প্রশাসক বসার আগেই ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ৫০ কোটি টাকা সরিয়েছে এস আলম
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর), ২০২৪, আপডেট ২৩:৪৫
শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ৫০ কোটি টাকার আমানত সরিয়ে নিয়েছেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
ওই টাকা অন্যদের নামে এবং অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা গণমাধ্যমকে বলেন, এস আলম ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয় ৫ অগাস্টের পর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন বলছে, ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে টাকা সরানোর ক্ষেত্রে এস আলম গ্রুপের মূল সহযোগী ছিল ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ইউনিয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ বি এম মোকাম্মেল হক চৌধুরী এবং বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জড়িত ছিলেন।
গত ২৭ অগাস্ট এ ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন থেকেই ব্যাংকের এমডি ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
এস আলম গ্রুপ যখন ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে নেয়, তখন ব্যাংকটি তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। ২৭ অগাস্ট পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর সেখান থেকে তাদের টাকা উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ইউনিয়ন ব্যাংক যে পরিমাণ টাকা ঋণ দিয়েছে, তার বেশিরভাগ গেছে এস আলম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানির পকেটে। সেসব টাকা আর ব্যাংকে ফেরত আসেনি।
ইউনিয়ন ব্যাংকে এস আলম গ্রুপ ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের ঋণের স্থিতি ১৭ হাজার ২২৯ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৬২ শতাংশ। ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া এসব ঋণের কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল দেখতে পেয়েছে, ইউনিয়ন ব্যাংকে যাদের চাকরি দেওয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশই এস আলমের নিয়োগ দেওয়া লোকবল।
ব্যাংকটির জনবলের ৭৬ শতাংশ কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ পাওয়া, যাদের বাড়ি সাইফুল আলমের মত চট্টগ্রামে। ফলে পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হলেও তাদের সহযোগীদের মাধ্যমেই ব্যাংকটি পরিচালিত হচ্ছে।
২০১৩ সালে ইউনিয়ন ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়। তখন থেকেই এস আলম সংশ্লিষ্টদের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
ইউডি/এবি

