মৌলভীবাজারে টানা বর্ষণে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০২৪, আপডেট ০৮:৩০
গত দুইদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে আবারও মৌলভীবাজারের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বন্যার শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২১ আগস্ট) ভোর রাতে জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় মুষলধারায় বৃষ্টিপাত হয়।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুদিন থেকে টানা বর্ষণ ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার মনুনদ, ধলই নদী ও জুড়ী নদীর পানিসহ কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, মঙ্গলবার (২০ আগস্ট ) সন্ধ্যা ৬টায় মনুনদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৬ সে.মিটার, মনুনদের রেলওয়ে ব্রীজে পানি ৪৩ সে.মিটার, ধলাই নদী রেলওয়ে ব্রিজে পানি ৩৪ সে.মিটার ও জুড়ী নদীতে ১৫৭ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে ১৭ সে.মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় মনু, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ তীররক্ষা ও বাঁধের ভাঙন মেরামতে কাজ শুরু হয়েছে। জেলার নদ নদীর পানি প্রবাহের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
এদিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকিব আহমেদ জানান, এখানকার কয়েকটি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।
স্থানীয়রা জানায়, কমলগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়ন থেকে রহিমপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত বেশ কিছু স্থানে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। নদীতে আরও পানি বৃদ্ধি পেলে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও জানান, আগেও নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়। ফলে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধের যেকোনো স্থান ভেঙ্গে যেতে পারে। পাশাপাশি আগের বাঁধগুলো এখনো কাজ হয়নি। যদি পানি বাড়তে থাকে তাহলে আগের বাঁধগুলোতে পানি ঢুকবে।
কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান বলেন, নদীতে পানি বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। কৃষি জমি সহ নিন্মাঞ্চল প্লাবিত আছে। সেসব এলাকার মানুষের সহযোগিতা করা হবে।
ইউডি/কেএস

