দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে দৌড়ে পালালেন এসআই

দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে দৌড়ে পালালেন এসআই

সিরাজুল ইসলাম । শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪, আপডেট ২০:৩০

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানায় কর্মরত এসআই মনিরুজ্জামান শনিবার (২৫ মে) রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে দৌড়ে পালিয়ে গেছেন। পপি বেগম নামে এক যৌনকর্মীকে তিনি সেখানে শাসাতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, এসআই মনিরুজ্জামান এক সময় গোয়ালন্দ থানায় কর্মরত ছিলেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পপি বেগম নামে এক যৌনকর্মী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ দেন। এতে পপি দাবি করেন, ২০১৬ সালের ১০ জুন রাত দেড়টার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর অন্তরার বাড়ি থেকে তাকে এসআই মনিরুজ্জমান ৪ থেকে ৪জন সহযোগী গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান। সে সময় তাকে জানানো হয়, তিনি (পপি) মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি। শিবালয় থানায় আরও দুটি মামলা আছে। এসআই মনিরুজ্জামান তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এসআই তাকে বাড়ির মালিকের (অন্তরা) কাছ থেকে টাকা নিয়ে দিতে বলেন। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে ৪ থেকে ৫টি মামলা দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। পরে তার ঘর থেকে ১৭ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলা দেওয়া হয়। এটা সাজানো নাটক বলে দাবি করেন পপি। ওই মামলায় তিনি ৮ মাস কারাগারে ছিলেন। কোর্ট থেকে নকল তুলে তিনি জানতে পারেন, চার্জশিটে তার বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় দুটি এবং গোয়ালন্দ থানায় একটি অভিযোগ থাকার কথা বলা আছে। কিন্তু শিবালয় থানার মামলায় তিনি আসামি নন।

এই অভিযোগের তদন্ত করছেন রাজবাড়ীর একজন সহকারী পুলিশ সুপার। আগামীকাল রবিবার (২৬ মে) এসআই মনিরুজ্জামানের বক্তব্য শুনবেন তদন্ত কর্মকর্তা। আগের দিন শনিবার তিনি রাজবাড়ীতে যান। বিকাল ৪টার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর প্রধান গেটে তিনি পোশাক পরে একজন কনস্টেবলসহ উপস্থিত হন। সেখানে বেশ কয়েকজন বাড়িওয়ালী ও যৌনকর্মী হাজির হন। একপর্যায়ে তিনি অভিযোগকারী যৌনকর্মী পপি বেগমকে ডেকে আনেন। তিনি তাকে শাসাতে থাকেন বলে পপি অভিযোগ করেন। এসময় সাংবাদিক আসার খবরে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য এসআই মনিরুজ্জামানকে মোবাইল ফোনে কল করা হয়; কিন্তু তিনি সংযোগ কেটে দেন। পরে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর কয়েকদিন আগে এসআই মনিরুজ্জামান এই প্রতিবেদককে বলেন, তিনি স্ট্রোক করেছেন। পপির অভিযোগের বিষয়ে তার কিছু মনে নেই। কাগজপত্র দেখে তিনি বলতে পারবেন।

ইউডি/সিরাজ

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading