জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ সমন্বয়ক, সহসমন্বয়কের পদত্যাগ
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর), ২০২৪, আপডেট ২৩:৫৫
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১৭ সমন্বয়ক ও সহ-সমন্বয়ক পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সমন্বয়কের বিতর্কিত কার্যক্রম, ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে নিজ স্বার্থ হাসিলের প্রচেষ্টা, সরকারি দলের মতো আচরণ ও গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট-বিরুদ্ধ কাজের অভিযোগের কথা তুলে ধরেছেন।
পদত্যাগ করা সমন্বয়কেরা হলেন- আব্দুর রশিদ জিতু, রুদ্র মুহাম্মদ সফিউল্লাহ, হাসিব জামান, জাহিদুল ইসলাম ইমন, জাহিদুল ইসলাম, ফাহমিদা ফাইজা, রোকাইয়া জান্নাত ঝলক, মিশু খাতুন, রাফিদ হাসান রাজন, হাসানুর রহমান সুমন, আব্দুল হাই স্বপন, নাসিম আল তারিক ও ঐন্দ্রিলা মজুমদার।
সহসমন্বয়কেরা হলেন জিয়া উদ্দিন, তানজিম আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তী সময় ৯ দফার ওপর ভিত্তি করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্যাসিবাদের পতনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তবে ৯ দফায় অন্তর্ভুক্ত দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের দাবিগুলোতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একপ্রকার নিশ্চুপ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনের মতো ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, এ ছাড়া বাংলাদেশের সর্বস্তরের আন্দোলনকারীদের একই ব্যানারে অন্তর্ভুক্ত করতে ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আমরা মনে করি, এই ব্যানার এখনো বজায় থাকা আন্দোলনে সর্ব পেশার, সর্বস্তরের ও সর্ব দলের মানুষের অংশগ্রহণের ইতিহাসকে ম্লান করে দিচ্ছে। তাই এই ব্যানার যত দ্রুত সম্ভব বিলুপ্ত করে দিতে হবে।
ইউডি/এবি

