সাতক্ষীরায় মৎস্য ও কৃষিতে ক্ষতি ৬১০ কোটি টাকা
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১০:০০
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে অতি বৃষ্টিতে চলতি সেপ্টেম্বরে সাতক্ষীরায় রোপা আমন, আউশ ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। একই সঙ্গে ভেসে গেছে পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ছয় হাজারের বেশি মাছের ঘের ও দুই হাজার পুকুর। এতে জেলায় মৎস্য ও কৃষি খাতে প্রায় ৬১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় ও মৎস্য অধিদপ্তর।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, জেলার মোট পাঁচ হাজার ২৩০ হেক্টর জমির মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে অধিকাংশ মাছ, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকা। এছাড়া অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে চার কোটি টাকার।
অপরদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্যে-অতি বৃষ্টির কারণে জেলার পাঁচ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৪৯ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক মূল্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৩৫০ জন। পানি কমার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পুনরায় নিরুপন করা হবে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারী বর্ষণের কারণে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সদর উপজেলার বিনেরপোতা এলাকার বেতনা নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় ৪০টি গ্রাম। চারদিন পর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটিঁ স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করে। তবে ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংস্কারকৃত বাঁধ আবারও ভেঙে যায়। ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্তও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি সংস্কার করতে পারেনি।
বাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার বিনেরপোতা, খেজুরডাঙ্গা, গোপীনাথপুর ও তালা উপজেলার আহসাননগর, হরিণখোলা, গোয়ালপোতা, গাছা, দক্ষিণ নগরঘাটা, হাজরাতলা, পালপাড়া, গাবতলা, দোলুয়া, নগরঘাটা, রথখোলা, কাপাসডাঙ্গা, নিমতলাসহ কমপক্ষে ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়া ভারী বৃষ্টির কারণে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার ঘুটেরডাঙ্গী, রামচন্দ্রপুর, লবণগোলা, পাথরঘাটা, দামারপোতা, জিয়ালা, ধুলিহর, বালুইগাছ, ফিংড়ি, ফয়জুল্লাহপুর, দরবেশতিয়া, কোমরপুর, তেঁতুলডাঙ্গী, মাছখোলা, শ্যালেসহ ৩০টি গ্রাম ও পৌর এলাকার অর্ধেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ২০-২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ওই এলাকাসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকার মাছ ও কাঁকড়ার ঘের তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে পুকুর, আমন ধান ও শাক-সবজির ক্ষেত।
বিনেরপোতা এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, আমার দুটি ঘের রয়েছে ৮০ বিঘা জমির ওপর। সেখানে সাদামাছ চাষ করি। গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সবগুলো ঘের তলিয়ে রয়েছে। এতে সবমিলিয়ে আমার প্রায় ৭০লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের কৃষক মো. আল মামুন বলেন, এবছর ১৫ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছিলাম। এরমধ্যে ৮ বিঘা জমি তলিয়ে গেছে। গ্রামের কয়েকশ বিঘা ধান এখনও পানির নিচে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিতে সৃষ্টি জলবদ্ধতা এখনও নিরসন হয়নি। এজন্য সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা যায়নি।ফসলি জমি থেকে পানি নেমে গেলে কৃষকদের সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন করে শাকসবজি ও খাদ্যশস্য চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিসার মো. আনিছুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিনে অতিবৃষ্টির কারণে শ্যামনগর ও সদর উপজেলার বেতনা নদীর একটা অংশ ভেঙে যাওয়ায়। ফলে এর আশপাশের ঘেরগুলো একেবারে পানির সঙ্গে মিশে গেছে।
ইউডি/কেএস

