আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল-কুফল

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল-কুফল

ইরফান তানজিল । মঙ্গলবার, ০২ জুলাই, ২০২৪, আপডেট ১১:১৫

মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর করে যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। এটি কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কম্পিউটার দ্বারা অনুকৃত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এখন হয়ে উঠেছে একটি একাডেমিক শিক্ষার ক্ষেত্র, যেখানে পড়ানো হয় কীভাবে কম্পিউটার এবং সফটওয়্যার তৈরি করতে হয় যা বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করবে। কম্পিউটারকে মিমিকস কগনেটিক এককে আনা হয়, যাতে করে কম্পিউটার মানুষের মতো ভাবতে পারে। যেমন, শিক্ষা গ্রহণ এবং সমস্যার সমাধান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো মেশিন দ্বারা প্রদর্শিত বুদ্ধি।

কম্পিউটার বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণার ক্ষেত্রটি ‘বুদ্ধিমান এজেন্টের’ অধ্যয়ন হিসেবে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করে: ‘যে কোনো যন্ত্র যা তার পরিবেশকে অনুধাবন করতে পারে এবং এমন কিছু পদক্ষেপ নেয় যা কিছু লক্ষ্য অর্জনে তার সাফল্যকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নেয়[’। ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয় তখন, যখন একটি মেশিন তার জ্ঞানীয় ফাংশনগুলোকে কার্যকর করে, যেখানে অন্যান্য মানুষের মনের সঙ্গে মিল থাকে, যেমন, ‘শিক্ষা গ্রহণ’ এবং ‘সমস্যা সমাধান’। আন্দ্রেয়ার কাপলান এবং মাইকেল হেনলিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংজ্ঞায় বলেন ‘এটি একটি সিস্টেমের বহির্ভূত তথ্য সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারার ক্ষমতা, এমন তথ্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং ঐ শিক্ষা ব্যবহার করে অভিযোজনের মাধ্যমে বিশেষ লক্ষ্য ঠিক করা’। মেশিন যখন ক্রমবর্ধমানভাবে সক্ষম হয়ে উঠে, তখন মানসিক সুবিধার জন্য বুদ্ধিমত্তাকে সংজ্ঞা থেকে সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে যে সক্ষমতাগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে সেগুলো মানুষের বক্তব্যকে সফলভাবে বুঝতে পারে, কৌশলগত গেম সিস্টেম যেমন: দাবা বা উচ্চতর স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালাতে পারে, সামরিক সিমুলেশন এবং জটিল উপাত্ত ব্যাখ্যা করতে পারে। এআই গবেষণাকে কতগুলো উপশাখায় বিভক্ত করা যেতে পারে যা নির্দিষ্ট সমস্যা, দৃষ্টিভঙ্গি, বিশেষ সরঞ্জামের ব্যবহার বা নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনগুলোর দিকে ফোকাস করে।

কম্পিউটারে দ্রুতই উন্নত পরিসংখ্যান কৌশল, বড় পরিমাণে তথ্যের মধ্যে প্রবেশ এবং শিক্ষা ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে অগ্রগতি লাভ করে। ২০১০-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত, সারা পৃথিবীতে মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করা হতো। ২০১৫ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য একটি মাইলফলক বছর ছিল। গুগলের মধ্যে এআই ব্যবহার করার জন্য ২৭০০-এরও বেশি প্রকল্পে ‘স্পোরাইডিক ব্যবহার’ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে ত্রুটির হার ২০১১ সাল থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ক্লাউড কম্পিউটিং অবকাঠামোর উত্থানের ফলে এবং গবেষণা সরঞ্জাম ও ডাটাসেটগুলোর বৃদ্ধির কারণে সাশ্রয়ী মূল্যের স্নায়ুবিক নেটওয়ার্কগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য উদাহরণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মাইক্রোসফটের স্কাইপে সিস্টেমের ডেভেলপমেন্ট যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করতে পারে এবং ফেইসবুক সিস্টেম অন্ধ মানুষদের কাছে চিত্রের বর্ণনা করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামগ্রিক গবেষণার লক্ষ্য হচ্ছে প্রযুক্তি তৈরি করা যার মাধ্যমে কম্পিউটার এবং মেশিন বুদ্ধিমান পদ্ধতিতে কাজ করতে সক্ষম হবে। বুদ্ধিমত্তার উৎপাদন বা তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণ সমস্যাগুলোকে কয়েকটি উপসমস্যায় বিভক্ত করা হয়েছে। যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা ক্ষমতা রয়েছে তা একটি বুদ্ধিমান সিস্টেম প্রদর্শন করবে বলে গবেষকরা আশা করেন। প্রাথমিক গবেষকরা অ্যালগরিদম বিকশিত করেছেন যা ধাপে ধাপে যুক্তিযুক্ত করে, যেমন করে মানুষ সমস্যা সমাধান বা যুক্তি খণ্ডনের জন্য সেগুলো ব্যবহার করে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে এআই গবেষণাকে উন্নত করা হয় মূলত অনিশ্চিত বা অসম্পূর্ণ তথ্য, সম্ভাবনা এবং অর্থনীতি থেকে ধারণা করার জন্য।

কঠিন সমস্যা সমাধানের জন্য অ্যালগরিদমগুলোর প্রচুর গণনীয় তথ্য প্রয়োজন। এছাড়া সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞতা সংযুক্ত করতে সক্ষম মেমরি বা কম্পিউটারের নির্দিষ্ট সময় প্রযোজন একটি নির্দিষ্ট আকারের সমস্যা সমাধানের জন্য। এ কারণে আরো দক্ষ সমস্যা-সমাধানের অ্যালগরিদম অনুসন্ধান অনেক বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। মানুষ ধাপে ধাপে করার পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে দ্রুত, স্বনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ব্যবহার করেছে এবং প্রাথমিক এআই গবেষণা সেই মডেলটিকে একটি রূপ দিতে পেরেছে। এআই ‘সাব-সিম্বোলিক’ সমস্যা সমাধান ব্যবহার করে অগ্রগতি অর্জন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অঙ্গবিন্যাসকারী এজেন্ট উচ্চতর যুক্তি থেকে দক্ষতার ওপর জোর দেয়, যা মস্তিষ্কের ভেতরকার কাঠামোর অনুকরণে গবেষণার প্রচেষ্টা করে। কারণ এআইয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানুষের ক্ষমতা অনুকরণ করা।

সহজ ভাষায় কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বলতে বোঝায়, মানুষের বুদ্ধি কৃত্রিম উপায়ে বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপস্থাপন করা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রথম বেস্নচলে পার্কে অ্যালান টুরিংয়ের কাজ শুরু করে। তার যুগান্তকারী কাজ কম্পিউটার বিজ্ঞানের কিছু মৌলিক বিষয় বিকাশে সহায়তা করেছে। ১৯৫০-এর দশকে, টুরিং মনে করেন যে, মেশিনগুলো নিজেদের জন্য চিন্তা করতে পারে কিনা। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে গবেষণায় একটি পুনরুত্থান চিহ্নিত করে, যা উন্নত অ্যালগরিদম, কম্পিউটিং শক্তি বৃদ্ধি এবং বড় ডেটার আবির্ভাবের করা। এরপর, ক্ষেত্রটি নিয়ে ক্রমাগণ গবেষণার পর ডিসেম্বর ২০১৫ সালে, কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (অএও) সব মানুষের জন্য উপকারী তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঙঢ়বহঅও প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেক গবেষণার পর সবশেষে, এচঞ-১ (২০১৮), এচঞ-২ (২০১৯), এচঞ-৩ (২০২০) এবং ঈযধঃএচঞ (২০২২-২০২৩) আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়। জিডিপি-৩ আবিষ্কারের পর থেকে ইন্টারনেট জগতে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন আসে। যা পূর্বে কোনো দিন এমনভাবে দেখা যায়নি। ২০২০ সালে এআই ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল ২৫০ মিলিয়ন, বর্তমানে তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫০ মিলিয়ন। এই বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী তাদের প্রয়োজনীয় কাজ অতি সূক্ষ্ণভাবে অল্প সময় এআই মাধ্যমে সম্পূর্ণ করতে পারছে। বর্তমানে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে বিমান চালানো পর্যন্ত প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে কৃষি যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে খরচ কমানোর জন্য অটোমেটেড সিস্টেম আবিষ্কার করা হয়েছে। যেখানে এআইয়ের প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে।

বর্তমানে চাকরির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জটিল সমস্যায় পড়তে হয় না। যে কোনো ধরনের অ্যালগরিদম, ফ্লোচার্ট অথবা প্রমোশন লেটার, রিজাইন লেটার, ডাটা এনালাইসিসসহ সব ধরনের কাজ এআইয়ের মাধ্যমে করা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এখন লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে যেকোনো ছাত্রছাত্রী পড়াশোনার জন্য অল্প সময় যেকোনো ধরনের তথ্য চ্যাট জিপিটি ব্যবহার করে পেয়ে যাচ্ছে। যেকোনো ধরনের অ্যাপিস্নকেশন, সিভি লেখার জন্য আর দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারের দোকানে বসে থাকার প্রয়োজন নেই। এখন এক নিমিষে চ্যাট জিপিটির মাধ্যমে লেখা সম্ভব। বর্তমানে গবেষণা করার জন্য চ্যাট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আগে কল্পনাও করা যায়নি। এ ছাড়াও বিনোদনের ক্ষেত্রেও এখন ব্যবহৃত হচ্ছে এআই। বর্তমানে ছোটদের ছবি আঁকানোর ক্ষেত্রে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে এআই। আমরা যদি চিন্তা করি যে, একটি যন্ত্র মানবের কথা, যা কয়েক বছর আগেও চিন্তাভাবনার মধ্যেও ছিল না, কিন্তু বর্তমানে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক যন্ত্র এমনভাবে ডেভেলপমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে, যা হুবহু মানুষের মতো সব কাজই করতে পারে। যা বিজ্ঞানের জগতে এক অনন্য আবিষ্কার। ধরুন, আপনি একটি আবহাওয়া অফিসে চাকরি করেন। আপনার আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রদানের জন্য পূর্বের বিভিন্ন ধরনের ডাটা এনালাইসিস করা প্রয়োজন। তাহলে আপনি এখন কি করবেন? আপনাকে অবশ্যই গবেষণাকৃত ডাটা বিভিন্ন ওয়েবসাইট অথবা আপনার স্স্নাইড অথবা বিভিন্ন কাগজপত্র থেকে খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু এই কাজ এআইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে এক নিমিষেই করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে গবেষণা করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান করা সম্ভব। আবার ধরুন, আপনি একজন চাকরিজীবী। অফিসে যাতায়াতের জন্য আপনার গাড়ি প্রয়োজন, কিন্তু আপনি গাড়ি চালাতে পারেন না। তাহলে সমাধান কি, আপনি কি ড্রাইভার নিয়োগ দিবেন? বর্তমানে এই সমস্যার সমাধানও এআই দিয়ে করা সম্ভব। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এমন সব গাড়ি আবিষ্কার করা হয়েছে, যেখানে চালকের কোনো প্রয়োজন নেই। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে চালকবিহীন গাড়ি চালানো সম্ভব। আবার বিভিন্ন কারণে আপনি বাসার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আপনার বাসায় যন্ত্রপাতি অনেক সময় বন্ধ না করে আপনি অফিসে চলে যান। যার ফলে অফিস থেকে আসার পর ওই যন্ত্রপাতি বন্ধ করতে হয়। যা বাসার জন্য বিপজ্জনক। বর্তমানে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এআই এর কল্যাণে বর্তমানে এমন সব যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হয়েছে, যা অফিসে বসে ঘরে কি হচ্ছে, কোন যন্ত্র চলছে, কোনটা বন্ধ আছে, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এআই ব্যবহারে রয়েছে নানাবিদ সুবিধা। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে তৈরি হচ্ছে আসক্তি। যার ফলে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে তথ্যের নিরাপত্তা। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোনো মুহূর্তে অ্যালগরিদম, ফ্লোচার, কোডিং করা সম্ভব। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া সফটওয়্যার ব্যবহার করে গোপনীয় তত্ত্ব হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। আবার অতিরিক্ত এর ব্যবহারে ফলে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। আমরা জানি, একজন মানুষের মাথায় লাখ লাখ কোষ থাকে, কিন্তু যদি আমরা কোষগুলো ব্যবহার না করি, তাহলে ব্রেন অকেজো হয়ে যায়। যার ফলে মানুষ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। ভালো-মন্দ কিছু বুঝতে পারে না। আবার অতিরিক্ত এর ব্যবহারের ফলে বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ চাকরিচ্যুত হচ্ছে। কারণ, মানুষ যে কাজ করতে কয়েক ঘন্টা লাগে, এআই সেই কাজ কয়েক মিনিটের মধ্যেই করে দিচ্ছে। যার ফলে বর্তমানে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত জনগণ ছাড়া সবাই চাকরি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে তৈরি হচ্ছে বেকারত্ব। যা দেশের জন্য অভিশাপ ডেকে আনতে পারে।

সর্বোপরি এআই ব্যবহারে রয়েছে কিছু সফল দিক আবার রয়েছে কিছু কুফল দিক। তাই, যেসব ক্ষেত্রে এআই দ্রম্নতগতিতে কাজ করতে সম্ভব, শুধুমাত্র সেসব ক্ষেত্রে এর ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত। আর যেগুলোতে ব্যবহার করলে আমাদের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক প্রত্যেকটি অঙ্গনে ক্ষতির কারণ হতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে পরিত্যাগ করাই ভালো। সর্বোপরি বলতে চাই- যন্ত্রমানব যাই বলুক না কেন, প্রকৃত প্রস্তাবে পৃথিবীব্যাপী কর্মক্ষম মানুষগুলোকে অকর্মণ্য করে দেয়ার মধ্যে কোনো ভালো কিছু খুঁজে বেড়ানো বুদ্ধির পরিচায়ক নয় নিশ্চয়ই। অলস মস্তিষ্ক যেমন শয়তানের কারখানা, তেমনি কর্মহীন মানুষগুলো সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে, যা এই পৃথিবীকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে- এটি কারও কাম্য হতে পারে না। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অযাচিত প্রসার রোধকল্পে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পৃথিবীর বিবেকবান গবেষক, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী, সর্বোপরি বিশ্ব নেতৃবর্গকে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading