বিদেশি ঘাস চাষে ঝুঁকছেন খামারিরা

বিদেশি ঘাস চাষে ঝুঁকছেন খামারিরা

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০২৪, আপডেট ০১:০৫

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে গো-খাদ্যের সংকট কাটাতে ও কম খরচে বেশি লাভের আশায় বিদেশি ঘাস চাষে ঝুঁকছেন খামারিরা। মূলত গবাদি পশুর দানাদার খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় বিদেশি ঘাস চাষে ঝুঁকছেন তারা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, লাভজনক হওয়ায় উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নের গ্রামগুলো মিলিয়ে প্রায় ২ একর জায়গায় বিদেশি জাতের ঘাস চাষ করা হয়েছে। এসব ঘাসের মধ্যে আছে নেপিয়ার, লাল নেপিয়ার, পাকচং ১ ও জার্মান। খরচ কম হওয়ায় ঘাস চাষ বাড়ার সঙ্গে বাড়ি ও খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে গবাদি পশু পালনের সংখ্যাও বাড়েছে। আবার নিজের গবাদি পশুর খাদ্য চাহিদা মেটানোর পর তা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন খামারি কৃষকরা। এতে ঘাস চাষের সঙ্গে পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানও হয়েছে অনেকের।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের উৎসাহে এ উপজেলায় গবাদি পশুর খাদ্যের চাহিদা পূরণ ও দুধের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ঘাস চাষে আগ্রহী হয়েছেন খামারি ও কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে ঘাস চাষে খরচ হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রতি দেড় মাস পর পর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার ঘাস বিক্রি করা যায়।

সরেজমিনে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষেতে ফসলের পাশাপাশি সবুজ পাতার ঘাসের সমাহার। ঘাস চাষ করে লাভবান হওয়া ও কর্মসংস্থানের কথা আগে কেউ না ভাবলেও আজ তা বাস্তব বলে জানালেন চাষিরা।

মেছেরা গ্রামের মো. হানিফ মিয়া, পুমদি গ্রামের মো. কাঞ্চন মিয়া, গোবিন্দপুরের মো. সুজন মিয়া, চর জামাইলের রাজন মিয়াসহ চাষিরা জানান, খরচ কম হওয়ায় এবং তিন মাস পরপর বিক্রির সুযোগে স্বল্প পুঁজিতে অনেকেই নেপিয়াসহ বিদেশি ঘাসের চাষে নেমেছেন।

উপজেলার শাহেদল গ্রামের খামারি শিখা আক্তার জানান, পশুর অন্যান্য খাদ্যের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন জাতের বিদেশি ঘাস চাষ অত্যন্ত সহজ। ব্যয় ও পরিশ্রম দুটিই কম। নিজের খামারের পশুর খাবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিও করা যায়। একবার গাছ রোপণ করলে সেখান থেকেই কিছুদিন পরপর ঘাস পাওয়া যায়।

উপজেলার নেপিয়ার ঘাস চাষি নান্দানিয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক মিয়া বলেন, প্রথমে তিনি নিজের গবাদি পশুকে খাওয়ানোর জন্য ১০ কাঠা জমিতে ঘাস লাগান। নিজের গবাদি পশুকে খাওয়ানোর পরে অতিরিক্ত ঘাস বিক্রি শুরু করি। এতে আমার চাষের খরচ উঠে আসে। বিষয়টি আমার কাছে লাভজনক মনে হওয়ায় আমি নিজের জমিসহ লিজ নিয়ে ৫ বিঘা জমিতে নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষ করেছি। এ ঘাস বিক্রি করে আমি এখন অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছি। বর্তমানে নেপিয়ার ঘাস চাষ করে বিক্রয় করাকে পেশা হিসেবে নিয়েছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. উজ্জল হোসাইন জানান, খামারিদের মধ্যে নেপিয়ার, পাকচং ঘাস চাষে উৎসাহিত করছি। পাশাপাশি আগ্রহী খামারি ও কৃষকদের ঘাস চাষে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। গবাদি পশুর প্রধান খাদ্য হিসেবে অধিক ফলনশীল ঘাসের মধ্যে পাকচং ও নেপিয়ার উল্লেখযোগ্য। খাদ্যমান বেশি থাকায় গবাদি পশুর জন্য এ ঘাস বেশ উপাদেয় ও পুষ্টিকর।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading