কন্যা শিশু বঞ্চনার শিকার হলে জাতিকে মাশুল দিতে হবে: ড. বদিউল আলম

কন্যা শিশু বঞ্চনার শিকার হলে জাতিকে মাশুল দিতে হবে: ড. বদিউল আলম

সাদিত কবির। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর), ২০২৪, আপডেট ১৫:০৫

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কন্যা শিশু যদি বঞ্চনার শিকার হয়, তাহলে পুরো জাতিকে এর মাশুল দিতে হবে। আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রে ভালো করলেও পুষ্টির ক্ষেত্রে ভালো করতে পারিনি। কারণ মূলত হচ্ছে কন্যা শিশুদের প্রতি অবহেলা ও তাদের প্রতি যথাযথ বিনিয়োগ না করা। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জন্মের পর থেকেই ছেলে শিশুদের তুলনায় কন্যা শিশুদের অপুষ্টির হার সব থেকে বেশি। এমনকি অতীতে কন্যা শিশুরাই স্কুলে যাওয়া থেকে বঞ্চিত হতো। এখন অনেক ক্ষেত্রে স্কুলে তাদের নাম লেখা থাকে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে তারা স্কুলে যায় না। বিদ্যা অর্জন থেকে তারা বঞ্চিত হয়। পাশাপাশি কন্যা শিশুদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। তাদের যাদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়, তাদেরও বয়স এই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাদের তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে তারা অল্প বয়সে গর্ভবতী হয়ে যায়। যে কারণে মা ও শিশু দুজনই অপুষ্টিতে ভোগে।

সমাজ বিশ্লেষকগণের মতে, আমাদের দেশের কন্যারা বর্তমান সমাজে নিরাপদ নয়। সমাজের বিভিন্ন পদে চলতে গেলে নানা ধরনের বিপদে পড়ে হয় তাদের। এমনকী শিশুকন্যারা এখন নিজের কাছের মানুষদের কাছেও নিরাপদ নয়। তাই পরিবারের অভিভাবকদের উচিৎ শিশুকন্যাদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া। আমাদের দেশে ছেলেদের থেকে কন্যাসন্তানরা সব কিছুতে অবহেলিত। কোনো কোনো পরিবারে মানুষ মনে করে ছেলেরা আমাদের দেখবে, মেয়েরা তো আর দেখবেনা। তাকে বিয়ে দিয়ে অন্যের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে তাদের এতো পড়াশোনা করিয়ে কী হবে। আবার বাইরে গিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয়। তো সবদিক থেকেই দেখা যায় আমাদের দেশের কন্যা-শিশুরা অবহেলিত ও নির্যাতিত।

আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় ১৩৩ জন: সৈয়দা আহসানা জামান বলেন, গত ৮ মাসে ৮১ কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এর অন্যতম কারণ ছিল পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আগে থেকে পারিবারিক শত্রুতার জের, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন। পাশাপাশি ২০ কন্যা শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কেন মৃত্যু হয়েছে, এ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আত্মহত্যার তথ্য তুলে ধরে এ্যানী বলেন, কন্যা শিশুরাই শুধু নয়, কোনো একজন শিশু আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে এটি মোটেও কাম্য নয়। এর মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রের ওপরও দায়ভার এসে পড়ে। কিন্তু গত ৮ মাসে ১৩৩ কন্যা শিশু আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এর পেছনে মূলত যে কারণগুলো কাজ করেছে তা হলো- হতাশা, পারিবারিক মতানৈক্য বা দ্বন্দ্ব, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ, যা নির্ভয়ে প্রকাশ করার মতো কোনো আশ্রয়স্থল না থাকা।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading