পুঁজিবাজারে ধস: চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিএসইসি ভবন ঘেরাও, শনিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম

পুঁজিবাজারে ধস: চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিএসইসি ভবন ঘেরাও, শনিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৭:২০

বিনিয়োগকারীরা এক দফা দাবিতে অনড়

আরেফিন বাঁধন: পুঁজিবাজারে অব্যাহত পতনের কারণে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিতে মতিঝিল থেকে লংমার্চ করে বিএসইসি ভবন ঘেরাও করে আন্দোলনরত বিনিয়োগকারীরা। খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে পদত্যাগের জন্য আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই আল্টিমেটাম দিয়ে বিএসইসি ভবন থেকে চলে যান বিনিয়োগকারীরা। বৃহস্পতিবার সকালে মতিঝিল ডিএসই’র পুরাতন ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় বিনিয়োগকারীদের এই কর্মসূচি। ঢাকা পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি রুহুল কবিরের সাথে এক আলোচনার পর তারা বিএসইসি চেয়ারম্যানকে শনিবারের মধ্যে পদত্যাগের সময় দেন। এর মধ্যে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ না করলে আগামী রবিবার সকালে বিএসইসি ভবনের মূল ফটকে তালা দেয়ার কথা জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ সব কর্মকর্তা।

এর আগে এদিন সকালে বিনিয়োগকারীরা মতিঝিল থেকে লংমার্চ করে আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা বিএসইসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারী বিনিয়োগকারীরা দাবি আদায়ে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় বিএসইসি চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা ভবনের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিকিউরিটিজ ভবনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সন্ধ্যার পর পুলিশের সাথে আলোচনার পর বিএসইসি চেয়ারম্যানকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে বিনিয়োগকারীরা সিকিউরিটিজ ভবন ত্যাগ করেন।

এদিকে, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বিনিয়োগকারীকে বৈঠকের আহŸান জানিয়েছিলেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেন বিনিয়োগকারীরা। তারা জানান, তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং মূলধন হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই বিএসইসির চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে হবে।

‘পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে’: এর আগে গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সামনেও বিভিন্ন সংগঠনের বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা একত্রিত হয়ে এই ‘লংমার্চ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ এবং পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে লংমার্চ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর আগে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মতিঝিলে ডিএসই’র পুরাতন ভবনের সামনে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের বিনিয়োগকারীরা। এ সময় বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পাশাপাশি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ গঠন করার দাবিও জানানো হয়।
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের অর্থ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, পুঁজিবাজারের ধারাবাহিক দর পতন অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের একটাই দাবি, বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ। একইসঙ্গে আমরা সরকারের কাছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ বাদ দিয়ে একটি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ গঠনের দাবি জানাচ্ছি। আর সদস্যভুক্ত মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার দাবি জানাচ্ছি।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ

বিনিয়োগকারীদের দাবি অর্থ উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরার আশ্বাস

শহীদ রানা: আন্দোলনকারী বিনিয়োগকারীদের দাবি প্রয়োজনে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি রুহুল কবির। রুহুল কবির বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার শান্ত হোন। আপনাদের দাবিগুলো প্রয়োজন হলে অর্থ উদেষ্টার কাছে তুলে ধরা হবে। এছাড়া আপনাদের সাথেও অর্থ উপদেষ্টার আলোচনার চেষ্টা করা হবে।

ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পথে বসে গেছি: বিনিয়োগকারীরা তাদের এক দফা দাবি বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামলী-আগারগাঁও সড়ক আটক দেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্ম তৎপরতায় বিনিয়োগকারীরা সড়ক ছেড়ে পাশে অবস্থান করেন। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বিনিয়োগকারীরা মূল সড়ক থেকে পাশে অবস্থান নেয়। বিনিয়োগকারীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। তবে বিনিয়োগকারীদের একদফা দাবি বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ। তারা বলেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। বিনিয়োগকারীরা বলেন, মার্কেট বর্তমানে যে পর্যায়ে নিয়েছে সে পর্যায় থেকে মার্কেটকে উত্তোলন করতে হবে। তারা বলেন, কোন কোম্পানি যদি ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হতো সেই কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে চলে যেত। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান কিছু কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে নিয়ে মার্কেটকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন আমাদের মূল দাবি এই অপদার্থ, অথর্ব, অজ্ঞানী ও বিবেকহীন এই মাকসুদের পদত্যাগ চাই। এই লোকটা কোন কথা যানে না, সে যেনতেনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। এই লোকটার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আমরা পথে বসে গেছি। তারা আরো বলেন, এই অপদার্থ মাকসুদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফিরে যাবো না। এ সময় বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। তারা বলেন, তুমি কে আমি কে? বিনিয়োগকারী, বিনিয়োগকারী। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিল থেকে হেঁটে শত শত বিনিয়োগকারী বিএসইসির উদ্দেশে ‘লংমার্চ’ কর্মসূচি শুরু করেন।

এদিন সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মতিঝিলে জড়ো হন বিনিয়োগকারীরা। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি অনুক‚লে না থাকায় লংমার্চ কর্মসূচির সময়সূচি কিছুটা পরিবর্তন আনা হয় বলে জানান বিনিয়োগকারীরা। লংমার্চ কর্মসূচির আগে দ্বিতীয় দিনের মতো মতিঝিলে ডিএসইর পুরাতন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন বিনিয়োগকারীরা। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, না বুঝেই বিএসইসি চেয়ারম্যান সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। যার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ করা খুবই জরুরি।

পুঁজিবাজার রক্ষা কমিটি’র একগুচ্ছ প্রস্তাব

পারভেজ আহমেদ: গত ২৮ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজার রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে একগুচ্ছ দাবি জানান বিনিয়োগকারীরা। এ সময় তারা বলেন, পুঁজিবাজার রিফরমেশন এর আগেই যেটা করতে হবে তা হল-এটা ঘোষণা করতে হবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানিই ডিলিস্টেড করা হবে না। হবে না, হবে না, হবে না।’ কোন কোম্পানি যদি বিনিয়োগকারীদের সমস্ত বিনিয়োগ যথাযথভাবে প্রদান করে তালিকাচ‚ত হতে চায় তাহলে সেটা করা যেতে পারে। এর বাহিরে কোনভাবেই ডিলিস্টেড করা যাবে না। ডিলিস্টিং এ একমাত্র সাধারন বিনিয়োগ কারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিঃস্ব হয়। পুজিবাজার রক্ষা কমিটির সদস্যগণের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-আশরাফুল ইসলাম, রাসেল আহাম্মেদ, মামুনুর রশিদ, শরিফ, সবুজ, ফাহাদ ইসলাম, মিজানুর রহমানসহ অনেকে।
তারা আরও বরেণ, বাইব্যাক আইন চালু করুন। তাহলে ইস্যু ম্যানেজার ও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গা ছাড়া ভাব দেখাতে পারবে না। মার্কেটের প্রতি তাদের একটা রেসপন্সিবিলিটি কাজ করবে যা সাধারন বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব না হতে ভ‚মিকা রাখবে। বিনিয়োগেও সাধারণ বিনিয়োকারীর আস্থা থাকবে।

মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে মার্কেট সাপোর্টের জন্য সময়োপযোগী করুন দক্ষ ফান্ড ম্যানেজার নিয়োগ করুন। জুয়ারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অতি উচ্চ মূল্যে যাতে কোন শেয়ার কিনে পার্কিং করতে না পারে সে বিষয়ে পরিপত্র জারি করুন। মিউচুয়াল ফান্ড সঠিকভাবে কাজ না করলে কোন দেশে কোন পুঁজিবাজারই কখনো গতিশীলতা পায় না। আমাদের মিউচুয়াল ফান্ডগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে যা মার্কেটের জন্য একটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ওঈই কোন শেয়ার ১০% বেড়ে যাওয়ার পরে বাই করতে পারবে না। জুয়ারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অতি উচ্চ মূল্যে কোন শেয়ার পার্কিং করতে পারবে না। এখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং প্রত্যেকটা লেনদেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মার্কেট সাপোর্টিং ফান্ড যেন কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। মার্কেট যখন একটু বাড়ার পরে কারেকশনে গেলে ১০% এর নিচে কারেকশন হলে ইনস্টিটিউশন মিউচুয়াল ফান্ড আইসিবি এদের প্রতিদিনের সেল ভ্যালু বাই ভ্যালু’র উপরে যাবে না এটা আইন করতে হবে কারণ মার্কেট যখন পড়তে থাকে এরা আরো বেশি সেল প্রেশার ক্রিয়েট করে মার্কেটকে ধ্বংস করে দেয়। মার্জিন লোন নিয়ে যারা ব্যবসা করেন তারা ভড়ৎপবফ সেলে পড়ে যান দিনশেষে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফেরেন। বারবার কোন শেয়ারের তদন্তের চেয়ে সফটওয়্যারকে ডেভলপ করতে হবে যাতে কেউ সিরিয়াল টেড করতে না পারে সিরিয়াল ট্রেড ধরা পড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই কোড ১০কর্ম দিবসের জন্য ফ্রিজ হয়ে যাবে এভাবে পরপর দুইবার যদি ওই কোড ফ্রিজ হয় তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই কোড ছয় মাসের জন্য ফ্রিজ হয়ে যাবে শেয়ার কেনাবেচা করা যাবে না। প্রচলিত শিশুতোষ তনন্ত তদন্ত খেলা বন্ধ করতে হবে। এই ধরনের তদন্ত কখনোই মার্কেটের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে নাই সব সময় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিএসইসি’র শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল : ফের মুখপাত্র হলেন রেজাউল করিম

মোহাম্মদ রেজাউল করিম

আসাদ এফ রহমান: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) বিএসইসির এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদল করা হয়। প্রজ্ঞাপনে নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে নতুন করে আবার মুখপাত্রের দায়িত্বের পাশাপাশি ডেরিভেটিভস বিভাগ, করপোরেট ফাইন্যান্স বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে তিনি ডেরিভেটিভস বিভাগ এবং ইন্টারনাল নিরীক্ষা এ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে ইস্যুয়ার কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের দায়িত্ব। আগে তিনি বাজার মধ্যস্থতাকারী বিভাগ ও ইস্যুয়ার কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল ইসলামকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বের সাথে আর এ্যান্ড ডি বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী পরিচালক হাসান মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের। আগে তিনি ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলমকে বিএসইসির করপোরেট ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে সরিয়ে বাজার মধ্যস্থতাকারী বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে আগের মতোই আইন বিভাগের দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে। কামরুল আনাম খানকে হিসাব বিভাগের দায়িত্বের পাশাপাশি ইন্টারনাল নিরীক্ষা বিভাগ এবং কমপ্লায়েন্স বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী পরিচালক শফিউল আজমকে মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ও ইনভেস্টিগেশন বিভাগের দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে। রিপন কুমার দেবনাথকে প্রশাসন ও ফাইন্যান্স বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে এনফোর্সমেন্ট বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মীর মোশাররফ হোসেনকে কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা বিনিয়োগ শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মীর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বিভাগ থেকে সরিয়ে এডমিন এ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিচালক প্রদীপ কুমার বসাককে করপোরেট ফ্যাইন্যান্স বিভাগ, ক্যাপিটাল ইস্যু বিভাগ, ও এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

টালমাটাল পুঁজিবাজারে লেনদেন তলানিতে

আশিকুর রহমান: নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র নানা পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভের দিন সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কিছুটা বাড়লেও লেনদেন তলানিতে নেমেছে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার দিনভর হাতবদল হয়েছে ৩১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার, যা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দুই মাসে সর্বনিম্ন। গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এর আগে সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল গত ১ অক্টোবর ৩৮৯ কোটি ৪৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

টানা দরপতনের মধ্যে এদিন বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ দাবিতে বিএসইসি ঘেরাও করে বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে পুঁজিবাজারে তাদের অংশগ্রহণ ছিল আরও কম। সার্বিক সূচক এদিন ৮ পয়েন্ট বাড়ার পর বাজার মূলধন বেড়েছে ৬৬ কোটি টাকা। আগেরদিন আট হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধন কমেছিল। বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য খাতের অধিকাংশ শেয়ার ইতিবাচক ধারার কারণে সূচক ছিল কিছুটা ইতিবাচক।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে-ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট, শরিয়াভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত শরিয়া সূচক এক দশমিক ৫৬ পয়েন্ট এবং ‘বøæ’ চিপ খ্যাত কোম্পানিগুলোকে নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে দুই দশমিক ৮ পয়েন্ট।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ০৪ অক্টোবর ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা

প্রকৌশল খাতে প্রায় ৭৪ শতাংশ, খাদ্য খাতে প্রায় ৭২ শতাংশ, বস্ত্র খাতে প্রায় ৭০ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাতে প্রায় ৫৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। আইসিবি, ওয়ালটন, মিডল্যান্ড ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, রেনাটা, বেক্সিমকো ফার্মা, রেকিট বেনকিনজার, এনবিএল, ব্যাংক ব্যাংক ও ওরিয়ন ফার্মার শেয়ারের দর বৃদ্ধি সূচকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে। সব মিলিয়ে দর বেড়েছে ২০৯টি কোম্পানির, কমেছে ১৩৮টির। আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে ৫০টি কোম্পানির শেয়ার।
খাতওয়ারী লেনদেনে যথারীতি সবাইকে ছাড়িয়ে ব্যাংক। এই খাতের ৮২ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল করেছেন বিনিয়োগকারীরা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনে ২৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ১৪টির দর বেড়ে, ১৫টির হারিয়ে এবং ৭টি কোম্পানি আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে।
এরপরই ১৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ অবদান রাখে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলো। এই খাতের ২০টির দর বেড়ে, ১০টির কমে এবং ৪টি আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে।

লেনদেনের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতে হাতবদল হয়েছে ২২ কোটি টাকার শেয়ার। এই খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪০টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১টি, ৭টি আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, একক কোম্পানি হিসেবে শেয়ার দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে উঠে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস। শেয়ারটির দর একদিনে বেড়েছে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ। এদিন ডিএসইর পরিদর্শক দল কোম্পানিটির কারখানা ঘুরে এসে সেটি বন্ধ দেখার তথ্য বিনিয়োগকারীদেরকে জানিয়েছে।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading