দেরিতে পোশাক নেবে ক্রেতারা, মূল্যছাড়ও লাগবে না: বিজিএমইএ
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০২৪, ১২:১০
কারখানা ও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দেরিতে তৈরি পোশাক পাঠানো হলেও ক্রেতারা নির্দিষ্ট মূল্য দিতে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি এসএম মান্নান কচি। সোমবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় সংগঠনের কার্যালয়ে ক্রেতা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
বৈঠকে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা, কারফিউ জারি এবং বন্ধ থাকার পরে শিল্প-কারখানা খোলা নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি ক্রেতাদের প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বৈঠক শেষে এসএম মান্নান কচি বলেন, গত ১৮ জুলাই থেকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তারা যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। তারা উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন, এখন নেট সচল হওয়ায় তারা যোগাযোগ করতে পারছেন।
তাদের কাছে পরিস্থিতি তুলে ধরে সার্বিক বিষয় অবহিত করা হলে তারা বলেছেন, বন্ধের কারণে তারা কোনো ক্রয়াদেশ বাতিল করবেন না। মূল্য ছাড়ও (ডিসকাউন্ট) চাইবেন না।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, শিল্প কারখানা চালু, শ্রমিকদের কাজে যোগদান ও পরিবহন ব্যবস্থা চালু হওয়ার বিষয়ে বৈঠকে ক্রেতাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। ক্রেতাদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবার চালু রাখার।
কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত বাড়াতে থাকলে গত ১৯ জুলাই মধ্যরাত থেকে কারফিউ জারি কেরা হয়। পরে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার।
চার দিন পর কারফিউ শিথিলের সময় বাড়তে শুরু করলে গত ২৪ জুলাই থেকে দেশে কলকারখানায় কাজ শুরু হয়। গত রোব, সোম ও মঙ্গলবারের জন্য কারফিউ শিথিলের সীমা বাড়িয়ে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করেছে সরকার।
বন্ধের চার দিনে পোশাক রপ্তানি খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১১ হাজার ৫০ কোটি টাকা দাবি করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শুধু উৎপাদন খাতে ক্ষতি হয়েছে সাত হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর বাইরে তিন হাজার কোটি টাকার মত ক্ষতি হয়েছে ওয়াশিংসহ লিংকেজ খাতের প্রতিষ্ঠানের।
ক্রেতারা পণ্য নিতে রাজি হওয়ার পরও এত ক্ষতি কীভাবে হল-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এসময় সাপ্লাই চেইন পুরোটা ভেঙে পড়েছিল, শ্রমিকরা মজুরি পাননি। ব্যাংক ঋণের সুদ তো পরে হলেও দিতে হবে। সব মিলিয়ে এ ক্ষতি হয়েছে।

আন্দোলন চলমান থাকলে ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার শঙ্কার কথা ক্রেতাগোষ্টী জানিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যবসা করছেন। দেশের রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানেন। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন, এখন নেই।
অতীতে হরতাল-ধর্মঘটের সময় তৈরি পোশাক খাত আওতামুক্ত থাকার তথ্য তুলে ধরে এসএম মান্নান কচি বলেন, আন্দোলনকারীদের অনুরোধ করবো ধর্মঘট, হরতালসহ যেকোনো সময়ে পোশাক খাতকে যেন আওতামুক্ত রাখা হয়। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলেছে, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নজিরবিহীন এই পরিস্থিতিতে পোশাক কারখানা ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ সবাই দুর্ভোগে পড়েছিল। কারখানাগুলোতে এখন শীতকালীন পোশাকের নতুন ক্রয়াদেশ ও দর নিয়ে আলাপ-আলোচনা করার সময়। এরকম একটি সময়ে নৈরাজ্যকর ঘটনা দেশের অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে।
এই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে ৫ দিন বন্ধের সময়ে কিছু উৎপাদন এবং রপ্তানি হারিয়েছি। আমাদের মার্কেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে কারখানাগুলো আর্থিকভাবে এবং সাপ্লাই চেইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা যখন টিকে থাকার জন্য চেষ্টা করছিলাম, সে সময় এরকম একটি পরিস্থিতি আমাদের শিল্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
অন্যদিকে বন্দর সেবা বন্ধ থাকাকালীন আমদানি-রপ্তানিতে বিলম্ব মাশুল ফি না নিতে ব্যবসায়ীদের গত কয়েক দিনের দাবিটি মেনে নিয়েছে সরকার। গত রোববার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
ইউডি/এসআই

