শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা: ড. ইউনূসের দণ্ড স্থগিতের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা: ড. ইউনূসের দণ্ড স্থগিতের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪০

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের চার শীর্ষ কর্মকর্তার ছয় মাসের সাজার রায় স্থগিতের যে আদেশ শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল দিয়েছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশ সংশোধন করে চারটি নির্দেশনা দিয়ে সোমবার (১৮ মার্চ) রায় ঘোষণা করেছে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের বেঞ্চ।

এর ফলে ইউনূসসহ চার আসামির ৬ মাসের দণ্ড বহাল থাকবে। তবে সাজাভোগ, জরিমানা এবং কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা স্থগিত থাকবে। ইউনূসের পক্ষে হাই কোর্টে শুনানি করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। কলকারখানা অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। পরে খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, শ্রম আদালতের দেওয়া দণ্ডের রায় ও আদেশ (জাজমেন্ট অ্যান্ড অর্ডার) স্থগিত করেছিল শ্রম আপিলের ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু রায়ে সাজা ও দণ্ড দুটি বিষয়। সাজা স্থগিত করা যায়, দণ্ড স্থগিত করা যায় না। হাই কোর্ট দণ্ড স্থগিতের অংশ বাতিল করে বাকি তিনটি বিষয় স্থগিত করেছেন।”
তিনি বলেন, রায়ে চারটি বিষয় আছে। এক- দণ্ড স্থগিত হবে না, বহাল থাকবে। দুই- সাজাভোগ, তিন-জরিমানা এবং চার-কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা – এ তিনটি স্থগিত থাকবে।”

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা ওই মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে গত ১ জানুয়ারি রায় দেয় ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। সাজাপ্রাপ্ত অপর তিনজন হলেন গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন ইউনূসসহ চারজন। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল ওই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে এবং তৃতীয় শ্রম আদালতের দেওয়া রায় ৩ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করে চারজনকে জামিন দেয়। ৩ মার্চ ফের শুনানি শেষে জামিনের সময় পরবর্তী তারিখ ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। শ্রম আদালতের রায় ও আদেশ স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশের অংশবিশেষের বৈধতা নিয়ে হাই কোর্টে রিভিশন মামলা করেন কলকারখানা অধিদপ্তরের আইনজীবী। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়।

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সেই আদেশ কেন বাতিল হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। ইউনূসসহ চারজন এবং রাষ্ট্রের পক্ষে ঢাকার জেলা প্রশাসকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।সেই সঙ্গে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় সাজার রায় থেকে অব্যাহতি পাওয়া মুহাম্মদ ইউনূসকে বিদেশ যাওয়ার সময় আদালতকে অবহিত করে যেতে বলা হয়। সেই রুলের শুনানি শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করল হাই কোর্ট।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading