনে, যা ১০১ দশমিক ৫ ডেসিবেল।

তিনি আরও জানান, এ ছাড়া রাজধানীতে নীরব এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা ৮৪ দশমিক ৫ থেকে ১০১ দশমিক ৭ ডেসিবেল এবং রাত্রিকালীন ৯৬ দশমিক ৪ থেকে ১০১ দশমিক ৫ ডেসিবেল। আবাসিক এলাকায় দিবাকালীন ৮২ দশমিক ০ থেকে ৯১ দশমিক ০ ডেসিবেল এবং রাত্রিকালীন ৮৩ দশমিক ০ থেকে ৯১ দশমিক ৬ ডেসিবেল থাকে। মিশ্র এলাকায় দিবাকালীন ৯১ দশমিক ০ থেকে ১০১ দশমিক ৫ ডেসিবেল এবং রাত্রিকালীন ৮৯ দশমিক ০ থেকে ১০৩ দশমিক ৮ ডেসিবেল। বাণিজ্যিক এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা ৯২ দশমিক ০ থেকে ৯৭ দশমিক ০ ডেসিবেল এবং রাত্রিকালীন ৯১ দশমিক ০ থেকে ৯৯ দশমিক ০ ডেসিবেল পর্যন্ত হয়েছে। প্রকৌশলী আবদুস সোবহান জানান, বাসের ভেতর ৮০ দশমিক ৪ থেকে ৮৩ দশমিক ৯ ডেসিবেল। বাংলামোটরে শব্দের মাত্রা ১০৩ দশমিক ৮ ডেসিবেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শব্দের মাত্রা ৮৬ দশমিক ০০ থেকে ৯৪ দশমিক ০০ ডেসিবেল। সচিবালয় এলাকায় শব্দের মাত্রা ৯৬ দশমিক ০০ থেকে ১০১ দশমিক ৭ ডেসিবেল। সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ডাকসুর সাবেক জিএস ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, ‘শব্দ সরাসরি স্বাস্থ্যকে আঘাত করছে। এটা আমাদের বোধশক্তি নষ্ট করে দিচ্ছে। শব্দের ডেসিবেল মাত্রা যদি অনেক বেশি হয়, তাহলে শুধু শ্রবণের ক্ষতি না, উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে হৃদ্রোগের ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হতে পারে। মানুষ বা যে কোনো প্রাণী যখন ক্রমাগত স্ট্রেসে থাকে তখন তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading