দেশে দিনদিন চেনা দুর্যোগগুলো যেন অচেনা হয়ে উঠছে
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪, আপডেট ১৮:৪৫
দেশে দিনদিন চেনা দুর্যোগগুলো অচেনা হয়ে উঠছে, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় বন্যা-ঘূর্ণিঝড়গুলো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। একইসঙ্গে অতি উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রবল খরা দেশের জন্য বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সবমিলিয়ে চেনা দুর্যোগগুলো দিনদিন অচেনা হয়ে উঠছে। এই বছরে যদি দেশে আরও দুয়েকটা ঘূর্ণিঝড় হয়, তাহলে সেটা রিকভারি করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে।
সোমবার (১০ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও সেভ দ্য চিলড্রেনের যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশের উত্তর ও উপক‚লীয় অঞ্চলের জন্য স্থানীয় জনগণ ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিশুদের জন্য পূর্বাভাস ভিত্তিক বহু আপদ মোকাবিলায় কার্যকর পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ শীর্ষক কর্মশালা তিনি এসব কথা বলেন। মিজানুর রহমান বলেন, অতিস¤প্রতি ঘূর্ণিঝড় রেমালে আমরা দেখেছি ৪টি হাইটাইম নিয়েছে, যদিও অন্যান্য সময়ে সিঙ্গেল টাইমই হয়ে থাকে। অর্থাৎ রেমালে আমাদের উপক‚লে ৪টি জোয়ার হয়েছে। এতে করে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা পুষিয়ে উঠতে ওইসব এলাকার মানুষের যথেষ্ট সময় লাগবে। রেমালে ফিশারি সেক্টরেও বড় ক্ষতি হয়েছে, এবছর হয়ত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দক্ষিণাঞ্চলে হয়ত এমন একটা সময় আসবে, যখন পয়সা দিয়েও জমি কিনতে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে দেশে আমরা হিট ওয়েভ দেখেছি, তাপমাত্রায় পূর্বের সব রেকর্ড স্পর্শ করেছে। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি পরবর্তী হিট ওয়েভ আসার আগেই একটা প্রটোকল তৈরি করে ফেলতে পারব। আমাদের অবস্থান থেকে এসব দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ডিজি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালে ৫ জেলায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
রেমালের এ তাÐবে ভোলায় ৩, বরিশালে ৪, পটুয়াখালীতে ৪, পিরোজপুরে ৬ ও বরগুনা জেলায় ১ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। বড়দের মধ্যে ৫ নারী, ৫ পুরুষ এবং শিশুদের মধ্যে ৩ জন নারী এবং ৫ জন পুরুষ। আমরা চেষ্টা করেছি ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা করতে। আমাদের সতর্কতায় যদি তারা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসতো, তাহলে হয়ত ক্ষতিটা হতো না। কোনো মূল্যবান প্রাণ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এটাই আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, এখনকার অনেক পরিবারেই শিশু নেই। তারপরও প্রতিবছর প্রায় ১৯-২০ হাজারের মতো মানুষ মারা যাচ্ছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। একটা সার্ভেতে আমরা দেখেছি, আরবান এলাকার ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী সাঁতার জানে না। গ্রামেও আগের মতো শিশুদের সাঁতার শেখানো হচ্ছে না। কিন্তু এই সমস্যার কারণেই দেশে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। অথচ ইউরোপ-আমেরিকায় শিশুদের ছোটবেলায়ই সাঁতারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ইউডি/এজেএস

