বিসিএসআইআর-এ যন্ত্রপাতি কেনায় হরিলুট, টেন্ডারে একই প্রতিষ্ঠান
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৪, আপডেট ১৯ :৫০
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আফতাব আলী শেখ ও তার দুই ঘনিষ্ট সহযোগীর বিরুদ্ধে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ টেন্ডার পরিচিত সাপ্লায়ারদের পাইয়ে দিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের নথি এসেছে দৈনিক উত্তর দক্ষিণের হাতে।
বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে গত ১৯ আগস্ট বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাবেক এই চেয়ারম্যান নিজেকে সব সময় সৎ দাবি করলেও আওয়ামী লীগের লোকজনদের বাইরে কাউকে কোন কাজ দিতেন না। যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করে তার অন্যতম সহযোগী ড. মো: আহসান হাবীব। কেনাকাটার মূল স্পেসিফিকেশন এবং বাজারমূল্য যাচাই ছাড়াই ল্যাব কেয়ার নামে একটি সাপ্লাই প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি কেনাতেন তিনি। কেনাকাটায় বাড়তি মূল্যে টেন্ডার করিয়ে পরে সাপ্লায়ারদের থেকে সেই অর্থ ফেরত নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করা হতো। ক্রয় কমিটির অন্য সদস্যরা আপত্তি জানালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক উচ্চপদস্হ কর্মকর্তার ভয় দেখাতেন আহসান হাবীব। লোপাট করা অর্থের একটি অংশ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই ব্যক্তির কাছে পাঠানো হতো বলে অভিযোগ করেছেন বিসিএসআইআর-এর একাধিক কর্মকর্তা।
ক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, গত দুই অর্থবছরেই যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় কোটি কোটি টাকার অনিয়ম করেছে আফতাব আলী শেখ সিন্ডিকেট। অলিগোনিওক্লিওটাইড সিনথেসাইজারের বর্তমান বাজার মূল্য ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা হলেও কেনা হয়েছে ২ কোটি ১৩.৪৬ লক্ষ টাকায়। এটোমিক অ্যাবসরবশন স্পেক্ট্রোফটোমিটারের বাজারমূল্য ৮৫ লক্ষ টাকা কিন্তু কেনা হয়েছে ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকায়। মাইক্রো এক্স-রে ডিফ্রাক্টোম্যাটরির বর্তমান বাজার মূল্য ৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা হলেও কেনা হচ্ছে ৫ কোটি ৮৯.৯৩ লক্ষ টাকায়। যা এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিসিএসআইআর-এর ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন প্রজেক্টের কেনাকাটাতেও রাজত্ব করেছেন মো: আহসান হাবীব। তবে সেখানে বিসিএসআইআর চেয়ারম্যানের আরেক সহযোগী মো: ইব্রাহীম মিয়ার নাম উঠে এসেছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রজেক্টগুলোর কেনাকাটা সামলাতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞানের এই সহকারী অধ্যাপক। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আহসান হাবীবকে ইতোমধ্যে বিসিএসআইআর ঢাকা গবেষণাগার থেকে রাজশাহীতে বদলি করা হলেও দেশের বাইরে আত্মগোপনে রয়েছেন ইব্রাহীম মিয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিএসআইআর-এর ক্রয় কমিটির এক সদস্য (সাবেক চেয়ারম্যানের মেয়াদে অবসরে যাওয়া) দৈনিক উত্তর দক্ষিণকে বলেন, ড. মো. আফতাব আলী আফতাব আলী শেখ নিয়োগ পাওয়ার পর পরিচালক পদে প্রমোশন বন্ধ, বিজ্ঞানীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, বদলির হুমকিসহ বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম করে গেছেন। যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় তিনি নিজে সামনে না থেকে আহসান হাবীব ও ইব্রাহীম মিয়াকে দিয়ে সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। আহসান হাবীবের নিজ এলাকার সাপ্লাই প্রতিষ্ঠান ল্যাব কেয়ার বেশিরভাগ টেন্ডার পেতো। তাদের সরবরাহ করা কোটি কোটি টাকার মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্বও কোনদিন দেখা যায়নি।
মো: আহসান হাবীবের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মুঠোফোন বন্ধ করেন তিনি। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিসিএসআইআর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আফতাব আলী শেখের মুঠোফোন খোলা থাকলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ইউডি/এআর

