খাদ্য ও জীবিকা সহায়তায় কর্মসূচি চালু করার কর্মপরিকল্পনা গ্ৰহন: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৯:২০
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় খাদ্য ও জীবিকা সহায়তায় কর্মসূচি চালু করার কর্মপরিকল্পনা গ্ৰহন করা হয়েছে। এ কর্মসূচিটি প্রাথমিকভাবে দেশের ৭৫টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। যেখানে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং বিভিন্ন ভাবে অপুষ্টির শিকার।
তিনি বলেন কর্মসূচিটির আওতায় প্রতিটি পরিবারের জন্য মাসিক ১০০০ টাকা খাদ্য এবং ২০০০ টাকা জীবিকা সহায়তায় জন্য প্রধান করা হবে। তিন বছর মেয়াদে এই কর্মসূচি ৭৫ টি উপজেলার ৭৫ হাজার পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের তিন বছরে ব্যয় হবে ৮১৯ কোটি টাকা।
তিনি আজ মহাখালীর ব্রাক সেন্টারে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে আয়োজিত “বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং পুনর্বাসন প্রচেষ্টায় করনীয় বিষয়ক বহুপাক্ষিক আলোচনা” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বন্যাসহ সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থা , এনজিও, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্বোচ্ছাসেবকসহ সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। চলতি বছর আগস্টের বন্যায় উপদ্রুত এলাকার মানুষের সহায়তায় তরুণ শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় জনসাধারণ এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে সাড়া দিয়েছে, তা ছিল অভাবনীয়। বর্তমানে ফেনী, কুমিল্লা ও নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা দূর করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যতো দ্রুত সম্ভব এই জলাবদ্ধতা দূর করে সেখানে জীবন জীবিকা ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সঞ্চালক ব্র্যাকের চেয়ারপার্সন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো সামনে এসেছে, তার মধ্যে যোগযোগ ব্যবস্থা, কৃষি খাত, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকা উল্লেখযোগ্য।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামরুল হাসান এনডিসি বলেন, বন্যার শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের একটি রূপরেখা দিয়েছিলেন এবং এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল সেক্টরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। সেই কমিটি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। সেই কমিটির মাধ্যমে পুনর্বাসনের কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্। ব্র্যাকের আরবান ডেভেলপমেন্ট এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মোঃ লিয়াকত আলী অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আহমেদ উল্লাহ এফসিএমএ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ঢাকা বিভাগ) তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ শরীফ হোসেন, সড়ক ও মহাসড়ক অধিদপ্তরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ জিকরুল হাসান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এহতেশামুল রাসেল খান, ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স-এর উর্ধ্বতন পরিচালক অরিঞ্জয় ধর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া বন্যা উপদ্রুত এলাকার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ এবং স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
ইউডি/এআর

